সিলেটের ‘ছক্কা ছয়ফুর’: প্রেসিডেন্ট হতে চাওয়া এক বাবুর্চি

আশির দশকের শুরু!

সামনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তখন দেশে সরাসরি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন। তো সব রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নিরাপত্তার জন্যই সঙ্গে পুলিশ দেওয়া হলো। সিলেটের একজন প্রার্থী, তাঁর নিরাপত্তার জন্য দেওয়া পুলিশ প্রত্যাখ্যান করে বললেন, ‘দুটো হাতি পোষার সাধ্য আমার নেই!’

তবু সরকারি চাপাচাপিতে তাকে নূন্যতম দু’জন পুলিশ সঙ্গে নিতে হলো। সে সময় দেখা যেত রিক্সায় দুইপাশে দুই কনেস্টবল আর আর সে প্রার্থী রিক্সার মাঝখানে উঁচু হয়ে বসে কোথাও যাচ্ছেন। নির্বাচনে খারাপ করেননি কিন্তু সে প্রার্থী!
সেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ৬০-৬৫ জন প্রার্থীর মাঝে আট নম্বর হয়েছিলেন।

তারপর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি দেশের আট নম্বর প্রেসিডেন্ট। ইলেকশনের দিন বাকি সাতজন মারা গেলে আমি প্রেসিডেন্ট হতে পারতাম।’

অদ্ভুত এবং মজাদার সব নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল তাঁর। যেমন, দেশের কোনো রাস্তাঘাট পাকা করার দরকার নেই! রাস্তা তুলে দিয়ে সেখানে খাল করে ফেলতে হবে! নদীমাতৃক দেশে সেই খাল দিয়ে নৌকায় লোকজন চলাচল করবে!
খালের পানিতে সেচ হবে-সব সমস্যার সহজ সমাধান।

তিনি যদি কোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেন, তাহলে সিলেটের সুরমা নদীর উপরে বিশাল আকৃতির একটি দাঁড়িপাল্লা লটকানোর ওয়াদা করতেন।  পাল্লার পাশে একটা অফিস খুলে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন; যার কাজ হবে সিলেটে কোনো অফিসার নিয়োগ হলে প্রথমে তাকে দাঁড়িপাল্লায় তুলে ওজন করে অফিসে রেকর্ড রাখবেন। বছর ছয়মাস পরে তাকে আবারও পাল্লায় উঠানো হবে।

এতে যদি দেখা যায় তার ওজন বেড়েছে তাহলে নির্ঘাত বোঝা যাবে সিলেটের মানুষের কাছ থেকে ‘ঘুষ খাইয়া বডি বানাইছে’।

আর ঘুষখোর অফিসারের রক্ষা নাই। এমনি মজাদার সব ওয়াদা করতেন তিনি নির্বাচনী সভায়!

কে এই লোক, কেনই বা তিনি এমনটি করে থাকেন! আসুন পরিচিত হই তাঁর সাথে। তাঁর নাম ছয়ফুর রহমান। পেশায় ছিলেন বাবুর্চি।  খুব নামিদামি বাবুর্চি এমন নয়। সিলেটের সালুটিকর নামের একটি গ্রাম্য বাজারের পাশের ছাপড়া ঘরে থাকতেন ছয়ফুর বাবুর্চি।  দিনে আনি দিনে খাই অবস্থা!

তাঁর দ্বিতীয় পেশা ছিল ঠেলাগাড়ি চালনা। যখন বাবুর্চিগিরি করে আয় রোজগার হতো না তখন ঠেলাগাড়ি চালাতেন।  তাঁর তৃতীয় পেশা ছিল নৌকার মাঝি! সময়ে সময়ে সংসার চালানোর জন্য হাতে তুলে নিতেন নৌকার বৈঠা!

কিন্তু এই লোকটির ছিল অসম সাহস।  যেকোনো ইস্যুতে তিনি একেবারেই জনসম্পৃক্ত রাজনীতি করতেন। ধরুন, সালুটিকর থেকে শহরে আসার বাসভাড়া আটআনা বেড়ে গেছে। ছয়ফুর রহমান কোর্ট পয়েন্টে একটা মাইক বেঁধে নিয়ে ওইদিন বিকালে প্রতিবাদ সভা করবেনই করবেন।

নিজেকে আল্লার গোলাম মো. ছয়ফুর রহমান বলে পরিচয় দিতেন।  এমপি থেকে রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রপতি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান বা তারও নিচে নেমে ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়াই; তার এসব লীলাখেলায় জনগণের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হলেও তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুবক্তা।

বক্তা হিসেবে অসম্ভব রসিক লোক ছিলেন।  ছড়ার সুরে সুরে বক্তৃতা করবেন।  তারপর মূল ইস্যু নিয়ে অনেক রসিকতা করবেন; কিন্তু দাবি তাঁর ঠিকই থাকবে। তার বক্তৃতা শুনতে সাধারণ শ্রমজীবি মানুষের ভিড় হতো।

তো বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরেই তিনি একটুকরো কাপড় বের করে সামনে রাখতেন। তারপর সবাইকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বলতেন, আমি এই যে আপনাদের জন্য আন্দোলন করতেছি, আমার মাইকের খরচ দিবে কে? মাইকের খরচ দেন।
অদ্ভুত ব্যাপার হল, কোনোদিনই মাইকের খরচ উঠতে দেরি হয়েছে এমনটা হয়নি।

দুই টাকা, এক টাকা করে তার সামনের কাপড়টি ভরে উঠত।  তারপর যখন তিনশ টাকা হয়ে গেল তখন মাইকের খরচ উঠে গেছে; তিনি তার কাপড়টি বন্ধ করে দিতেন। অনেক সময় তাঁর লেখা বই বিক্রি করেও জনসভার খরচ তুলতেন।

অদ্ভুত কয়েকটি চটি সাইজের বই ছিল তাঁর। একটির নাম বাবুর্চি প্রেসিডেন্ট হতে চায়।  সেই বইটির পেছনে তার দাত-মুখ খিচানো একটা সাদাকালো ছবি, নিচে লেখা দুর্নীতিবাজদেরকে দেখলেই এরকম ভ্যাংচি দিতে হবে। এই হচ্ছেন ছয়ফুর, সিলেটের ছয়ফুর। সিলেটের মানুষজন তাঁকে আদর করে ভালবেসে ডাকতেন ‘ছক্কা ছয়ফুর’।

সুরমা নদীর উপর পাল্লা স্থাপনের মাধ্যমে ঘুষখোর ধরার অভিনব পদ্ধতির কথা তিনি সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে দাঁড়িয়ে প্রায়ই বক্তৃতা দিয়ে জনগণকে মাতিয়ে রাখতেন। কোর্ট পয়েন্টে তিনি বক্তৃতা করতেন টুলের উপর দাড়িয়ে গলায় মাইক ঝুলিয়ে। তিনি একটি দল ও গঠন করেছিলেন! তাঁর দলের নাম ছিল ইসলামি সমাজতান্ত্রিক দল। 

আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে যোগ না দিয়ে নতুন দল কেন করলেন, এই প্রশ্নের জবাবে ছক্কা ছয়ফুর বলেছিলেন, ‘দলই দুর্নীতির আখড়া। আমার দল অনেক বালা। চরিত্র নষ্ট করিয়া লাভ নাই। আমি অন্য দলে যোগ দিতাম কেনে? সুযোগ পাইলে আমি হাসিনা খালেদারে আমার দলে যোগ দেয়ার লাগি কইমু।’

সেই দলে কোনো সদস্য নেওয়া হতো না। এমনকি উনার স্ত্রীকেও সদস্য করেননি।

কারণ তিনি বলতেন, একের বেশি লোক হলেই দল দুইভাগ হয়ে যাবে। কথাটা সহজ হলেও কথাটার অর্থ কিন্তু সত্যই অন্যরকম!ছয়ফুর বেশ কয়েকবার নির্বাচন করেছেন। কখনোই তাঁকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি; সবাই মজার ক্যান্ডিডেট হিসেবেই নিয়েছিল।  হাসি-ঠাট্টা করেছে সবাই ছয়ফুরকে নিয়ে!

কিন্তু তিনি ১৯৯০ সালের উপজেলা নির্বাচনে সিলেট সদর উপজেলায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে এক কাণ্ড ছিল বটে।

বিরাট কাণ্ড!

যথারীতি ছয়ফুর রহমান প্রার্থী হয়েছেন।  তাঁর প্রতীক-ডাব।  তিনি একটা হ্যান্ডমাইক বগলে নিয়ে একা একা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।  পোস্টার লিফলেট কিছুই নেই। নেই কোন লোকজন! কিন্তু বক্তৃতা তীর্যক।

বাকি প্রার্থীদেরকে তুলাধুনা করে ফেলছেন।  এরকম এক সন্ধ্যায় সিলেটের টিলাগড়ে তার উপর অন্য এক প্রার্থীর কয়েকজন পান্ডা হামলা করে বসল। পরের দিন সেই খবর গোটা শহরে ছড়িয়ে পড়ল।  সাধারণ মানুষ বিরক্ত হলো।

আহা!  একেবারেই সাধারণ একটা মানুষ, তাঁর সঙ্গে গুন্ডামি করার কী দরকার ছিল? ঐদিন বিকালে স্কুল ছুটির পর প্রথম মিছিল বের হলো সিলেট পাইলট স্কুলের ছাত্রদের উদ্যোগে।  মিছিল লালদিঘীর রাস্তা হয়ে বন্দরবাজারে রাজাস্কুলের সামনে আসার পর রাজাস্কুলের ছেলেরাও যোগ দিল। ব্যস, বাকিটুকু ইতিহাস।

মুহূর্তেই যেন সারা শহরে খবর হয়ে গেল।  সন্ধ্যার মধ্যেই পাড়া-মহল্লা থেকে মিছিল শুরু হলো ছয়ফুরের ডাব মার্কার সমর্থনে।
একেবারেই সাধারণ নির্দলীয় মানুষের মিছিল। পাড়া মহল্লার দোকানগুলোর সামনে আস্ত আস্ত ডাব ঝুলতে থাকল।

রিকশাওয়ালারা ট্রাফিক জ্যামে আটকেই জোরে জোরে ডাব, ডাব বলে চিৎকার শুরু করে! সেই স্লোগান ম্যাক্সিকান ওয়েভসের মতো প্রতিধ্বনি হয়ে এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায় চলে যায়। অনেক প্রেস মালিক নিজেদের সাধ্যমতো হাজার দুইহাজার পোস্টার ছাপিয়ে নিজেদের এলাকায় সাঁটাতে থাকলেন।

পাড়া-মহল্লার ক্লাব-সমিতিগুলো নিজেদের উদ্যোগে অফিস বসিয়ে ক্যাম্পেইন করতে থাকল। অবস্থা এমন হলো যে, ছয়ফুর রহমানকে নির্বাচনী সভায় আনার এপয়েন্টমেন্ট পাওয়াই মুশকিল হয়ে গেল। ছয়ফুর রহমান ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তাঁদের অফিস ছেড়ে দিল ছয়ফুরের নির্বাচনী প্রচার অফিস হিসেবে। ভাবা যায়!

পাড়ায় পাড়ায় ছেলেরা তাঁর নির্বাচনী জনসভার উদ্যোগ নিয়েছে।  কিন্তু সেখানে আনতে হলেও আগে মূল অফিসে গিয়ে ৫০০ টাকা অ্যাডভান্স করে আসতে হয়, নইলে ছয়ফুর রহমান আসেন না! কারণ, তাঁর বাবুর্চিগিরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফুলটাইম নির্বাচন করতে হলে সংসার খরচ দরকার। তিনিই একমাত্র প্রার্থী, যাকে তাঁরই নির্বাচনী জনসভায় নিয়ে আসার জন্য উল্টো টাকা দিতে হচ্ছে।

নির্বাচনের দিন জনগণ এক মহাবিস্ময় প্রত্যক্ষ করল।  ডাব প্রতীকে ছয়ফুর পেয়েছিলেন ৫২ হাজার ভোট আর চাক্কা প্রতীকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৩০ হাজার ভোট। দক্ষিণ সুরমার এক কেন্দ্রে ছয়ফুর রহমানের ডাব পেয়েছিল ১৮০০+ ভোট!
ওই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রজাপতি মার্কা পেয়েছিল সাকুল্যে ১ ভোট।

আরও অবাক করা একটি ব্যাপার ঘটে নির্বাচনের দিন। প্রায় ভোটকেন্দ্রে জনগণ ডাব মার্কার ব্যালেটের সাথে টাকাও ব্যালেটবাক্সে ঢুকিয়ে দেয়। টাকা দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে জনগন জবাব দেয় – ছয়ফুর ভাইকে ভালবেসে টাকা দিয়েছি!

নির্বাচনে বিজয়ের পরে ছয়ফুর রহমানের নাম পড়ে গেল ছক্কা ছয়ফুর।  কারণ, ছয়ফুর ভাই নির্বাচনে ছক্কা হাকিয়েছেন!
তিনি হাসিমুখে সেই উপাধি মেনে নিয়ে বললেন, নির্বাচনে ছক্কা পিটানোয় মানুষ এই নাম দিয়েছে।

তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষা ঠিক করা। হুটহাট যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাইমারি স্কুলে ঢুকে পড়তেন।
শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেই শোকজ করে দিতেন।  সেই সময় প্রাইমারি স্কুলগুলো উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল অনেকটাই। তবে ছয়ফুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ নিতে হয় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কারণে।

ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতি বন্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। এতে ক্ষিপ্ত চেয়ারম্যানরা একজোট হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিলে তাঁর উপজেলা চেয়ারম্যানশিপ স্থগিত করে মন্ত্রণালয়। পরে ১৯৯১ সালে উপজেলা পরিষদ বাতিল করা হলে ছক্কা ছয়ফুরের স্বল্পমেয়াদী জনপ্রতিনিধিত্বের চিরতরে ইতি ঘটে।

এক নির্বাচনে খরচের জন্য তিনি কিছু টাকা সংগ্রহ করেছিলেন।  কিন্তু নির্বাচন কোনো কারণে হয়নি।  কিন্তু ছয়ফুর জনগণের টাকা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে সেই ঐতিহাসিক কোর্টপয়েন্টে আবার আসলেন।  এসে বলেলেন, ‘আপনারা তো আমাকে নির্বাচনে খরচ চালানোর জন্য কিছু টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে না; তাই আমি আপনাদের টাকাগুলো ফেরত দিতে চাই।’ লোকজন অনেক খুশি হয়ে বলল, ‘আমরা টাকা ফেরত নিতে চাই না; এগুলো আপনি নিয়ে নিন’।

তিনি যখন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলেন তখন রেজিষ্টারি মাঠে তার প্রথম জনসভা ছিল।  হাজার হাজার মানুষের ঢল। তিল ধারণের ঠাঁই নেই।  তিনি তার বক্তব্যে প্রথমেই সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমার নির্বাচনের শুরুতে আমার দুইটা ঠেলাগাড়ি ছিল। সংসার চলে না তাই একটি বেছি লাইছি। আর আমার বাড়িতে আপনারার বসাবার জায়গা ও নাই। পয়লা যখন রিলিফের চালান পাইমু সেখান থেকে কিছু বেছিয়া আপনারার বসাবার জায়গা করবো যদি আপনারা অনুমতি দেন।’
তখন হাজার হাজার জনগণ একসাথে হেসে উঠে বলল, ‘অনুমতি দিলাম’।

তিনি ছোট ছোট কয়েকটি বইও রচনা করেন। বার্বুচি প্রেসিডেন্ট হতে চায়, ‘পড়, বুঝাে, বল’ তার আলোচিত বই। জীবনের শেষ সময়ে এই মহান মানুষটি সিলেট ডিসি অফিসের বারান্দায় চিকিৎসা খরচের দাবীতে অনশন করেছিলেন এবং দাবীও আদায় করেছিলেন।  কিন্তু সেটা যথেষ্ট হয়তো ছিল না!

অসুস্থ থাকার সময় এক সাংবাদিক খবর পেয়ে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে, খোঁজ নিয়েছিলেন কেমন আছেন তিনি।

ছয়ফুর রহমান আক্ষেপ করে বলেছিলেন- ‘খাইয়া না খাইয়া কুনোরকমে চলে। এই জাতি একটা অকৃতজ্ঞ জাতি। আমার মতো বিখ্যাত মানুষ অসুখে ভোগে আর এই জাতি কুনো খবর লয় না। ইটা জাতির দুর্ভাগ্য।’

শেষ সময়ে বেশ অর্থকষ্টে ভুগেন ছয়ফুর।  দারিদ্র্য বুকে নিয়ে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যান এ বীর!

ছক্কা ছয়ফুরের মত মানুষ এখন আর আমাদের চারপাশে নেই, চারপাশে এখন ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলে ছবি উঠানো, ফেসবুক লাইভ, ফুটেজের নেশায় গিজগিজ করা মানুষ!

ছয়ফুর রহমান হয়তো অনেক দূর থেকে বসে দেখছেন, তাদের হাতে স্বাধীন হওয়া দেশটার বর্তমান বেহাল অবস্থা দেখে নিশ্চয়ই আফসোস হয় তার। ভুলে গেলে চলবে না- ছক্কা ছয়ফুর রহমান কিন্তু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।