ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ‘ক্যাসিনো’ ইজ পার্মানেন্ট!

একই অঙ্গের অসংখ্য রূপ – এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ খালেদ মাহমুদ সুজন। একবার ভারতীয় একটি ক্রিকেট বিষয়ক গণমাধ্যমের বিবেচনায় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে অযোগ্য ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া বিশ্ব একাদশে নাম লিখিয়েছিলেন। আবার সেই সুজনই বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক গাদা পদে আসীন হয়ে আছেন। একেকবার একেক ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি।

তিনি কখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনী লিমিটেডের হেড কোচ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ডায়নামাইটসের কোচ, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট অ্যাকাডেমির হেড কোচ। বিশ্বকাপ গিয়েছিলেন দলের ম্যানেজার হয়ে, ফিরে এসে বনে গেছেন আপদকালীন কোচ।

সুজনের ভূমিকা যাই হোক না কেন, মাঠের বাইরে তাঁর একটা ভূমিকায় কোনো পরিবর্তন এলো না। আর সেটা হল তাঁর ক্যাসিনো প্রীতি। ২০১৫ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন দলের ম্যানেজার। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে প্রশংসিত হয় মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের পারফরম্যান্স। যদিও, সুজনকে পাওয়া গিয়েছিল ক্যাসিনোতে। টিমের অংশ হওয়ার পরও তিনি বিশ্বকাপের মত গুরুত্বপূর্ণ আসরের মাঝে জুয়া খেলতে যেতে পারেন কি না – সে নিয়ে সরগরম ছিল গণমাধ্যম। সুজন অবশ্য সাফ বলে দিয়েছিলেন, ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতে নয় বরং ডিনার সারতে গিয়েছিলেন তিনি।

এরপর কেটে গেছে চারটি বছর। বাংলাদেশ দলে অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে গেলেও মোটামুটি সাদামাটা পারফরম্যান্স নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। সিনিয়র কয়েকজন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। কোচ স্টিভ রোডসকে একরকম বিদায়ই করে দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ বিশ্বকাপের সুজন

বিশ্বকাপের পরই শ্রীলঙ্কা সফর। হুট করে আবারো তাই আপদকালীন কোচের দায়িত্বে খালেদ মাহমুদ সুজন – দ্য ওয়ান ম্যান আর্মি। স্যোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গতিদানব’ নামে পরিচিতি এই ভদ্রলোক অনেক ‘না-না’-এর পর দায়িত্ব নিয়ে ফেললেন। মাশরাফি-সাকিব-লিটনদের অনুপস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় এখন অবধি বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই।

এর ওপর দেশ ও দেশের বাইরের গণমাধ্যমে মাঠের বাইরের নেতিবাচক সব খবরও ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। এই অবস্থায় যখন দলের সবার ‘চাচা’ নামে পরিচিতি মানুষটি সবাইকে আগলে রাখবেন, সে কি না নিজেই মাঠের বাইরে আরেকটি মুখরোচক খবরের জন্ম দিয়ে বসলেন। শ্রীলঙ্কায় সফর চলাকালেই চলে গেলেন ক্যাসিনোতে।

২০১৯ সালের শ্রীলঙ্কা সফরের সুজন

মানে দেশ, কাল, পাত্র যাই হোক না কেন তার ক্যাসিনোতে যাওয়া চাই। আর কী অদ্ভুত ব্যাপার! কী দারুণ ডেজাভ্যু। এবারো ক্যাসিনো যাওয়ার কারণ হিসেবে ওই ডিনার করার কথাটাকেই টানলেন। বিষয়টা কি, আপনি যখন দলের মনোবলের এমন যাচ্ছেতাই অবস্থা হওয়ার পরও রোজ রোজ ক্যাসিনোতে গিয়ে ডিনার সারবেন, তখন লোকে তো একটু মন্দ বলবেই!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।