চেন্নাইয়ের একটি পরিবেশ বান্ধব বিয়ে ও আমাদের শিক্ষা

একালে উপমহাদেশের বিয়ে মানেই বিশাল এক ব্যাপার। হাজারো রকমের সামাজিক অনুষ্ঠান, রীতি আর একগাদা কেনাকাটা। আর এত কিছু আয়োজনের জন্য বিস্তর অর্থ তো খরচ করতেই হবে। বলাই বাহুল্য যে, ‘বিগ-ফ্যাট ওয়েডিং’ মানেই অপচয়। অপচয় শুধু আর্থিক ভাবে না, বিয়ের খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ তো পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

তবে, এর মধ্যেও চাইলে অপচয় না করে বিয়ে করা যায়। তারই একটা নজীর পাওয়া গেল ভারতের চেন্নাইয়ে। গল্পটা দুই বন্ধু ও ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজির (এনআইএফটি) গ্র্যাজুয়েটের।  ২৩ বছর বয়সী বীনা বালাকৃষ্ণ ও পাত্রী ২১ বছর বয়সী সুদর্শনা পাই, বিয়ের ধারাটাই পাল্টে ফেলতে চলেছেন।

গেল এপ্রিলে বীনা ও সুদর্শন মিলে একটি ‘টু’স কোম্পানি’ নামের একটি ইভেন্ট প্ল্যানিং প্রতিষ্ঠান চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটির কাজ হল পরিবেশ বান্ধব অনুষ্ঠান আয়োজন করা।

সুদর্শনা ও বীনা

এর মধ্যে বীনা নিজের সবচেয়ে আনন্দের দিন, মানে বিয়ের দিনটাকে তারা স্মৃতিময় করে রেখেছেন ‘পরিবেশ বান্ধব’ বিয়ে করে। উপমহাদেশের বিয়ের আয়োজনের ধরণটা পাল্টে ফেলাই ছিল বীনা ও বিগনেশের বিয়ের আয়োজনের মূল সূত্র।

খরচ বাঁচানো, অপচয় প্রতিরোধ আর আয়োজনটাকে পরিবেশ বান্ধব রাখার জন্য এই নব দম্পতি পাঁচটি প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন। একটু চেষ্টা করলে এই কাজগুলো আমাদের বাংলাদেশেও সম্ভব। ওয়েডিং সিজন তো সামনেই, চাইলেই বিষয়গুলো মাথায় রাখা যায়।

  • বিয়ের পোশাক

বিয়েতে বীনা পড়েছিলেন নিজের দাদীর বিয়ের শাড়ি। সাথে ছিল দাদীর বিয়েতে ব্যবহৃত অলংকার। দাদীর বিয়ে হয়েছিল এখন থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে। সত্যি, ওল্ড ইজ গোল্ড!

  • বিয়ের খাবার

বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি ছিল প্রায় ৭০০ জন। প্লাস্টিকের প্লেট-বাটির পরিবর্তে খাবার পরিবেশন করা হয় কলার পাতায়। এটাই দক্ষিণ ভারতের খুব প্রাচীন একটি ঐতিহ্য। যাতে করে খাবার অপচয় না হয়, সেজন্য পরিবেশনের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা সচেষ্ট ছিলেন। পানিও দেওয়া হয়েছিল স্টিলের গ্লাসে।

  • ডেকোরেশন

বিয়ের মূল রীতি-রেওয়াজ সম্পন্ন হল খোলা আকাশের নিচে লম্বা বাগানে। খুব বেশি আলোকসজ্জা ছিল না। অতিথিদের বসার জন্য কোনো প্লাস্টিকের চেয়ার ছিল না। এর বদলে বড় সাদা চাদরে বালিশ পেতে দেওয়া হয়। ডেকোরেশন করা হয় মৌসুমী ফুল দিয়ে। পরে অনুষ্ঠান শেষে পচে যাওয়া ফুল পাতাগুলোকে সার বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।

  • বাড়তি খাবার

অন্য যেকোনো বিয়ের মত বীনা ও সুদর্শনের বিয়েতেও যথেষ্ট পরিমান বাড়তি খাবার রয়ে গিয়েছিল। এমনটা যে হবে সেটা আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলেন তাঁরা। সেজন্য ‘রবিনহুড আর্মি’ নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই বলা ছিল। তারা খাবারগুলো বিয়ে বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়। বাংলাদেশেও কিছু প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগ চালু আছে।  খাবারের উচ্ছিংষ্টাংশ, কিংবা কলার পাতা ব্যবহৃত হয়েছে সার তৈরিতে।

  • বিয়ের উপহার

সবচেয়ে অভিনব ছিল বিয়ের উপহার। আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে তাঁরা নিজেদের জন্য কিছু চায়নি, বরং বলেছিলে পারলে উপহারের সমমূল্য পরিমান অর্থ পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে দান করতে। আবার অতিথিদের ফিরতি উপহারও দেয় এই দম্পতি।  তাঁদের দেওয়া গিফট বক্সে ছিল স্থানীয় ক্যাফে থেকে সংগৃহীত কফির দানা। সাথে একটা থ্যাংক ইউ কার্ড। এই কার্ডটা বানানো হয়েছে সিড পেপার থেকে, এটা মাটিতে বুনে রাখলেই পচে সেখান থেকে একটা চারা গাছের জন্ম হবে।

– এনডিটিভি ও ব্রুট নেচার অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।