মায়ের চরিত্র করে কিংবদন্তি হয়েছেন যিনি

সদা হাস্যজ্জ্বল একটি ‍মুখ, মমতাময়ী একটা চেহারা। নব্বই দশকের বলিউডের ছবিতে মায়ের চরিত্রে তাঁর কোনো বিকল্পই যেন ছিল না। সালমান খান, শাহরুখ খান, সঞ্জয় দত্ত, গোবিন্দ, সাইফ আলী খান কিংবা আমির খান – সবারই মা হয়েছেন তিনি।

আশিকি, ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া, হাম আপকে হ্যায় কওন, হাম সাথ সাথ হ্যায়, সাজান, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, ইয়ে দিল্লাগি, কাল হো না হো, জড়ুয়া কিংবা বাস্তব – প্রতিটি ছবিতেই মায়ের চরিত্রগুলো যখন তিনি করেছেন, মনে হয়েছেন চরিত্রগুলো কেবল তাঁর জন্যই বানানো হয়েছে।

তিনি হলেন রিমা লাগু। যদিও, তাঁর আসল নাম নয়ন ভাড়ভাড়ে। মারাঠি অভিনেতা বিবে লাগুকে বিয়ে করে তিনি অভিনেত্রী হিসেবে রিমা লাগু নামটা নেন।

রিমার জন্ম মুম্বাইয়ে, ১৯৫৮ সালের ২১ জুন। তাঁর মা হলেন খ্যাতনামা মারাঠি অভিনেত্রী মন্দাকিনি ভাড়ভাড়ে। রিমার অভিনয় প্রতিভা শৈশব থেকেই বিকশিত হতে থাকে। হাই স্কুল শেষ করার পর তিনি পোশাদার অভিনয়ের তালিম নেন।

অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর সূচনা হয় মারাঠি মঞ্চ নাটকে। আর বড় পর্দায় প্রথম তিনি কাজ করেন মারাঠি ছবি ‘সিংহাসন’-এ। সেটা ১৯৭৯ সালের কথা। বলিউডে অভিষেক হয় এর পরের বছরই। ছবির নাম ‘কালযুগ’। অবশ্য ষাটের দশকেই তিনি শিশু শিল্পী হিসেবে নয়টি ছবি করে ফেলেছেন তিনি।

অভিনেত্রী হিসেবে বিগত তিন দশকে ১০০’র বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন রিমা। গাদাখানেক হিট-সুপারহিট ছবির মালিক তিনি। ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তাক (১৯৮৮), ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া (১৯৮৯), সাজান (১৯৯১), রাঙ্গিলা (১৯৯৫), হাম আপকে হ্যায় কওন (১৯৯৪), ইয়েহ দিল্লাগি (১৯৯৪), দিলওয়ালে (১৯৯৪), কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮), বাস্তব (১৯৯৯) কিংবা কাল হো না হো (২০০৩) – সবগুলোই বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পায়।

রিমা চারবার ফিল্মফেয়ারে সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রীর ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান। তবে, কখনোই পুরস্কার জিতেননি। ছবি চারটি হল – ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া, আশিকি, হাম আপকে হ্যায় কওন ও বাস্তব।

সিনেমাগুলোতে খুবই পারিবারিক-সামাজিক ঘরানার নারী হিসেবে দেখা যেত তাঁকে। যদিও, বাস্তবে বিবেক লাগুর সাথে রিমার সংসার খুব বেশিদিন দীর্ঘ হয়নি। এই দম্পতির মেয়ে ম্রুণ্ময়ী লাগুও একজন মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও পরিচালক।

নব্বই দশকে ভারতীয় টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিরও পরিচিত মুখ তিনি। ১৯৮৫ সালে দূরদর্শনের ধারাবাহিক ‘খানদান’-এ ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেন তিনি। এর আগে অবশ্য দু’একটি হিন্দি ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’ কিংবা ‘শ্রীমান শ্রীমতি’তে কেন্দ্রীয় চরিত্র করতেন তিনি।

বিশেষ করে তু তু ম্যায় ম্যায়-এ সুপ্রিয়া পিগলাওকারের সাথে তাঁর জুটি বেশ জমে গিয়েছিল। বলা উচিৎ, ছোট পর্দার জনপ্রিয়তাই তাকে বড় পর্দায় নিয়ে আসে। সর্বশেষ তাঁকে দেখা যায় মহেশ ভাটের সিরিয়াল ‘নামকরণ’-এ। জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি এই সিরিয়ালটির অংশ ছিলেন।

সেটা ২০১৭ সালের কথা। দিনটা ছিল ১৭ মে। অন্য অনেক সন্ধ্যার মতই তিনি ‘নামকরণ’-এর সেটে ব্যস্ত ছিলেন। তখন সন্ধ্যা সাতটা। হঠাৎই বললেন তাঁর বুকে ব্যাথা করছে। রাত একটা নাগাদ তাঁকে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সোয়া তিনটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।

এরই মধ্য দিয়ে ভারতীয় সিনেমার একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি ঘটে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।