বলিউডের পর্দায় সাহসী নারীর গল্প

পর্দার ছবি মানে দর্শকদের চোখে ভেসে আসে নায়কদের অতিমানবীয় কাণ্ডকীর্তি। আর উপমহাদেশে সে মাত্রাটা একটু বেশিই। তবে বিভিন্ন সময় চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে নারীদেরকেও দেখা গেছে মুগ্ধতা ছড়াতে। নারীকেন্দ্রিক এই ছবিগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্যও অবাক করার মতো। বিশ্ব নারী দিবসে বলিউডের নারী কেন্দ্রিক অন্যতম সেরা ১০ দশটি চলচ্চিত্র নিয়ে আমাদের বিশেষ আয়োজন।

মাদার ইন্ডিয়া (১৯৫৭)

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নারী কেন্দ্রিক চরিত্র নিয়ে নির্মিত ‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবিটিকে ধরা হয় সব সময়ের সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে। নার্গিস দত্ত অভিনীত এ ছবিটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে বলিউড জুড়ে। ছবিটিতে নার্গিস অভিনয় করেন রাধা নামের একজন গ্রাম্য নারীর চরিত্রে। যেখানে রাধাকে দেখানো হয়- সবসময় সত্য ও সুন্দরের জন্য লড়াই করা এক নারী হিসেবে। আর সেই সত্যের বিজয়ের জন্য নিজের ছেলেকেও মৃত্যুদন্ড দেন রাধা।যিনি কিনা এমন ন্যায় বিচারের জন্য গ্রাম জুড়ে মাদার ইন্ডিয়া খেতাব পান। নার্গিস দত্ত এই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার অর্জন করেন। মেহবুব খানের এই ছবিটি দিয়েই বলিউডের অস্কারযাত্রা শুরু হয়।

ব্যান্ডিট কুইন (১৯৯৫)

‘ব্যান্ডিট কুইন’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয় এই ছবিটি। ফুলন দেবীর বৈচিত্রময় জীবন ফুটিয়ে তোলা হয় ‘বন্দিত কুইন’ ছবিটিতে।যিনি কিনা ডাকাতি করে লুট করা মালামাল ভাগ করে দিতেন ভারতের গরীব জনগণের মাঝে। অনেকটা আধুনিক যুগের রবিন হুডের কাজটাই করতেন ফুলন দেবী। শেখর কাপুরের এই ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পান সীমা বিশ্বাস।

চাঁদনী বার (২০০১)

মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাহিনি অবলম্বনে নির্মাণ করা হয় ‘চাঁদনী বার’। ছবিটিতে বার ড্যান্সার হিসেবে অভিনয় করেন অভিনেত্রী টাবু। ছবির এক পর্যায়ে টাবু এক গ্যাংস্টারের সন্তানের মা হন। কিছুদিন পরই গ্যাংস্টার পুলিশি এনকাউন্টারে মারা পড়েন। তারপরই শুরু হয় পিতৃহীন সন্তান নিয়ে টাবুর একা একা জীবন সংগ্রামের গল্প। ছবিটিতে বেশ খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দেন টাবু, পাশাপাশি অনবদ্য অভিনয়ে ঘরে তুলে নেন জাতীয় পুরস্কার।

লজ্জা (২০০১)

নারীকেন্দ্রীক ছবি হিসেবে রাজকুমার সন্তোষির এই ছবিটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলো তারকাবহুল ছবি ‘লজ্জা’। ছবিটিতে একই সাথে অভিনয় করেন মনীষা কৈরালা, মাধুরী দিক্ষীত, মাহিমা চৌধুরী ও রেখা। ছবিটিতে ভারতীয় সমাজে নারীর প্রতি পুরুষের আগ্রাসন ফুটিয়েয়ে তোলা হয়েছিলো। ছবিটিতে আরো ছিলেন অনিল কাপুর, অজয় দেবগন, জ্যাকি শ্রফ।

ফ্যাশন (২০০৮)

মধুর ভান্ডারকার পরিচালিত ছবি ‘ফ্যাশন’। সেসময় ছবিটি বলিউডের মডেল জগতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছবিটিতে অভিনয় করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কঙ্গনা রানাওয়াত সহ আরো অনেকেই। ছবিটিতে মূলত মডেলিংয়ে নারী মডেলদের নিগৃহের একটা চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। অনবদ্য অভিনয়ে সেই বছরের জাতীয় পুরস্কার সহ সব পুরস্কার ই ঘরে তুলেন প্রিয়াঙ্কা ও কঙ্গনা।

নো ওয়ান কিলড জেসিকা (২০১১)

দিল্লির মডেল জেসিকা লাল খুন হন এক প্রভাবশালী নেতার ছেলে মনু শর্মার হাতে। দীর্ঘদিন বিচার চলার পর প্রমাণের অভাবে নির্দোষ সাব্যস্ত হন মনু। কিন্তু পরে মিডিয়ার চাপে আবারও শুরু হয় বিচার। এবার দোষী সাব্যস্ত হন মনু, তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রানিত এই ছবিতে সাংবাদিকের ভূমিকায় অভিনয় করেন রানী মুখার্জি, জেসিকার বোনের চরিত্রে ছিলেন বিদ্যা বালান। একটি হত্যারহস্য সবার সামনে তুলে আনতে সাংবাদিক চরিত্রে রানী মুখার্জির অভিনয় জিতে নেয় ফিল্মফেয়ারে সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার।

ডার্টি পিকচার (২০১১)

দক্ষিণের নায়িকা সিল্ক স্মিতার জীবনী নিয়ে বানানো ‘ডার্টি পিকচার’ ছবিটি বলিউডে নারী কেন্দ্রিক চলচ্চিত্র গুলোর ভেতর সবচেয়ে বেশি আলোচিত হওয়া ছবি। এই ছবিতে সিল্ক স্মিতার চরিত্রে অভিনয় করে বিদ্যা বালান জাতীয় পুরস্কার সহ সম্ভাব্য সকল পুরস্কার জিতে নেন। ছবিটিতে খোলামেলা পোশাকে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন বলিউড গ্ল্যামার বিদ্যা।আশির’র দশকে সিল্ক স্মিতার ক্যারিয়ারের উত্থান পতনের গল্পগুলোই স্থান পেয়েছে এই ছবিতে।

কাহানি (২০১২)

বিদ্যা বাগচী নামে এক গর্ভবতী নারী ভারতে আসেন তার স্বামীকে খুজতে। আর সে জন্য শরন্নাপন্ন হন পুলিশের। কিন্তু পুলিশ তার স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে অন্য এক গল্প আবিষ্কার করে। পুরো ছবিটি একাই বিদ্যা বালান তার অভিনয় নৈপুন্য দিয়ে টেনে নেন। সুজয় ঘোষের এই ছবির জন্য বিদ্যা বালান ফিল্মফেয়ার সহ বেশকিছু পুরস্কার লাভ করে।

কুইন (২০১৪)

ভিকাস বেহেলের ‘কুইন’ দিল্লির রক্ষণশীল পরিবারের অতিসাধারণ এক মেয়ের গল্প বলে যে ঘরের বাইরে একা কখনো পা রাখেনি। রানি নামের সেই মেয়েটিই একা একা প্যারিস ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর। আর সেই যাত্রাতেই রানি আবিষ্কার করে নারী হিসেবে তার স্বাধীন সত্বাকে। সিনেমাশেষে রানির আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে যায় দর্শকদের মাঝেও, রানী চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ে কঙ্গনা পান জাতীয় পুরস্কার সহ বছরের সব কটি পুরস্কার।

পিংক (২০১৬)

কোনো মেয়ের ‘না’ শব্দের উপর জোর কাটানো যায় না,যদি করা হয় সেটা পৌরষহীনতার প্রতীক।এটিই দর্শকদের মাঝে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী তুলে ধরেন তার নারীবাদী সিনেমা ‘পিংক’। এ ছবিটি মুক্তি পাবার পরই দর্শক ও সমালোচকদের মাঝে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে। দক্ষিনী নায়িকা তাপসী পান্নুর অনবদ্য অভিনয়ের পাশাপাশি বিশেষ চরিত্রে অমিতাভ বচ্চনের অভিনয় সিনেমাটিকে প্রানবন্ত করে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।