বর্ণপরিচয়: চেনা গল্পের জমাট ছবি

ভারতীয় বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে আর্টফিল্ম আর প্রেমের ছবির চর্চা বেশি হয়। থ্রিলার যে হয় না তা নয়, সংখ্যায় ওগুলোর চেয়ে কম। ব্যোমকেশের ছবিগুলো দর্শককে জমিয়ে রাখে। ব্যোমকেশ মানেই এখন চোখের সামনে আবির চট্টোপাধ্যায়ের বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয় ভাসে।

যিশু সেনগুপ্তও ব্যোমকেশ হয়েছিলেন। ভাবছেন, ব্যোমকেশ বক্সীর কোন মুভি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে? না! তবে, গোয়েন্দা আর লুকোচুরি ঠিকই থাকছে। যিশু আর আবির মিলে পর্দায় হাজির হয়েছেন একসাথে, ‘বর্ণপরিচয়’ নিয়ে।

‘আমি সব হারিয়ে একা, আমার পিছে ছুটতে ছুটতে সব হারিয়ে তুমিও একা …’ – আগুন, পানি, মাটি, বায়ু, পৃথিবী; বিশ্বব্রহ্মান্ডের পাঁচ মহাগুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একসঙ্গে যাদের বলা হয় ‘পঞ্চমহাভূত’! এসবকে খুন করার উপাদান বানিয়ে আগমন ঘটে এক সাইকো কিলারের! যার একটাই কথা- কেউ সারাজীবন বেঁচে থাকবে না, যদ্দিন আছো বর্ণপরিচয় ভুলে গেলে চলবে না।

ঘুষখোর, ইন্স্যুরেন্স দালাল, নেশাগ্রস্ত তরুণী; তার শিকার এইধরণের মানুষগুলো যারা সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে! একের পর এক খুন করে চললেও কোন ক্লু রাখছে না, পুলিশ তাই আন্দাজে তীর ছোঁড়ার মতো চালিয়ে যাচ্ছে তদন্ত। কিন্ত এভাবে আর কত?

গোয়েন্দা বিভাগের বড়কর্তা শরণাপন্ন হয় মদ্যপ, চাকরি ছেড়ে দেওয়া সাবেক অফিসার ধনঞ্জয়ের। খুনির সাথে কোথাও একটা সংযোগ আছে যার! ওই সাইকোর জন্যেই যে সব হারিয়ে আজ নিঃস্ব ধনঞ্জয়। শুরু হয় নতুন করে চোরপুলিশ খেলা!

চোখের সামনেই খুনি, অথচ বুঝতে পারছে না। সময় গড়ায়, সে আরো ভয়ানক হয়ে উঠে। স্বল্প আর মৃদুভাষী ভিলেনের ছুঁড়ে দেওয়া ওপেন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে নাকি হুট করে অপহরণ হওয়া ছেলেকে খুঁজবে ধনঞ্জয়?

চাকরি নিয়ে অতিমাত্রায় সিরিয়াসনেসের ফলে স্ত্রী সন্তান দূরে সরে গেছে। আরো একদফা এই চাকরির কারণেই বিপদের মুখে পরিবার। সাইকো কিলারের সঙ্গে এর কোন যোগসূত্র আছে?

আবির, যীশুদের অভিনয় নিয়ে বলার কিছু নেই। ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট সিনেমায় আটকে রাখার মতো গল্প না থাকলেও তাদের অভিনয়, যীশুর চমৎকারভাবে ধাঁধার সমাধান করা আর অনুমেয় তবে শেষে কী হবে এই উৎকন্ঠা বসিয়ে রাখবে।

গল্পের কথা বলার কারণ হলো- থ্রিলারপ্রেমীরা এইধরণের থ্রিলার মুভি দেখে অভ্যস্ত। আইএমডিবিতে রেটিংও মন্দের ভালো। তবে রেটিং দেখে দেখতে গেলে ভালকিছু মিস করবেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।