বুবলিগিরি: সংবাদ পাঠিকা থেকে ঢালিউডের আচমকা ঝড়

তিনি শুরু করেছিলেন সংবাদ পাঠিকা হিসাবে। প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের সংবাদ পাঠিকা হুট করে নায়িকা হয়ে যাবেন তা বোধহয় তিনি নিজেও ভাবতে পারেননি। পাশের বাড়ির মেয়ের মতো চেহারার মেয়েটি বছর দুয়েক আগে শামীম আহমেদ রনির সিনেমা ‘বসগিরি’ দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন।

জীবনের প্রথম চলচ্চিত্রে নিজের বিপরীতে পেয়ে যান দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ককে। তারপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে কাজ করে গেছেন। অন্য নায়িকারা যখন একটি সিনেমার জন্য হা-পিত্যেশ করেন সেখানে তিনি নিয়মিতই সিনেমায় কাজ করছেন, শুধু তাই নয় সফলও হচ্ছেন। অভিষেকের পর প্রায় প্রতিটি ঈদেই দেখা মিলছে বুবলির, সিনেমাহলে।

তিনি বুবলি, শবনম ইয়াসমিন বুবলি। তিনি কখনো অভিনয় করেননি। না মঞ্চে, না টেলিভিশনে। বিজ্ঞাপনেও তাকে দেখা যায়নি অতীতে। তিনি সিনেমায় এসেছেন আচমকা। শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করতে এসে রাতারাতি হইচই ফেলে দিয়েছেন তিনি। তার ছবির গান ঝড় তুলেছে ইউটিউবে।

তাকে নিয়ে গড়ে উঠেছে ফ্যান ক্লাব। স‌োশাল মিডিয়া রীতিমতো আলোচিত নাম শবনম ইয়াসমিন বুবলি। প্রতিটি সিনেমা গ্রুপে তাকে নিয়ে চর্চা হয় নিয়ম করে। কখনো ইতিবাচক কখনোবা নেতিবাচকভাবে।

সম্প্রতি তিনি কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনে। প্রথমবার একটি সাবানের বিজ্ঞাপনের মডেল হলেন বুবলি। প্রথম কাজ হলেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। অংশ নিয়েছেন প্রথম সারির দৈনিকের বিশেষ ফটোশুটে। নিজেকে চেনাচ্ছেন নতুন করে। বিভিন্ন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তাকে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত।

বুবলির অভিনয় প্রতিটি চলচ্চিত্রে উন্নত হচ্ছে, অন্তত যারা তার কাজ দেখেছেন তারা তাই বলছেন। প্রথম ছবির বুবলির সঙ্গে সর্বশেষ ছবির বুবলির ঢের পার্থক্য বিদ্যমান। শুরুতে অভিনয়ে দুর্বলতা থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়, নিজেকে ধীরে ধীরে পরিণত করাটাই শিল্পীর বড় গুণ।

 

বুবলি নায়িকা হয়ে শুরু করেছেন, আস্তে আস্তে অভিনেত্রীও হয়ে উঠছেন। নায়িকা ভালো চেহারা, ফিগার থাকলে অনেকেই হতে পারে কিন্তু অভিনেত্রী হওয়া সহজ নয়, পাড়ি দিতে হয় দুর্গম পথ। বুবলি সে পথে হাঁটছেন। শাকিব খানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন বুবলি তার সাম্প্রতিক দুটো চলচ্চিত্র ‘চিটাইঙ্গা পোয়া ও নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ এবং ‘সুপার হিরো’ চলচ্চিত্রে।

বিশেষ করে নোয়াখালীর মেয়ের চরিত্রে সোনাইমুড়িতে জন্ম নেয়া বুবলি ছিলেন অত্যন্ত সাবলিল। একশান চরিত্রেও বুবলি অভিনয় প্রতিভা মেলে ধরেছেন শাকিব খানের পাশাপাশি। সামনের চলচ্চিত্রগুলোতে আরো পরিণত বুবলিকে পাওয়া যাবে সে আশা করাটা তাই দোষের কিছু নয়।

দেশের চলচ্চিত্রে নায়কের যেমন সংকট দেখা যায় নায়িকারও তেমন সংকট। মিম, ফারিয়া, পরিমনিসহ যারা আছেন তারা মূল্যায়িত হচ্ছেন না। বুবলি যে সুযোগ পেয়েছেন তাতে তিনি একটি ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে গেছেন। তাকে ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে হলে কাজ করতে হবে সকলের সঙ্গে, নানান গল্পে। চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি তিনি বৈচিত্র্যের জন্য কাজ করতে পারেন নাটকেও; তবে অবশ্যই তা যদি মানসম্পন্ন হয়।

একজন নতুন চলচ্চিত্রের নায়িকাকে তীর্যক নয় গঠনমূলক সমালোচনা করে, উৎসাহ দিয়ে যেতে হবে চলচ্চিত্রের স্বার্থে; তবেই না তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন ভবিষ্যতের জন্য। টিকে থাকতে পারবেন চলচ্চিত্রাঙ্গনে। শুভকামনা রইলো ‘নোয়াখাইল্লা মাইয়া’ বুবলির জন্য।

বুবলির যতো চলচ্চিত্র (মুক্তিপ্রাপ্ত)

বসগিরি (পরিচালনা: শামীম আহমেদ রনি)

শুটার (পরিচালনা: রাজু চৌধুরী)

অহংকার (পরিচালনা: শাহাদাৎ হোসেন লিটন)

রংবাজ (পরিচালনা: শামীম আহমেদ রনি)

সুপার হিরো (পরিচালনা: আশিকুর রহমান)

চিটাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া (পরিচালনা: উত্তম আকাশ)

 

বুবলির বিজ্ঞাপন

  • তিব্বত লাক্সারী সোপ

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।