ব্যান্ড সঙ্গীতের এই অকল্পনীয় পরিবর্তনের কথা কে ভেবেছিল!

বর্তমানে এই দেশের একটা বড় সংখ্যক তরুণ কিশোরদের কাছে মেটাল আর ২০০০ এর পরের ব্যান্ডগুলো যে পরিমাণ চরম জনপ্রিয় – এটা এইসব ব্যান্ডের গান প্রথম শোনা শুরু করা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না ২০০৫ এর দিকে। আমরা বা আমার কাছাকাছি বয়সী অল্প কিছু মানুষ ২০০১-০২ এর দিকে প্রথম এসব ব্যান্ডের গান শোনা শুরু করে।

ভক্তের সংখ্যা বাড়া শুরু করে আরো ২০০২ এর পর থেকে। কিন্তু তাও কোনদিনও কল্পনা করিনি ওই সময় যে আর্টসেল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় তিন ব্যান্ডের একটা হবে ভবিষ্যতে। কিভাবে চিন্তা করবো!

২০০৪ সালে টিএসসিতে বামবার সব ব্যান্ড নিয়ে কনসার্ট হয়েছিল। সেখানে আমরা ৪-৫ জন আর্টসেল স্টেজে ওঠার সময় আর্টসেল আর্টসেল বলে চিৎকার করছিলাম, সাথে অন্য আরো ৫-৬ জনও যোগ দিয়েছিলো। হাজার হাজার দর্শকের মাঝে আর্টসেলের জন্য চিৎকার করেছিলাম আমরা এই ১০-১২ জন।

তখন মানুষ সব মূলত ছিলো ৯০ দশকের ব্যান্ডগুলোর ভক্ত। কিভাবে তখন ভাববো যে ২০১৯ সালে আর্টসেলের জন্য আর্মি স্টেডিয়াম ভরে যাবে! এ তখন ছিলো কল্পনারও বাইরে। ২০০৬ সালে ‘অনিকেত প্রান্তর’ অ্যালবাম বের হওয়ার পরে ভাবতাম যে আর্টসেলের কড়া ভক্ত, অল্প কিছু মানুষেরই শুধু প্রিয় গান হবে অনিকেত প্রান্তর গানটা।

অথচ আমাদেরকে অবাক করে এখন আর্টসেলের নতুন প্রজন্মের ভক্তরা। তাদের প্রত্যেকে ১৬ মিনিটের এই গানটা জানে আর এটা ছাড়া আর্টসেলের শো মানতে চায়না। ২০০৩-০৫ এর দিকে আর্বো ভাইরাস বা নেমেসিসের শো দেখে ভেবেছি যে আমার মত অল্প কিছু মানুষই এদের ভক্ত থেকে যাবে, এর বেশি হবে না।

অথচ ২০১৯ সালে জয় বাংলা কনসার্টে নেমেসিসের ভোকাল জোহাদের সাথে কোলাকুলি করার জন্য ঝুকি নিয়ে স্টেজে উঠে যায় মানুষ, আর্বো ভাইরাসের টিশার্ট পড়ে কনসার্টে আসে শত শত জন। ২০০৭ এ মেক্যানিক্সের গান শুনে হেড ব্যাঙ করার সময় আর এক শো তে পাওয়ারসার্জের গান শুরু হতেই অডিটোরিয়ামের বেশির ভাগ দর্শক বেরিয়ে যাওয়া দেখে ভেবেছি যে আমরা ওই অল্প কয়েকজনই শুনবো এদের গান।

অথচ পাওয়ারসার্জ এখন শো করে নোয়াখালীর স্কুলে, যেখানে শ্রোতারা পাগলের মত হেড ব্যাঙ করে এদের গানের সাথে। গতকালের চ্যানেল আই ব্যান্ড ফেস্টে সবচেয়ে মাতানো ব্যান্ড ছিলো মেক্যানিক্স। আসলেই ২০০৫ সালের দিকে কখনো ভাবিনি মেটাল, অলটারনেটিভ ধারার গান এদেশে এত জনপ্রিয় হবে আর এক দশকের মত পরেই।

একদম নতুন প্রজন্মের মেটাল ব্যান্ড ওয়ারসাইটেরও দেখলাম চরম জনপ্রিয়তা, তাঁদের টি শার্ট পড়ে এসেছে অনেকে। আর্টসেলের টি-শার্ট পড়ে এত মানুষ ঘুরবে এটাই ভাবিনি ২০০৫ এ। ঢাকার বাইরে মেটাল একদমই কেউ শুনবে না ভাবতাম ওই সময়।

এখন শুনি যে মেটাল কনসার্ট ঢাকার চেয়ে বেশি জমে চট্টগ্রামে। দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়েও মেটাল ব্যান্ডের গানের সাথে হেডব্যাংগ করছে অনেক ছাত্র, সেটা দেখেছি ইউটিউবে। এসব দেখে আমাদের মত ২০০১-০২’এ যারা দেশের আন্ডারগ্রাউন্ড সব মেটাল কনসার্টে প্রথম যাওয়া শুরু করেছিলো তারা চরম আনন্দ অনুভব করে।

আমি সবাইকে বলি যে আমি নিঃসন্দেহে আর্টসেল, ব্ল্যাক এসব ব্যান্ডের একদম শুরুর দিকের ১০০ ভক্তের একজন। মেটাল, অলটারনেটিভ মোট কথা ২০০০ এর পরের ব্যান্ডগুলোর বর্তমানে এত জনপ্রিয়তা দেখে আমি আবেগাপ্লুত হই। মনে হয় যে, আমরা পাইওনিয়ার শ্রোতারা পেরেছি পরের প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই অসাধারণ ধারার সঙ্গীতকে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।