‘চার্লি’র প্রেমে পড়তে বাধ্য আপনিও!

‘দুলকার সালমান এর সাড়া জাগানো একটা ছবি হল ‘চার্লি’। এখানে অনেকেই চার্লি চরিত্রটার সাথে হিমুর অনেক মিল খুঁজে পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে হিমুর রূপা আর চার্লির থেসা কিন্তু একদমই আলাদা। ব্যাস, এটুকু জেনেই আগ্রহ নিয়ে নেমে পড়লাম মালয়ালাম প্রিন্স দুলকার এর সেরা মুভি চার্লি দেখতে।

একটা জিনিস দেখেছি, দুলকার সালমানকে অনেকেই আসল নামে চিনে না, যারা শুধুই ছবি দেখে ঘাঁটাঘাঁটি করে না তাদের বেশিরভাগই মালয়ালাম প্রিন্সকে চার্লি নামেই চিনে। যেমনটা অনেকে এখন বিজয় দেবারাকোন্ডাকে অর্জুন রেড্ডি কিংবা শহীদ কাপুরকে কবির সিং নামে চিনে।

মালয়ালাম ছবিগুলো যতটা না সিনেমা তারচেয়ে বেশি গল্প, যেন পড়তে পড়তে প্রেমে পড়ে যাওয়া কোনো উপন্যাসের পুরো অবয়বটা চোখের সামনে একজন শিল্পী নিপুণ কারুকার্যতায় চিত্রায়িত করছেন যার প্রত্যেকটা লোকেশনও ঠিক ওই কল্পনার মত।

এক্ষেত্রে চার্লি ছবিটাকে হুমায়ূন আহমেদের হিমু সিরিজের কোন অপ্রকাশিত উপন্যাসের পুঙ্খানুপুঙ্খ চিত্রায়ন বললে বাড়াবাড়ি হবে বলে মনে হয় না।

দুলকার সালমান এখানে যেন একজন সাক্ষাৎ হিমু, তবে এখানে থেসাকে যদি রূপা বলতে চান তাহলে তাঁকে একটা দেয়াল ভেঙে বের করতে হবে তাই বলেছি এটি হতে পারে হিমু সিরিজের অপ্রকাশিত কোন উপন্যাস।

হুমায়ূন আহমেদের হিমু পড়ে যেমন অনেকেরই হিমু হতে ইচ্ছে, তেমনি চার্লি দেখার পর চার্লির মত হতে চাওয়াটা একদমই স্বাভাবিক। তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি কেউ যদি পাঁড় হিমু ভক্ত হয়ে থাকে তাহলে সে এই মুভিতে চার্লির চাইতেও বেশি আগ্রহ খুঁজে পাবে থেসা চরিত্রটির মধ্যে।

ভবঘুরে ঘরানার জীবনযাপনে অভ্যস্ত থেসা, তাঁর বিয়ের প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়, গিয়ে উঠে চার্লির পুরোনো বাসায় যেখানে রাখা ছিলো চার্লির ব্যবহৃত আজব যত জিনিস। প্রথমে বিরক্তি লাগলেও পরে সে ঘর গোছাতে গিয়ে চার্লির আঁকা একটি কমিক বইয়ের সন্ধান পায়,কমিকস থেকে সে খুঁজে পায় একটি গল্প। সেই গল্প থেকেই চার্লির জন্য আগ্রহী হয়ে উঠে থেসা।

এরপর শুরু হয় চার্লিকে খোঁজা, আর এখান থেকেই যত গল্পের শুরু।

এতটুুকু শুধুই থেসার গল্প, ছবির বাকিটা জুড়ে কেবলিই চার্লি। সেই গল্পটা পাঠকদের জন্য রেখে দিলাম। তবে, কথা দিতে পারি সিনেমাটি দেখতে বসলে এক মুহুর্তের জন্যেও চোখ ফেরাতে পারবেন না।

এই ছবিতে চার্লি-থেসা ছাড়াও অনেকগুলো ছোট ছোট চরিত্র ছিলো যাদের প্রত্যেকটা ছিলো গল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কেউই দুলকার কিংবা পার্বতীর চাইতে একটুকুও কম দেন নি। সবাই সবার সেরা অভিনয়টাই করেছেন। ছবির শেষটা দারুণ ছিলো, প্রেডিক্টেবল হলেও মনে রাখার মত টুইস্টও ছিলো, যেটি ভালো লেগেছে।

ছবিটি দেখলে যেমন কোনো হিমুভক্ত থেসা চরিত্রের উপর আগ্রহী হয়ে উঠবে, তেমনি ষোড়শী কিংবা অষ্টাদশী কোন বালিকা দেখলে সে চার্লির প্রেমে পড়তে বাধ্য। কিংবা স্রেফ একজন মানবভক্তও ভক্ত হয়ে উঠতে পারেন চার্লির।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।