ডিয়ার বিসিবি, চাপিয়ে দিয়ে প্রতিভা বের হয় না!

খবর হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নাকি চাচ্ছে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রতি দলে বিদেশি পেসারদের গতি হতে হবে ১৪০ এর উপরে। একই সাথে প্রতি দলে একজন করে লেগ স্পিনার থাকতে হবে, এবং চার ওভার করেই বল করতে হবে।

এখন কিছু ব্যাপার মাথায় আসে। প্রথমত, ১৪০ স্পিড টা কিভাবে মাপা হবে? আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফুটেজ দেখে গড় গতি মাপা হবে? কিন্তু ওই ক্রিকেটার যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলে? এখন তো ১০৫ দেশ টি টোয়েন্টি খেলে। বিভিন্ন এসোসিয়েট দেশ থেকে প্লেয়ার যারা আসবে, তাদের গতি কিভাবে মাপা হবে? বা ঘরোয়া লিগ খেলা বোলারদের?

একটা কাজ অবশ্য করা যায়। এই সুযোগে বিসিবি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে পাঠানো যায়। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে স্পিড গান নিয়ে ঘুরবেন উনারা। খুজে খুজে ১৪০ এর উপরে পেসার হান্ট করবেন বিশ্বব্যাপী। দেশের নাম ছড়িয়ে দিবেন ভানুয়াটু, বটসোয়ানা, জার্সি, এরকম বিভিন্ন ভিন্নধর্মী দেশে (নাম গুলো অপরিচিত হতে পারে, এরা সবাই আইসিসি সদস্য)।

ম্যাচের মধ্যে বোলাররা স্লোয়ার দিতে পারবে নাকি সেটাও জানতে মন চায়। কিংবা ক্লান্তিতে ভুল করে ১৩৯ এ বল করে ফেললে। কি হবে? বাইলজ কি বলে? সেটা কি বিমারের মতো করে একবার ওয়ার্নিং দেয়া হবে, পরের বার ব্যানড?

যাহোক, মজা করেই বললাম উপরের কথা গুলো। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা কি গতিময় বোলিং? আমার তা মনে হয় না। এর চেয়ে ছোট ছোট সুইং, ভালো লাইন লেংথের বোলিং, পার্ট টাইম স্পিন, লেগ স্পিন, এগুলোই বরং আরও বেশি দুর্বলতার জায়গা। সুতরাং ১৪০ এর পেসার এর মোকাবেলার চাইতে ব্যাটসম্যানদের মানসিক উন্নতির দিকে নজর দেয়া আর ১৪০ বল করতে পারা পেসার তৈরির কথাই হয়তো ভাবা উচিত!

লেগিদের কে সুযোগ দেয়া হচ্ছে, এটা দারুণ সংবাদ। কিন্তু তাই বলে এভাবে? জাতীয় লিগ-প্রিমিয়ার লিগে ব্যবস্থা না করে বিপিএলে বাঘের সামনে লেগিদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে। শেষ ওভারে দরকার ১৮ রান, মার খেতে থাকা লেগিকে বাধ্য হয়ে বল করাচ্ছে দল, যদি সেই বোলার ১৮ রান খেয়ে ম্যাচ হারিয়ে দেয়, তার আত্মবিশ্বাস কই যাবে? লিখন এই বছর খেলেছেনই একবার, তাহলে তার ম্যাচ খেলার ফিটনেস কি আদৌ আছে? অপ্রস্তুত অবস্থায় খেলে বাজে পারফর্ম করে ফেললে বরং হিতে বিপরীত হতে পারে, লেগিরা একবারেই উপেক্ষিত হয়ে যেতে পারেন, এই কথা কি কেউ ভেবেছেন?

এর চেয়ে এনসিএলে প্রতি দলে একটা করে লেগি খেলানোর নিয়ম কি করানো যেত না? এক সময়ে দেখতাম পেসারদের ইনজুরি কমাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওভারের লিমিট সেট করা হয়েছে (দিনে ১৫ ওভারের মতো), সেখানে লেগিদের জন্য দিনে ১৫ ওভারের মতো লিমিট করানো নিশ্চয়ই অসম্ভব না। বিপিএলের মতো প্রেশার টুর্নামেন্টের চাইতে জাতীয় লীগ নিঃসন্দেহে লেগিদের জন্য বেটার প্রস্তুতির মঞ্চ, কারণ আগে তো নিয়মিত ম্যাচ খেলে বেসিক ঠিক করতে হবে।

এই ধরণের অদ্ভত ও অবাস্তব কথাগুলো কি বংগবন্ধুর নামে করা বিপিএলের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা দিবে? বরং এতে কি টুর্নামেন্টের সুনাম নষ্ট হচ্ছে না? টুর্নামেন্টের দুই মাসও বাকি নাই, এই অবস্থায় টুর্নামেন্ট হওয়াটাই যেখানে সন্দেহের মধ্যে আছে, সেখানে এসব কথা বার্তা বলে লোক হাসানো যায়, কিন্তু মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়কে আকর্ষিত করা যায় না।

আমরা জানি পেস বোলিং, লেগ স্পিন – এগুলোতে আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত। আমরা চায়ের আড্ডায় হয়তো এভাবে বলিও যে লেগ স্পিনারদের চার ওভার বল করানো হোক, বিদেশি পেসার ১৪০ এর উপরে থাকলে আনা হোক। কিন্তু, বোর্ড তো আর সাধারণ মানুষ না। বোর্ডের একটা কথা অফিশিয়াল স্টেট্মেন্ট যেটা সবখানে ছড়িয়ে যাবে। সুতরাং, একটু চিন্তা ভাবনা করে কথা বলাই উত্তম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।