কালজয়ী হয়েও আসেনি বানিজ্যিক সাফল্য!

কিসের ভিত্তিতে একটা ছবি সফল হয়? স্টার পাওয়ার, যার ওপর নির্ভর করে দর্শকরা হলে ছুটে আসে? নাকি সমালোচকদের রেটিং, যাতে প্রভাবিত হয় দর্শকের রুচি? – এই প্রশ্নের কোনো মোক্ষম উত্তর আজ অবধি কেউ দিতে পারেনি। তবে, এমনও অনেক নজির আছে, যখন স্টার পাওয়ার ও সমালোচকদের ভাল রেটিং – দু’টোই থাকার পরও বক্স অফিসে ভাল ব্যবসা করতে পারেনি কিছু ছবি। কালক্রমে ছবিগুলো প্রত্যেকেই কালজয়ী হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শুরুর সেই আক্ষেপ আদৌ মিটেনি।

  • আন্দাজ আপনা আপনা (১৯৯৪)

বলিউডের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা কমেডি ছবি। তার ওপর কি জমকালো সব তারকা! সালমান খান, আমির খান, পরেশ রাওয়াল, শক্তি কাপুর, কারিশমা কাপুর, রাভিনা ট্যান্ডন – কে নেই! অথচ, বক্স অফিসের বানিজ্যে সাফল্যের মুখ দেখেনি কালজয়ী এই ছবিটি।

  • জানে ভি দো ইয়ারো (১৯৮৩)

এমন পলিটিক্যাল স্যাটায়ার বলিউডে হয়েছে গুটিকয়েক। ছবিটি অবশ্য মুক্তির সময় মোটেও সাফল্য পায়নি। যদিও, এতটাই গুরুত্ব এই ছবির যে ২০১২ সালে ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএফডিসি) ছবিটিকে আবারো মুক্তি দেয়।

  • দিল চাহতা হ্যায় (২০০১)

নিশ্চয় তালিকায় এই নামটা দেখে বড় একটা ধাক্কা খেয়েছেন। সত্যিই তাই, তিন বন্ধু জীবন নিয়ে নির্মিত ফারহান আখতারের অভিষেক ছবিটা বক্স অফিসে খুব ভাল চলেনি। অ্যাভারেজ তকমা নিয়ে ফিরে আসে। যদিও, বন্ধুত্বকে বোঝানোর জন্য এর চেয়ে ভাল কোনো ছবি বলিউডে আর নেই।

  • শোলে (১৯৭৫)

না, আপনি ভুল পড়েননি। ‘শোলে’ মুক্তির সাথে সাথেই আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি। দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। প্রথম সপ্তাহের মিডিয়া রিভিউও এত বাজে ছিল যে নির্মাতা রমেশ সিপ্পি কয়েকটা জায়গায় পরিবর্তন এনে আবারো মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। তখনই, প্রযোজকরা ছবির জমজমাট কিছু ডায়লোগ-সহ একটা সাউন্ডট্র্যাক মুক্তি দেয়। এই বিপণন কৌশলই বদলে দেয় ছবির ভবিষ্যৎ। ভারতের ইতিহাসেরই অন্যতম ব্যবসাসফল এই ছবি ওই বছর অনেকগুলো পুরস্কার জয় করে।

  • র‌্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে (২০০১)

ম্যাডিকে কে না ভালবাসে? র‌্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে’র গান ‍গুন গুন করে গায় না – এমন মানুষও কি আছে? যদিও, ছবিটি যখন মুক্তি পায় থিয়েটারে খুব বেশি লোক হাজির হননি। যদিও, টেলিভিশন চ্যানেলের টিআরপি থেকে ছবিটা পরবর্তীতে বিশাল আয় করে।

  • রকস্টার (২০১১)

ইমতিয়াজ আলীর সেরা কাজ, রণবীর কাপুরের অন্যতম সেরা কাজ – এত কিছুর পরও ছবিটা যখন প্রথম মুক্তি পেয়েছিল বক্স অফিসে ভাল চলেনি। শুরু থেকেই মিউজিক বেশ জনপ্রিয়তা পেলেও অনেকেই মনে করেছিলেন যে ছবির গল্পটা ততটা মোক্ষম নয়। কোনো ক্রমে সেমি হিট তকম পায় ছবিটি।

  • নায়ক (২০০১)

বিপণনের ব্যর্থতায় বক্স অফিসে পেরে ওঠেনি নায়ক। যদিও, টেলিভিশনে সম্প্রচার শুরু হওয়ার পর ছবিটার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়ে যায়। আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল যখন দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসলেন ২০১৫ সালে, তখন যেন সেই ছবির গল্পটাই বাস্তবে রূপ নিয়েছিল। শিবাজী রাওয়ের চরিত্রটি অনিল কাপুরের ক্যারিয়ারের জন্যও একটা বিরাট মাইলফলক।

– ইন্ডিয়া টাইমস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।