রাজকীয় বিয়ের ভুতুড়ে সব রীতি

বিয়ে মানেই সেখানে রীতিনীতির বাধ্যবাধকতা থাকবে। আর রাজ পরিবারের বিয়ে মানেই যেমন বাড়তি জাকজমক, তেমনি বাড়তি রীতিনীতির অনুপ্রবেশও বটে। ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ব্রিটিশ রাজপরিবার নিজেদের বিয়েতে এমন সব নিয়ম মেনে চলে যা সাধারণের কাছে ভুতুড়ে মনে হতে বাধ্য।

  • বিশেষ অনুমতি

ক্রাউন অ্যাক্ট ২০১৩ অনুযায়ী মুকুটের উত্তরসুরীদের মধ্যে প্রথম ছয়জনকে বিয়ের জন্য রানীর অনুমতি লাগে। প্রিন্স হ্যারি হলেন ছয় নম্বরে। গত ১৪ মার্চ মেগান মার্কেলকে বিয়ে করতেও তাঁর বিশেষ অনুমতি নিতে হয়েছে।

  • আংটি

রাজপরিবারের বিয়ের আংটি যেন যেত হলে চলবে না। হতে হবে ওয়েলশ গোল্ড রিং। সেই ১৯২৩ সাল থেকে এই রীতি চলে আসছে। রানী এলিজাবেথের মা এই ধারার প্রচলন করেন। এরপর দ্বিতীয় এলিজাবেথ, ডায়ানা, ক্যাথেরিন, ডাচেস অব ক্যামব্রিজ, ক্যামিলা, ডাচেস অব কর্নওয়াল কিংবা মেগান মার্কেল সবাই বাগদানে এই আংটি পরেন। যদিও, সেটা কিছুক্ষণ বাদেই স্বয়ং রানীকে দিয়ে দিতে হয়।

  • বিয়ের ফুল

বিয়ের ফুল রাজপরিবারে অন্যান্য খ্রিষ্টান পরিবারের মত ছুড়ে মারা হয় না, বরং ফুলটা দেওয়া হয় লন্ডনের ওয়েস্টমিন্সটার অ্যাবির কোনো শহীদের সমাধিতে। রানী এলিজাবেথের মা এলিজাবেথ বোওস-লিও এই ধারা চালু করেন। তিনি এটা করেছিলেন ১৯১৫ সালে লু-এর যুদ্ধে মারা যাওয়া সৈনিক ও তাঁর ভাই ফারগাসের জন্য।

  • আনুষ্ঠানিক পারিবারিক ছবি

আনুষ্ঠানিক পারিবারিক ছবি তোলা বিয়েরই একটা অংশ। এটা বিয়ে ও রিসেপশনের অনুষ্ঠানের মাঝে হয়। ব্রিটিশ রাজা কিং সপ্তম এডওয়ার্ড এর সূচনা করেন। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল তাঁদের বিয়ের জন্য বিখ্যাত ফ্যাশন ফটোগ্রাফার অ্যালেক্সি লুবোমিরস্কিকে নিয়োগ দেন।

  • বরের সেনাবাহিনীর পোশাক

ব্রিটিশ রাজ পরিবারের প্রতিটি সদস্যকেই দেশটির সেনাবাহিনীর হয়ে কাপ করতে হয়। ফলে, প্রত্যেকেরই আলাদা একটা রেজিমেন্ট ও একটা পদবী থাকে। বিয়েতেও তাঁদের বিয়ের পোশাক নয়, বরং সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করতে হয়।

  • কনের পোশাকটাও প্রতীক

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বিয়ে করেন। ১৯৪৭ সালে। তাঁর বিয়ের পোশাকে ছিল ফুলের নকশা কাটা। সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তির বার্তা বহন করে। মেগান, ডাচেস অব সাসেক্স লম্বা ওরনায় ছিল ৫৩টি ফুল যা কি না কমনওয়েলথ অন্তর্ভূক্ত ৫৩ টি দেশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটা করার একটা কারণও আছে। কারণ রানী এলিজাবেথ হলেন পদাধিকার বলে কমনওয়েলথের প্রধান আর প্রিন্স হ্যারি হলেন কমনওয়েলথের ইয়থ অ্যাম্বাসেডর।

  • কিছু নতুন, কিছু পুরনো, কিছু অন্যের

ব্রিটিশ বধুর শরীরে যে গহনা দেখা যায় তাঁর সব কিন্তু তাঁর নিজের না। এমনিতে রাজপরিবারের ‘নিজস্ব’ বলে কিছু নেই। সব কিছুই রানীর সম্পত্তি। যেমন কেট মিডলটন বিয়েতে যে হিরার কানের দুল পরেছিলেন সেটা তাঁর বাবা-মার দেওয়া, মাথায় যে টায়রা পড়েছিলেন সেটা ছিল রানীর কাছ থেকে ধার করে নিয়ে পরা।

  • অতিথিদের পোশাক

১৯৫০-এর দশকের আগে উচ্চবিত্ত কিংবা রাজপরিবারের নারীরা প্রকাশ্যে নিজেদের চুল দেখাতেন না। এটাই রীতি। সেজন্য রাজপরিবারের বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিদের মাথায় টুপি বা হ্যাট পরা অবস্থায় দেখা যায়। আর রাজপরিবারের নিয়ম হল দিনের কোনো অনুষ্ঠানে পরতে হবে হ্যাট। আর সন্ধ্যার পরের অনুষ্ঠানে পরতে হবে টায়রা।

  • বিয়ের কেক

রাজকীয় বিয়ের কেকও রাজকীয়। প্রিন্স উইলিয়াম ও কেটের বিয়ের কেক বানাতে লেগেছে পাঁচদিন সময়। মেগান আর হ্যারির কেকটা ছিল লেমন কেক, সাথে ছিল এল্ডার ফ্লাওয়ার সিরাপ। এখানে লেগেছে ২০০ টি লেবু ও ১০ বোতল সিরাপ।

অতিথিদের মধ্যে কেক বিতরণের ভঙ্গীটাও ভিন্ন রকম। কেকটা দেওয়া হয় একটা টিনের বাক্সে, সাথে থাকে একটা থ্যাংক ইউ কার্ড। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে এক টুকরা কেক রেখে দেওয়া হয়। সেটা পরবর্তীতে নিলামে তোলা হয়। এটাও একটা ঐতিহ্যবাহী রীতি।

– ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।