বিশ্বকাপহীন ৩২ বছর বনাম সেভেন-আপ

– ভাই,আর্জেন্টিনা এই শতকে কোন ট্রফি জিতে নাই।

– দোস্ত,ব্রাজিল জার্মানির কাছে ৭ গোল খেয়েছে,তাই না?

কথাগুলো যখন শুনি,তখন বুঝতে পারি এদের কাছে দল সমর্থন করা মানে শুধু বিপক্ষ দলকে সমালোচনা করা আর নিজের দলের সফলতা।

একটা দল মানুষ কখন সমর্থন করবে, তার জন্য দায়ী থাকে তার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ। দলের সাফল্য প্রভাব ফেলে না সবসময়।কয়েকদিন আগে টিভিতে বিশ্বকাপ নিয়ে একটা আবেগী বিজ্ঞাপন দেখলাম।এক পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম আর্জেন্টিনা সমর্থন করে যাচ্ছে। ঝালমুড়ির দাম বাড়ে, বাবা মারা যায় তবুও প্রিয় দলটার নাম থাকে আর্জেন্টিনা। এটাই আবেগ, যার সাথে আপনি মিলাতে পারবেন না দুনিয়ার কোন কিছুকেই।

গত বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৭ টা গোল খাবার পরও কি এবার ব্রাজিল সমর্থকরা হেক্সা জয়ের স্বপ্ন দেখছে না? তারা কি ভাবছে না নেইমার সকল প্রতিকূলতা দূর করে বিশ্বকাপ এনে দিবে তাদের? এর নামই ফুটবল যা আপনাকে দেখাবে অজস্র স্বপ্ন।

লিভারপুল সর্বশেষ ঘরোয়া লিগে শিরোপা জিতেছিল ২৮ বছর আগে। তাদের সমর্থকরা কি ‘ইউ নেভার ওয়াক অ্যালোন’ গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৮ টা গোল হজম করার পর কি আর্সেনাল সমর্থকেরা কি এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর যায় না?সমর্থকদের বছরের পর বছর ট্রফি উপহার না দিতে পারা ওয়েস্টহাম ইউনাইটেডের সমর্থকেরা কি দল সমর্থন করা বাদ দিয়েছে?সব কয়টি প্রশ্নের জবাব হল ‘না’।

ফুটবল হল এই গ্রহের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী খেলা। বায়ার্ন মিউনিখ গোলরক্ষক উলেরিখ আর লিভারপুল গোলরক্ষক কারিউস রিয়াল মাদ্রিদের সাথে ম্যাচের পর ঘুমাতে পেরেছিলেন কি না তা কারো অজানা নয়। এটা এমন একটা খেলা, যা আপনাকে কষ্টে ঘুমাতে দিবে না। আবার এটাও সত্য, এই খেলা থেকে পাওয়া আনন্দও আপনাকে ঘুমাকে দেবে না বহুরাত।

এর নামই ফুটবল। ফুটবলের জন্য থেমে যায় গৃহযুদ্ধ। ফুটবলারের আহবানে আলোচনার টেবিলে বসে যুদ্ধরত দুই শত্রুপক্ষ। এর নামই ফুটবল, কারো কাছে জীবনের আরেক নাম।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের আকাশে হয়তো উড়বে অনেকগুলো দেশের ফুটবলের প্রতীক। প্রিয় খেলোয়াড় ও প্রিয় দলের খেলা দেখে মোহাবিষ্ট হবে কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী। স্বপ্নে বুক বাঁধবে তারা। প্রতিবারের মত এবারো চাওয়া, যেন কারো অনাকাঙ্খিত মৃত্যু না ঘটে, কোন পরিবার যেন স্বজনহারা না হয়। আনন্দময় হোক সবার বিশ্বকাপ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।