জঘন্য অপরাধ, অত:পর জেল

বিতর্ক ও বলিউড যেন পরস্পরের হাত ধরেই পথ চলে। তা না হলে কেনই যা বলিউড তারকারা নিত্যনতুন বিতর্কে জড়াবেন। কেউ বিচ্ছেদ, কেউ বা বিস্ময়কর কোনো মন্তব্যের জন্য খবরের শিরোনামে আসেন। এখানেই থেমে গেলে চলতো। কিন্তু, এমনও নামকরা তারকা আছেন যারা এমনই বিস্ময়কর ও জঘন্য সব অপরাধ করেছেন যাতে করে তাঁদের জেলে পর্যন্ত যেতে হয়েছে।

  • সালমান খান

অনেক ব্যাংক ব্যালান্স, ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তাও সালমান খানের জেল ঠেকাতে পারেনি। জোধপুরের আদালত সম্প্রতি ২০ বছরের পুরনো মামলায় ২০ বছরের পুরনো কালো হরিণ শিকারের দায়ে সালমান খানের জন্য পাঁচ বছরের জেল ও দশ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করে। যদিও, পরবর্তীতে তিনি জামিন পেয়ে যান। সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯৮ সালের দুই অক্টোবর তিনি জোধপুরের কানকানি গ্রামে বিরল প্রজাতির দু’টি কালো হরিণ শিকার করেছিলেন। সেসময় তাঁর সাথে সহ-শিল্পী সাইফ আলী খান,  সোনালী বেন্দ্রে ও টাবু ছিলেন। যদিও, এই তিনজন নির্দোষ বলে প্রমাণিত হন।

  • সঞ্জয় দত্ত

১৯৯৩ সালের মুম্বাইয়ের সিরিয়াল বোম ব্লাস্ট কেলেঙ্কারিতে  ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট সঞ্জু বাবাকে সাড়ে তিন বছরের জন্য জেলে পাঠায়। ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি পান। হামলার সময়ে একটা একে-৫৬ রাইফেল ও ৯ এমএম পিস্তল ছিল সঞ্জয় দত্তর কাছে। মুম্বাইয়ের হামলার সময়ই অন্যান্য গোলাবারুদের সাথে এই রাইফেল ও পিস্তল এসেছিল ভারতে। ওই সময়ে কুখ্যাত ডন দাউদ ইব্রাহিমের সাথে সঞ্জয়ের বেশ দহরম মহরম ছিল।

  • মনিকা বেদি

কথিত প্রেমিক ও আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়া ডন আবু সালেমের সাথে পর্তুগালে গ্রেফতার হন মনিকা বেদি। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে তাঁর নকল পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। লিসবনের পুলিশ তাঁদের ভারত পাঠালে, সেখানে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। সিবিআই কোর্ট মনিকা বেদিকে পাঁচ বছরের জেল দেয়। যদিও পরে আন্ধ্রাপ্রদেশ হাইকোর্ট সেই শাস্তি কমিয়ে দুই বছরে নিয়ে আসে। সাজা শেষে আবারো বিনোদন জগতে ফিরেছেন মনিকা।

  • অলকা কৌশল

তিনি ভারতীয় টেলিভিশনের পরিচিত মুখ। যদিও, বলিউডেও রয়েছে তাঁর সরব উপস্থিতি। সর্বশেষ ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’ সিনেমাতে তিনি কারিনা কাপুরের মায়ের ভূমিকায় ছিলেন। ‘কুইন’ সিনেমায় তিনি কঙ্গনা রনৌতের মায়ের ভূমিকায় ছিলেন। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তাঁর দু’বছরের জেল হয়। আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়ান তিনি। ড্রামা সিরিয়াল ‘অবতার’ থেকে ৫০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন তিনি। অবতার যখন টাকাটা ফেরত দিতে অনুরোধ করে, তখন এই অভিনেত্রী ও তাঁর মা ২৫ লাখ টাকার দু’টো চেক দেন। দু’টো চেকই বাউন্স করে। অবতারের পক্ষ থেকে তাই মালেরকোটা থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করা হয়।

  • শাইনি আহুজা

 

‘গ্যাংস্টার’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, কিংবা ‘ভুল ভুলাইয়া’ সিনেমা করে যে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি, তার সব তিনি বিসর্জন দেন ২০০৯ সালে। ‍গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের দায়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে নিজের দোষ স্বীকার করেন তিনি। ২০১১ সালে তাঁর সাত বছরের জেল হয়। যদিও, ২০১১ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। জনপ্রিয়তা কমে গেলেও এখনো কোনো ক্রমে বলিউডে টিকে আছেন আহুজা।

  • আদিত্য পাঞ্চোলি

২০০৫ সালে বলিউডের ভিলেন আদিত্য পাঞ্চোলি প্রতিবেশির সাথে গাড়ি পার্কিং নিয়ে ঝামেলায় জড়ান। সুবারবান ভারসোভায় সেই ঘটনায় প্রতিবেশির গায়ে তিনি হাত তোলেন বলে অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০১৬ সালে আন্ধেরি আদালত তাকে এক বছরের জেল ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। যদিও, পরবর্তীতে ১২ হাজার টাকার বন্ড সেই করে তিনি জামিন পান।

– বলি বাইটস ও দ্য হিন্দু অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।