বার্গার গেট কেলেঙ্কারি থেকে বিশ্বকাপ জয়ের দুয়ারে

২০১১ সালের কথা। ইডেন হ্যাজার্জের বয়স তখন মাত্র ২০ বছর। তখনই লিলে ও বেলজিয়াম জাতীয় দলের ক্যারিয়ারটা বছর দুয়েক হল শুরু করেছেন হ্যাজার্ড। তবে, শুরু হতে না হতেই মেজাজ হারিয়ে ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে বসেছিলেন হ্যাজার্ড।

বিশ্বকাপের শিরোপা থেকে বেলজিয়াম যখন আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে তখন কি হ্যাজার্ডের একবারও সেই দিনটির কথা মনে পড়বে না? ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় চেলসির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কি একবারও ক্যারিয়ারের শুরুটা নিয়ে ভাববেন না?

২০১১ সালের জুনে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের ম্যাচ ছিল তুরস্কের বিপক্ষে। সেদিনই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিব্রতকর মুহূর্তের সামনে পড়েন হ্যাজার্ড। কোচ জর্জ লিকিন্স ম্যাচের ৬০ মিনিটে হ্যাজার্ডের বদলী নামানোর সিদ্ধান্ত নিলে তিনি মেজাজ হারান, মাঠ থেকে বের হয়ে কোচের সাথে হাত মেলাতেও অস্বীকৃতি জানান।

শুধু তাই নয়, তিনি ঝড়ের গতিতে টানেল দিয়ে বের হয়ে রীতিমত  স্টেডিয়াম ত্যাগ করে বের হয়ে যান। এই পর্যায়ের ম্যাচে এসেও কেউ তাঁকে সেদিন আটকাতে পারেনি। পরে দেখা যায় ব্রাসেলের একটা ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্টে তিনি পরিবারের বাকিদের সাথে গিয়ে হ্যামবার্গার খাচ্ছেন।

শৃঙ্খলাভঙ্গের এমন ভয়াবহ নজীর সৃষ্টির পর গণমাধ্যমের চোখে ভিলেনে পরিণত হন তিনি। লিকিন্স তাঁকে সেবার দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেন। বেলজিয়াম সেবার ২০১২ সালের ইউরোর জন্য বাছাইপর্বের বাঁধা পেরোতে পারেনি। খেলতে পারেনি ২০১০ বিশ্বকাপেও।

রবার্তো মার্টিনেজের যুগে বসে অবশ্য সেসব দিনের কথা স্মরণ করে আক্ষেপ করার কোনো কারণ নেই্ কারণ, এবার ফ্রান্সের বিপক্ষেই তো আজ নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটা খেলতে মাঠে নামছে বেলজিয়াম।

আর সেই দলের অধিনায়ক স্ময়ং হ্যাজার্জ। কোচ মার্টিনেজ বলেন, ‘হ্যাজার্ড অসাধারণ এক অধিনায়ক, দারুণ এক নেতা। ও এমন একজন খেলোয়াড় যার আলাদা একটা ধরণ আছে। আর ওর এই ধরণটা আমার পছন্দ।’

রাশিয়ায় বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে হ্যাজার্ড পারফরম্যান্স দিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন নেইমার, লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের। আর এমন পারফরম্যান্স এবার তাঁকে ব্যালন ডি’অর পাওয়ার দৌঁড়েও রাখবে।

গুজব আছে এই গ্রীষ্মেই ইতালির ক্লাব জুভেন্টাসে যাবেন রোনালদো। এই সুবাদে রিয়ালে জায়গা হতে পারে হ্যাজার্ডের – এমন গুজবও ভাসছে বাতাসে। তবে, এর চেয়েও বড় আকাশ ছোবার সুযোগ এবারই আসছে হ্যাজার্ডের সামনে। আর মাত্র দু’টি জয়, ব্যস তাহলে অমরত্ব ছুয়ে ফেলবেন হ্যাজার্ড!

– মার্কা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।