ক্যাচ দেম ইফ ইউ ক্যান!

তখন ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে আমাদের প্রবল প্রতিপক্ষ। আমরা রীতিমতো ভয় পাই জিম্বাবুয়ের সামনে পড়লে। তখনো বাংলাদেশ আইসিসির সহযোগী সদস্য। বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা আমাদের কাছে দূর আকাশের স্বপ্ন। জিম্বাবুয়েও আমাদের মতোই টেস্ট মেম্বার না। আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল বিশ্বকাপ খেলতে যায়।

আমাদের দলেও তখন বেশ কিছু প্রতিভাবান, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ক্রিকেটার ছিলেন। গাজী আশরাফ লিপুর মতো স্মার্ট ক্যাপ্টেন ছিলেন। যা ছিলো না আমাদের তা হল, বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা, পর্যাপ্ত কোচিং-ট্রেইনিং ফ্যাসিলিটি,আজকের দিনের মতো পেশাদারিত্ব। তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শিশু বা কিশোর বলা যায় বাংলাদেশ দলকে ।

নব্বই সালে নিজেদেরকে প্রমান করতে, বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার যোগ্যতা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ গেল হল্যান্ডে আইসিসি ট্রফি খেলতে। দলের অধিনায়ক লিপু। সেই দলে তখন নান্নু, নোবেল, প্রিন্সের মতো স্কিলফুল ক্রিকেটার। মনি-আকরাম-বুলবুলদের মতো উঠতি পরীক্ষিত প্রতিভাবানরা তখন দলের অংশ।

আমি গিয়েছিলাম দর্শক-সমর্থক-সাংবাদিক হিসেবে। একদিনের ঘটনা বলি । প্রধান শহর আমসটারডামের কাছাকাছি ছোট্ট এক সুন্দর শহরে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলা ছিলো বাংলাদেশের। গ্যালারিহীন মাল্টিপারপাস মাঠে (পার্ক) কোনো রকম একটা প্রেস বক্স বসানো হয়েছিলো সেখানে যার ভিতরে সাংবাদিক বলতে আমরা বাংলাদেশের দু’জন (আমি আর দিলু খন্দকার) আর জিম্বাবুয়ের তিন-চারজন, হল্যান্ডের একজন।

জিম্বাবুয়ের সাংবাদিকরা বেশ নাকউচা ভাব নিয়ে কথা বলছিলেন আমাদের সঙ্গে । ভাবটা এমন… ও! তোমরা ক্রিকেট খেলো নাকি?

এক সাংবাদিক তো আমাকে হাসতে হাসতে টিটকারি মেরে বলেই ফেলেছিলেন – ‘How do you guys play Cricket in Bangladesh since you don’t have a dry surface.. you are always flooded..under the water!’

এইসব খোঁচাখুঁচি হজম করার অভ্যাস কোনোদিনও আমার ছিলোনা । বয়সে যতই কম হই তখন, সাহসে অনেক এগিয়ে । আমার দেশকে নিয়ে খোঁচা দেওয়া ঐ সাংবাদিককে দাঁতভাঙা জবাবও দিয়েছিলাম । প্রথম কথাটা বলেছিলাম যার বাংলা অর্থ এরকম – ‘ওহ হো.. তোমরা না এত ভালো ক্রিকেট খেলো অথচ আইসিসি তোমাদের ফুল মেম্বারই বানায় না। তারা মনে হয় তোমাদের স্ট্যান্ডার্ড আপ টু দ্য মার্ক মনে করে না।’

দ্বিতীয় কথাটা বলেছিলাম – ‘তোমাদের কি জিয়োগ্রাফি সম্বন্ধে ধারণা কম? বাংলাদেশকে সারাবছর বন্যার পানিতে ডোবা দেশ মনে করো অথচ খেলতে এসেছো নেদারল্যান্ডসে… যে দেশ পৃথিবীর সব চাইতে নিচের দেশ, সমুদ্রপৃষ্ঠের সবচাইতে নিচে! ভয় করে নাই এই দেশে খেলতে আসতে?’

আজ এত এত বছর পর ক্রিকেটে জিম্বাবুয়েকে পিছু ফেলে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট তখন আমি আর সেই পেশায় নেই, সম্ভবত জিম্বাবুয়ের সেই সাংবাদিকরাও এখন আর ক্রিকেট ম্যাচ কাভার করেন না মাঠে গিয়ে।

যদি তারা থাকতেন, আমি থাকতাম সেই পেশায় এবং আমাদের দেখা হয়ে যেত কোনোদিন কোনো এক আন্তর্জাতিক ইভেন্টের প্রেস বক্সে তাহলে আইসিসি’র ওডিআই/টেস্ট/টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংটা তুলে ধরতাম তাদের সামনে আর বাংলাদেশ নামটাকে সার্কেল করে বলতাম… ক্যাচ দেম ইফ ইউ ক্যান!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।