ঝুঁকি নিতে না পারলে কিসের অভিনেতা!

ঝুঁকি! সেটা কে না নেয়। মানবজীবন থেকে শুরু করে বলিউড পর্যন্তও ঝুকি নেন বিভিন্ন কাস্টিং ডিরেক্টররা। একেবারে আলাদা জনরার একজন অভিনেতাকে দিয়ে ভিন্ন ধরণের চরিত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়, যা কেউ ভাবতেই পারেনি। ঠিক তেমনি কয়েকটা ঝুঁকিপূর্ণ কাস্টিং নিয়ে বলবো।

  • রাণী মুখার্জি (ব্ল্যাক)

বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্ব হেলেন কেলার; যিনি একইসাথে অন্ধ, বধির ও বাকক্ষমতা হীন ছিলেন, তারই অটো-বায়োগ্রাফি ‘দ্য স্টোরি অফ মাই লাইফ’ এর হিন্দি অ্যাডাপ্টেশন এই সিনেমা। ২০০৫ সালে মুক্তি পায়। তখন অবশ্য রোমান্টিক চরিত্রের জন্য জনপ্রিয় ছিলেন রানী। যেমন – চালতে চালতে, হাম তুম, বীর জারা। কিন্তু, হঠাৎ করে একজন অন্ধ, বধির আর বাকক্ষমতা হীন মেয়ের রোলে যে তিনি শতভাগ দিতে পারবেন তা কেও ভাবতেও পারে নি। কাস্টিং ডিরেক্টরের এই ঝুঁকিকে ‘টুপিখোলা সম্মান’ জানাতেই হয়।

  • শহীদ কাপুর (কামিনে)

বিশাল ভরদ্বাজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটা ছবি। প্রতিটা কাস্টের শতভাগ পারফরমেন্স মুভিটাকে একটা ‘মাস্ট ওয়াচ’-এ পরিণত করেছে। মুভিতে ডাবল রোলে দেখা যায় শহীদ কাপুরকে। একটা চরিত্রের নাম ‘গুড্ডু’, আরেকটার ‘চার্লি’।  সহজ সরল গুড্ডু’র ঠিক বিপরীতমূখী চরিত্র ছিল ‘চার্লি’র। চকলেট হিরোর তকমা ভেঙে শহীদ যে কাজটা করতে পারবেন সেটা কেই বা ভেবেছিল।

  • ঋতেশ দেশমুখ (এক ভিলেন)

কোরিয়ান ‘আই স দ্য ডেভিল’-এর হিন্দি রিমেক ‘এক ভিলেন’। ঋতেশকে একজন সাইকোটিক কিলার ‘রাকেশ মাহাটকার’-এর রোলে দেখা যায়। ঋতেশ সেই একজন মানুষ যাকে আমরা এতদিন কমেডি সিনেমায় দেখেছি, দুই-একবার দেখেছি রোমান্টিক চরিত্রেও। কিন্তু এই ধরনের সাইকোটিক রোলে যে ঋতেশ এত ভালো অভিনয় করার ক্ষমতা রাখেন তা হয়তো কেউ ভাবেই নি।

  • সাইফ আলী খান (ওমকারা)

শেক্সপিয়রের উপন্যাস ‘ওথেলো’র হিন্দি অ্যাডাপ্টেশন ‘ওমকারা’। নেতিবাচক চরিত্র ‘ঈশ্বর লাংড়া ত্যাগী’র  ভূমিকা নিয়ে ভাবলে হয়ত মনে অনেক অভিনেতার নাম আসতে পারে। কিন্তু সাইফ আলী খান এর নাম মনে হয় না কখনোই আসতো! তিনি এতদিন ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘কাল হো না হো’, ‘সালাম নামাস্তে’, ‘হামতুম’ এর মত মুভিতে চকোলেট হিরোর জন্য জনপ্রিয় ছিলেন। তাকে হঠাৎ করে নেগেটিভ রোলে নেওয়াটা আসলে অনেক ঝুকিপূর্ণ ছিল। আর তারপর মুভি রিলিজ হলে সাইফের অভিনয় সবার মন কেড়ে নেয়।

  • আলিয়া ভাট (উড়তা পাঞ্জাব)

‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমাটির আগ পর্যন্ত আমরা আলিয়া ভাটের সৌন্দর্য্য নিয়ে অনেক আলোচনা চলতো। ‘টু স্টেটস’, ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’ এবং ‘হাইওয়ে’-তে তাঁর অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু, তাই বলে উড়তা পাঞ্জাবের ‘মেরি জেইন’! হকি খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা মেরি জেইন, যে শেষ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয় – তার চরিত্রটা করা কষ্টকর তো ছিলই। শোনা যায় যে, আলিয়া টানা ১৬ দিন তার চুলের কোনো যত্ন নেননি।

  • বরুণ ধাওয়ান (বাদলাপুর)

বরুণ ধাওয়ান ভক্তদের চোখে এটা এই তারকার অন্যতম সেরা একটা সিনেমা। বরুণকে একজন দক্ষ অভিনেতা হিসেবে প্রমান করেছিল ‘বাদলাপুর’। ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত আমরা বরুনকে ‘সিনু’, ‘রোহান নন্দা’, ‘হাম্পটি’ টাইপের রোমান্টিক রোলে দেখেছি। কিন্তু হঠাৎ করেই ‘রঘু’ এর মত চরিত্র যেন ক্যারিয়ারটাই পাল্টে দেয় তাঁর। শুধু তার স্ত্রী আর সন্তানের হত্যার প্রতিশোধের জন্য বেঁচে ছিল এই চরিত্রটি, জীবনের কোনো মূল্যই নেই তাঁর কাছে। এখানে পরিচালকের ভরসার প্রতিদান দিতে পেরেছিলেন বরুণ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।