দ্য শেফ অব ক্রিকেট!

১৬১ টেস্টে ৩৩টা সেঞ্চুরি, ৫টা ডাবল। ৪৫.৩৫ গড়ে ১২,৪৭২ রান। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ আর সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। শুধু কি তাই? টেস্টে ‘ওপেনার’ এবং ‘বাঁহাতি ব্যাটসম্যান’ এই দুই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি রানের মালিকও তিনিই। যার রয়েছে অভিষেক ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরির ‘বিরল’ রেকর্ড। বলছিলাম গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো ইংল্যান্ডের সফলতম টেস্ট ওপেনার, আধুনিক ক্রিকেটের ‘লিভিং লিজেন্ড’ অ্যালিস্টেয়ার কুকের কথা।

১৯৮৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে জন্মগ্রহণ করেন অ্যালিস্টেয়ার কুক। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ২০০৬ সালে। ২০০৬ থেকে ২০১৮ — খেলেছেন একটানা ১২ বছর। তাঁর এভাবে চলে যাওয়াটা তাই নিছক কোন অবসর নয়, ইংলিশ ক্রিকেটের একটা যুগ, একটা অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি।

গত এক যুগ ধরে কুক ছিলেন ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অন্যতম প্রধান ব্যাটিং স্তম্ভ। ওপেনিংয়ে দলের সবচেয়ে বড় নির্ভরতার নাম। অভিষেকের পর থেকে প্রায় ছয় বছর তিনি ইনিংস উদ্বোধন করেছেন সাবেক বাঁহাতি ওপেনার এন্ড্রু স্ট্রাউসের সাথে। ১১৭ বার ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ৪০.৯৬ গড়ে সংগ্রহ করেছেন ৪৭১১ রান। শতরানের জুটি আছে ১২টি। স্ট্রাউস অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাই ইংল্যান্ডকে টেস্ট ওপেনার নিয়ে একদমই ভাবতে হয়নি।

তবে ঝামেলার সূত্রপাত ২০১২ সালে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের বিদায়ের পর। ওপেনিংয়ে কুকের একজন যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পেতে কম হয়রান হতে হয়নি ইংল্যান্ডকে। কম্পটন, রবসন, লিথ, হেলস, ডাকেট, হামিদ, জেনিংস, স্টোনম্যানদের ব্যর্থতার মিছিলে অবিচল ছিলেন কেবল কুক।

টেস্ট ইতিহাসের ‘প্রথম’ এবং ‘একমাত্র’ ওপেনার হিসাবে ২৫০ বা তার বেশি ইনিংসে ওপেন করার কীর্তিটি কুকের দখলে। টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে সবচেয়ে বেশি রানের মালিকও অ্যালিস্টার কুক। সর্বমোট ২৭৮ বার ইনিংস উদ্বোধন করেছেন তিনি। ৪৪.৮৭ গড়ে করেছেন ১১,৮৪৫ রান। হাঁকিয়েছেন ৩১ টি শতক এবং ৫৫ টি অর্ধশতক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের সুনীল গাভাস্কার। ২০৩ ইনিংসে ওপেন করতে নেমে তিনি করেছেন ৯৬০৭ রান, ৫০.৩০ গড়ে।

কুক ছিলেন একজন ধ্রুপদী ঘরানার টেস্ট ওপেনার। একপ্রান্ত আগলে রেখে ধীরেসুস্থে ইনিংস বিল্ডআপ করতে পছন্দ করতেন। তাঁর ব্যাটিং স্টাইল যে খুব আকর্ষণীয় কিংবা দৃষ্টিসুখকর ছিল তা বলা যাবে না। তিনি মোটেই কোন শিল্পী প্রজাতির ব্যাটসম্যান ছিলেন না। লারা কিংবা সাঙ্গার ব্যাটিংয়ে যে সহজাত এলিগেন্স ব্যাপারটা পাওয়া যেত সেটা কুকের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল।

কুকের হাতে স্ট্রোক ছিল সীমিত; কাট, পুল আর ফ্লিক এই ৩ টা শটেই করেছেন বেশিরভাগ রান। বাঁহাতি হয়েও কাভার ড্রাইভে খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। আসলে সৌন্দর্য কিংবা নান্দনিকতা নয়, কুককে সবাই মনে রাখবে তাঁর অসাধারণ ব্যাটসম্যানশিপের কারণে, তাঁর রক সলিড টেম্পারমেন্ট, মনোসংযোগ, আত্মসংযম, শট সিলেকশন, টাইমিং আর জমাট রক্ষণাত্মক টেকনিকের কারণে।

উইজডেনের ভাষায়, ‘What set Cook apart wasn’t his style or his technique, but his almost-limitless self-belief, in his method and in his ability to make it fit to an ever-changing modern world.’

কুক শুধুমাত্র একজন গ্রেট ব্যাটসম্যানই নন; একজন অসাধারণ স্পোর্টসম্যান, একজন সত্যিকারের জেন্টলম্যান, একজন সফল অধিনায়ক এবং একজন দুর্দান্ত স্লিপ ফিল্ডারও বটে। ১৬১ ম্যাচে তাঁর রয়েছে ১৭৫ টি ক্যাচ যা টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ।

খেলোয়াড় হিসেবে সর্বাধিক ৫৭ টি টেস্ট জিতেছেন অ্যালিস্টেয়ার কুক যা ইংলিশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ক্যারিয়ারে মোট ৭ টি অ্যাশেজ সিরিজ খেলেছেন; এর মধ্যে জিতেছেন ৪ টিতেই। অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন ২ টি অ্যাশেজ। কুকের নেতৃত্বে ৫৯ টি টেস্ট খেলে ২৪ টিতে জিতেছে ইংল্যান্ড। একমাত্র মাইকেল ভনের নেতৃত্বেই এর চাইতে বেশি (২৬টি) ম্যাচ জিতেছে দলটি। তবে অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে রেকর্ড ২২ টি হারও লেখা আছে তাঁর নামের পাশে। টেস্টের পাশাপাশি রেকর্ড ৬৯ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচেও দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

কুকের ক্যাপ্টেন্সি সম্পর্কে উইজডেন বলছে, ‘Cook’s leadership was, in many ways, like his record-breaking batting: unyielding, determined and deliberate, but lacking the spark of tactical genius to win him ultimate approval.’

২০০৬ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক। নাগপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে ২১ বছর বয়সী কুক খেলেছিলেন মাইকেল ভনের বদলি হিসেবে। পেটের পীড়ার কারণে ওই সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি খেলতে পারেন নি। এরপর থেকে টানা খেলেছেন, মিস করেন নি একটা ম্যাচও। গড়েছেন টানা ১৫৯ টেস্টে অংশগ্রহণের বিশ্বরেকর্ড!

নাগপুরে অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৬০ রান। আর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছিলেন ১০৪ রানের ঝলমলে একটি ইনিংস। ইতিহাসের পঞ্চম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়েছিলেন অভিষেকের দু’ইনিংসে ফিফটি এবং সেঞ্চুরি হাঁকানোর কীর্তি।

২০০৭ সালের মে মাসে টেস্ট ইতিহাসের মাত্র ‘দ্বিতীয়’ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকের প্রথম বছরেই ১০০০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করেন কুক। এর আগের জন হলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মার্ক টেলর।

২০০৭ সালের আগস্টে ভারতের বিপক্ষে সাউদাম্পটনের রোজবোলে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি (১০২) হাঁকান অ্যালিস্টার কুক।

২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ‘প্রথম’ ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে ২৩ বছর পেরোনোর আগেই ৭টি টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের জন্য ‘ভারপ্রাপ্ত’ অধিনায়ক মনোনীত করা হয় অ্যালিস্টার কুককে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেবার ২-০ ব্যবধানে টেস্ট এবং ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। টেস্ট সিরিজে কুকের অবদান ছিল দুই সেঞ্চুরিসহ ১১৪ গড়ে ৩৪২ রান। আর তিন ওয়ানডেতে কুকের ব্যাট থেকে এসেছিল ৫২.০০ গড়ে ১৫৬ রান।

২০১০-১১ মৌসুমে ২৪ বছর পর ‘প্রথমবারের’ মত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জিতেছিল (৩-১) ইংল্যান্ড। ৩ সেঞ্চুরি আর ২ ফিফটিতে ৭৬৬ রান করে যে জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন কুক! ব্যাটিং গড় ১২৭.৬৬! ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটাও (২৩৫*) পেয়েছিলেন ওই সিরিজেই। যথারীতি কুকের মাথাতেই উঠেছিল সিরিজসেরার মুকুট।

উল্লেখ্য, ২০১০-১১ সালের অ্যাশেজে কুকের ক্রিজে অতিবাহিত সময়ের পরিমাণ ছিল ২১৭১ মিনিট অর্থাৎ ৩৬ ঘন্টা ১১ মিনিট! যা এক সিরিজে মিনিটের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় ক্রিজে অবস্থানের বিশ্বরেকর্ড।

২০১১ সালে এজবাস্টনে ক্যারিয়ার সেরা ২৯৪ রানের ইনিংস খেলেন ভারতের বিপক্ষে। মাত্র ৬ রানের জন্য বঞ্চিত হন ট্রিপল সেঞ্চুরি থেকে।

২০১২ সালে দুবাইতে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ইংল্যান্ড। ২ সেঞ্চুরি ও ১ ফিফটিতে ১০৭.৬৬ গড়ে ৩২৩ রান করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন অ্যালিস্টার কুক!

২০১২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ‘ঐতিহাসিক’ ভারত সফরে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে এন্ড্রু স্ট্রাউসের স্থলাভিষিক্ত হন কুক। কুকের নেতৃত্বেই দীর্ঘ ২৭ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছিল ইংল্যান্ড। ৩ সেঞ্চুরিতে ৮০.২৯ গড়ে কুকের ব্যাট থেকে এসেছিল ৫৬২ রান! জিতে নিয়েছিলেন সিরিজসেরার পুরস্কার।

ওই সিরিজেই ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির (২৩) রেকর্ড গড়েন অ্যালিস্টার কুক। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ১৯০ রানের ‘মহাকাব্যিক’ এক ইনিংস খেলার পথে ওয়ালি হ্যামন্ড, কলিন কাউড্রে, জিওফ্রে বয়কট এবং কেভিন পিটারসেনের ২২ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ডগলাস জার্ডিন (১৯৩৩-৩৪ সালে ২-০), টনি গ্রেগ (১৯৭৬-৭৭ সালে ৩-১) ও ডেভিড গাওয়ারের (১৯৮৪-৮৫ সালে ২-১) পর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ী ৪র্থ ইংলিশ অধিনায়ক হলেন অ্যালিস্টার কুক (২০১২-১৩ সালে ২-১)।

টেস্ট ইতিহাসের ‘প্রথম’ এবং ‘একমাত্র’ অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পাঁচ টেস্টের প্রতিটিতেই সেঞ্চুরি হাঁকানোর বিরল রেকর্ডের অধিকারী হন অ্যালিস্টার কুক। পাঁচ টেস্টের ভেন্যুগুলো ছিল যথাক্রমে চট্টগ্রাম, ঢাকা, আহমেদাবাদ, মুম্বাই ও কলকাতা।

২০১৫ সালের মে মাসে টেস্টে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের রেকর্ডটা নিজের করে নেন অ্যালিস্টার কুক। এর আগের রেকর্ডটি ছিল গ্রাহাম গুচের ৮৯০১ রান।

২০১৫ সালের অক্টোবরে আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫২৮ বলে ২৬৩ রানের একটি ‘ম্যারাথন’ ইনিংস খেলেন কুক। যেটি ছিল সময়ের হিসাবে ইংল্যান্ডের পক্ষে দীর্ঘতম টেস্ট ইনিংস (৮৩৬ মিনিট; টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় দীর্ঘতম)।

২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বাধিক টেস্ট ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন কুক। সাবেক উইকেটরক্ষক অ্যালেক স্টুয়ার্টের ১৩৪ টেস্টের রেকর্ডটি ভেঙে দেন তিনি। এর মাসখানেক পরই গড়েন অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট খেলার রেকর্ড। এর আগের রেকর্ডটি ছিল মাইক আথারটনের ৫৪ টেস্ট।

পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও নিজের করে নেন তিনি। ভেঙে দেন গ্রাহাম গুচের ১১ সেঞ্চুরির রেকর্ড।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত বক্সিং ডে টেস্টে এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন কুক। ১৯৯৭ সালে ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাইকেল আথারটনের পর প্রথম ইংলিশ ওপেনার হিসেবে ‘ক্যারি দ্য ব্যাট থ্রু আ কমপ্লিটেড ইনিংস’-এর কৃতিত্ব স্থাপন করেন তিনি। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় উইকেটে থেকে ৪০৯ বলে ২৭টি চারে ২৪৪ রানে অপরাজিত থাকে কুক। উল্লেখ্য, ইনিংসজুড়ে ব্যাট ‘ক্যারি’ করা কোন ওপেনারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড তখন পর্যন্ত ছিল ওটাই। সম্প্রতি সেটা ভেঙে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের টম ল্যাথাম।

আর এরই সাথে ইতিহাসের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ১২,০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন অ্যালিস্টার কুক।

উল্লেখ্য, টেস্ট ইতিহাসের কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসেবে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। টেস্টে সবচেয়ে কম বয়সে ৬ হাজার, ৭ হাজার, ৮ হাজার, ৯ হাজার, ১০ হাজার, ১১ হাজার এবং ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শকারী ক্রিকেটার হলেন অ্যালিস্টেয়ার কুক।

২০১৮ সালের জুনে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডারের টানা ১৫৩ টেস্ট খেলার রেকর্ডটি ভেঙে দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন কুক।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ৫ নম্বরে উঠে আসেন অ্যালিস্টার কুক। বর্তমানে তাঁর ওপরে আছেন শুধুমাত্র শচীন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস এবং রাহুল দ্রাবিড়।

ভারতের বিপক্ষে শুরু, আর সেই ভারতের বিপক্ষেই ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেন ৩৩ বছর বয়সী কুক। অভিষেকের মত বিদায়ী টেস্টেও দুই ইনিংসে হাঁকান সেঞ্চুরি ও ফিফটি। প্রায় এক যুগ আগের স্মৃতিটাই যেন আবার ফিরিয়ে আনেন তিনি। ওভাল টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১৪৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। বিদায়বেলার এমন গৌরবময় চিত্রনাট্য হয়ত বিধাতা নিজের হাতেই লিখে রেখেছিলেন।

এরই সাথে ক্যারিয়ারের প্রথম ও শেষ টেস্টে সেঞ্চুরির এক বিরল রেকর্ডবুকে নাম উঠে যায় কুকের। ১৪১ বছরের টেস্ট ইতিহাসে কুকসহ এই কীর্তি আছে মাত্র ৫ জনের! তাঁরা হলেন যথাক্রমে রেজিনাল্ড ডাফ (অস্ট্রেলিয়া), বিল পন্সফোর্ড (অস্ট্রেলিয়া), গ্রেগ চ্যাপেল (অস্ট্রেলিয়া), মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন (ভারত) এবং অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড)।

  • সম্মাননা

– ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা ৪ বার ইংল্যান্ডের বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের পুরস্কার ‘ডেনিস কম্পটন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

– ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে পরপর দু’বার ক্রিকেট রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন।

– ২০১১ সালে মেম্বার অব দি অর্ডার অব দি ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই) পুরস্কার অর্জন করেন।

– ২০১১ সালে আইসিসি নির্বাচিত ‘টেস্ট প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

– ২০১২ সালে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন।

– ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে সর্বমোট ৫ বার আইসিসি নির্বাচিত বর্ষসেরা টেস্ট একাদশের ওপেনার মনোনীত হন।

– ২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে আইসিসি নির্বাচিত বর্ষসেরা টেস্ট একাদশের ক্যাপ্টেন মনোনীত হন।

– ২০১৬ সালে কমান্ডার অব দি অর্ডার অব দি ব্রিটিশ এম্পায়ার (সিবিই) পুরস্কার লাভ করেন।

একটা সময় অবধি মনে করা হতো, শচীনের সর্বাধিক টেস্ট রান আর সেঞ্চুরির রেকর্ডটা যদি কেউ ভাঙতে পারেন, তবে সেটা কুকই পারবেন, অন্য কেউ নয়! প্রথমদিকে সেভাবেই খেলেছিলেন। তবে ক্যারিয়ার জুড়ে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরোনোর পর শেষদিকে আর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন নি। তাই বলে ক্যারিয়ার নিয়ে তাঁর কোন আক্ষেপ কিংবা অতৃপ্তি থাকার কথা নয়। ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা রান সংগ্রাহক, সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক হওয়ার তৃপ্তি নিয়েই অবসরে গেছেন, এটাই বা কম কিসে?

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।