বিপিএল যাদের জন্য বঞ্চনা

সৈয়দ রাসেল, জাতীয় দলের সাবেক পেসার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ইনজুরি থেকে ফিরে প্রিমিয়ার লিগের দু’টো মৌসুম খেললাম। তারপরও বিপিএলে ড্রাফটে নাম থাকার যোগ্যতা হল না।’ নি:সন্দেহে রাসেলের জন্য বিপিএল বড় আক্ষেপের নাম। এই তালিকায় আরো অনেক প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার আছেন, যারা প্লেয়ার্স ড্রাফটে থেকেও কোনো দল পাননি।

  • শাহরিয়ার নাফিস

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তিনি। বিপিএলের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি তাঁর। গেল আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেললেও এবার প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে কেউই দলে নেয়নি জাতীয় দলের এক সময়কার এই ওপেনারকে। অথচ জাতীয় লিগ কিংবা ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে রানের মধ্যেই ছিলেন তিনি।

  • আব্দুর রাজ্জাক

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) যারা খেলার সুযোগ পেয়েছেন, সেই হাতে গোনা কয়েকজন ক্রিকেটারের একজন তিনি। চলতি বছরের শুরুতেও টেস্ট খেলেছেন। অথচ, তিনি বিপিএলে দল পাননি এবার, গতবার ছিলেন রংপুর রাইডার্সে। টি-টোয়েন্টিতে যদিও তিনি ১০০ ছুঁইছুই উইকেটের মালিক।

  • মুক্তার আলী

প্রথম শ্রেণির ম্যাচে এক ইনিংসে ১৬ টি ছক্কা মারার কীর্তি আছে তাঁর। বোঝাই যাচ্ছে, জাতীয় দলের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা মুক্তার আলীর হার্ড হিটিং সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় নেই। যদিও, বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে এখন অবধি তিনি কোনো দল পাননি।

  • দেশি লেগস্পিনারহীন বিপিএল

একজন সেরা মানের লেগ স্পিনার নেই – এই আক্ষেপ বাংলাদেশের অনেকদিনের। চান্দিকা হাতুরুসিংহে কোচ থাকাকালে কখনো জুবায়ের হোসেন লিখন, কখনো তানবীর হায়দারকে দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। কেউই অবশ্য সেই ভরসার প্রতিদান দিতে পারেননি।

যদিও, বাংলাদেশের লেগস্পিনারদের বরাবরই একটা আক্ষেপ হল, তারা নিজেদের প্রমাণের জন্য কোনো মোক্ষম জায়গাই খুঁজে পান না। সাম্প্রতিক সময়ে যে তিনজন লেগ স্পিনারের নাম শোনা যায়, মানে লিখন, তানবীর ও যুব দলের রিশাদ হোসেন – কেউই বিপিএলে দল পাননি।

এর মধ্যে লিখন চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলছেন। একটা ম্যাচে ছয় উইকেট পাওয়ার পরই তাঁকে বসিয়ে রেখেছেন চট্টগ্রাম বিভাগ। রিশাদ সদ্য শেষ হওয়া যুব এশিয়া কাপ ক্রিকেটের চার ম্যাচে আট উইকেট পেয়েছেন। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই তাঁর বিপিএলে একটা দল পাওয়া উচিৎ ছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অবশ্য মালিক পক্ষের দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় কই!

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রান করা তুষার ইমরানকেও কেউ নেয়নি। এছাড়া রানের মধ্যে থাকা নাঈম ইসলাম আবারো বঞ্চিত হয়েছেন। নাজমুল হোসেন মিলন, ইরফান শুক্কুর, সাকলাইন সজীব, ধীমান ঘোষ, ইলিয়াস সানীর মতো নিয়মিত বিপিএলে খেলা ক্রিকেটাররাও এবার দল পাননি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।