চোখের আড়াল, মনের আড়াল

স্টারডম পাওয়া যত সহজ, সেটা ধরে রাখা ঠিক ততটাই কঠিন। বলিউডের প্রসঙ্গে এমন একটা বক্তব্য প্রায়ই শোনা যায়। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই স্টারডমের চূড়ায় উঠেছেন আবার হারিয়েও গেছেন। এখানে সামান্য ভুলেরও বড় মাশুল গুণতে হয়। এখন যাদের কথা বলছি তারা বড় একটা পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পরও ভুলের মাশুল গুণে লাইমলাইটের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

  • শক্তি কাপুর

খ্যাতির সাথে সাথে বিড়ম্বনাও থাকে, শক্তি কাপুরও তার ব্যতিক্রম নন। ২০০৫ সালে একটি ভারতীয় টেলিভিশন শক্তি কাপুরের স্টিং অপারেশন করে তাঁর ‘কাস্টিং কাউচ’ প্রকাশ্যে আনে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী সাংবাদিক নায়িকা সেজে তাঁর কাছে কাজ চাইতে গেলে তিনি বলছেন, ‘ফিল্মে কাজ করতে চাইলে, কাস্টিং কাউচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে!’

সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবও দেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ এবং স্টিং অপারেশনের সব অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, ওই ভিডিওটা নকল, ট্যাম্পার করে আমার মুখ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ যদিও, তাঁর বক্তব্য ধোঁপে টেকেনি।

  • মনিকা বেদি

মনিকা বেদির সাথে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেমের প্রেমের গল্পটা এক সময় বলিউডের টক অব দ্য টানি ছিল। সেই সুবাদে অনেকবারই তাঁকে পুলিশ স্টেশনে এসে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় মনিকাকে। সালেম চাইতেন মনিকা যেন বলিউডের শীর্ষ নায়িকার আসন দখল করে।

এ জন্য তিনি সুভাষ ঘাই, রাজীব রায়ের মতো বাঘা বাঘা পরিচালকদেরও হুমকি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। এরপর, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ২০০২ সালে পর্তুগালের লিসবন শহরে পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে দুজনই গ্রেপ্তার হন।

নিজের পরিচয় গোপনের অপরাধে তাকে আড়াই বছর জেলে কাটাতে হয়। জেল থেকে ছাড়া পান ২০১০ সালে। এরপর তিনি টেলিভিশন রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এ অংশ নেন। কয়েকটা সিরিয়ালও করেন, তবে হারানো জায়গা ফিরে পাননি।

  • শাইনি আহুজা

‘গ্যাংস্টার’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, কিংবা ‘ভুল ভুলাইয়া’ সিনেমা করে যে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি, তার সব তিনি বিসর্জন দেন ২০০৯ সালে। ‍গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে নিজের দোষ স্বীকার করেন তিনি। ২০১১ সালে তাঁর সাত বছরের জেল হয়। যদিও, ২০১১ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জনপ্রিয়তা কমে গেলেও এখনো কোনো ক্রমে বলিউডে টিকে আছেন আহুজা। সর্বশেষ ২০১৫ সালে তিনি ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সিনেমায় ছোট একটা চরিত্র করেন।

  • মন্দাকিনি

ভারতীয় আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশিত ২০১১ সালের বিশ্বের ভয়াবহ ১০ অপরাধীর তালিকায় দাউদ ইব্রাহিমের নাম ছিলো তৃতীয় স্থানে। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীদের তালিকায়ও তার নাম শুরুর দিকে। গুঞ্জন রয়েছে, ‘রাম তেরি গঙ্গা মাইলি’ খ্যাত নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী মন্দাকিনীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। কেউ কেউ বলেন দুবাইয়ে তারা বিয়ে করেন, এবং তাদের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে।

বলা হয়, দাউদ নাকি নিজের প্রভাব খাটিয়ে মন্দাকিনিকে সিনেমা পাইয়ে দিতেন। পরে দাউদ দুবাইয়ে আত্মগোপনে চলে যান। মন্দাকিনিও বিয়ে করে সংসারি হয়ে যান। আর কখনোই তিনি বলিউডে ফেরেননি।

১৯৮৫ সালের সিনেমা ‘রাম তেরি গাঙ্গা ম্যায়লি’। ঝর্ণার পানিতে সিক্ত সফেদ শাড়ির মন্দাকিনিকে দেখে অনেক পুরুষের বুকেই ঝড় ওঠে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের বেতাজ বাদশাহ দাউদ ইব্রাহিমও। ১৯৯৪ সালে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এই দু’জনের একটা ছবিও বেশ ভাইরাল হয়।

  • আমান ভার্মা

একটা সময় ছিল টেলিভিশনে আমান ভার্মা বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। বলিউডি সিনেমা গুলোতেও ছোট ছোট, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছও রোল পেতেন। তবে শক্তি কাপুরের মতই তিনিও স্টিং অপরারেশনে ফেঁসে যান। সেখানে তাঁকে সিরিয়ালে চরিত্র দেওয়ার বিনিময়ে ছদ্মবেশী নায়িকার সাথে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিতে দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর নিজেরই কাজ পাওয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।