রোম্যান্সে শুরু, ট্র্যাজেডিতে শেষ

বেশ ভালই চলছিল সব কিছু। কালজয়ী জুটি হওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পর্দায় নয়, বাস্তবের জীবনে। হয়নি, রোম্যান্টিক সম্পর্কটা ভেঙে গেছে ট্র্যাজেডিক ঘটনায়। আজ তাঁদের পথ তাই  আলাদা। টিকে আছে কেবল স্মৃতিচারণা।

  • গোবিন্দ ও নীলম কোঠারি

‘ইলজাম’ সিনেমায় তাঁদের প্রথম পরিচয়। মন দেওয়া-নেওয়া হয়ে যায়। সফলতার কারণে পরিচালকদেরও প্রথম পছন্দে পরিণত হন তাঁরা। কিন্তু, তখনই দৃশ্যপটে হাজির গোবিন্দর মা। মায়ের পছন্দের বাইরে গিয়ে তিনি বিয়ে করবেন না। তাই সুনিতার সাথেই নতুন জীবন শুরু করেন। একটা সম্ভাবনাময় প্রেমের সম্পর্কের ইতি হয়।

  • দেব আনন্দ ও জিনাত আমান

এই দু’টি নাম ভারতের সিনেমার ইতিহাসে সোনার কলমে লেখা। নিজের আত্মজীবনীতে আনন্দ লিখে গেছেন কিভাবে তিনি জিনাতের প্রেমে পড়েছিলেন। দু’জনের যখন সম্পর্ক চলছে তখন ‘ইশক ইশক ইশক’ সিনেমার মহরতে জিনাতকে চুমু খেয়ে বসেন রাজ কাপুর। বিষয়টা পছন্দ হয়নি আনন্দের। এরপর রাজ কাপুরের ‘সত্যম শিভাম সুন্দারাম’ সিনেমায় সাইন করেন জিনাত। তাতে আরো ক্ষেপে গিয়ে রীতিমত ‘ব্রেক আপ’ করে ফেলেন আনন্দ।

  • নানা পাটেকার ও মনিষা কৈরালা

‘খামোশি’ সিনেমায় মনিষার বাবার চরিত্রে ছিলেন নানা। অথচ, দু’জনের মধ্যে তখন প্রেমের সূচনা হয়ে গেছে। কিন্তু, সমস্যা হল নানা তখন বিবাহিত ছিলেন। মনিষা চেয়েছিলেন, স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে তাঁর কাছে চলে আসবেন নানা। কিন্তু, সেটা আর হয়নি।

  • শেখর কাপুর ও শাবানা আজমী

গভীর প্রেমের সম্পর্ক থাকার পরও সেটাকে পূর্ণতা দিতে পারেননি শেখর-শাবানা। বন্ধু ছিলেন, সেখান থেকে প্রেম। এক সাথেও থেকেছেন লম্বা সময়। সাত বছরের সম্পর্ক ছিল। এরপর আলাদা হয়ে যান। যদিও, এখনো তাঁরা ভাল বন্ধু।

  • দেব আনন্দ ও সুরাইয়া

গায়িকা সুরাইয়া যখন ক্যারিয়ার শুরু করেন, তখন দেব আনন্দ আছেন খ্যাতির চূড়ায়। তখনই দু’জনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে করবেন বলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। দেব আনন্দ সুরাইয়ার পরিবারে প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু, সুরাইয়ার দাদির এই জুটি পছন্দ হয়নি। দেব আনন্দ সুরাইয়াকে ধরে রাখার অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু, তিনি পরিবারের অমতে বিয়ে করতে নারাজ ছিলেন।

  • দিলীপ কুমার ও মধুবালা

যেন স্বর্গ থেকে গড়ে আসা জুটি – দিলীপ কুমার ও মধুবালার ক্ষেত্রে এই কথাটা প্রায়ই বলা হয়। মধুবালাই প্রথম প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ফেলেন। শুরু হয় বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম রোম্যান্টিক এক গল্পের। তবে, গল্পে ভিলেনও আছে। তিনি হলেন মধুবালার বাবা। তিনি প্রেমে তো বটেই, দু’জনের এক সাথে সিনেমা করতেও বাঁধা দেন। এরপর আর দু’জনের এক সাথে থাকা হয়নি। দু’জনের কালজয়ী সিনেমা ‘মুঘলে আজম’-এর যখন শ্যুটিং চলে তার আগেই দু’জনের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। তাই পেশাদারিত্বের খাতিরে দু’জনে এক সাথে কাজ করেন। যদিও, শ্যুটিং বাদে তাদের আর কথা হত না!

  • মহেশ ভাট ও পারভিন ববি

পারভিনকে পরিচালক মহেশ ভাট এতটাই ভালবেসেছিলেন যে স্ত্রীকে ছেড়ে এই নায়িকার সাথে থাকা শুরু করেন। তবে, পারভিন ছিলেন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। মানসিক অবস্থার অবনতির পর সেটা আর হয়নি। মহেশ চেয়েছিলেন পারভিনকে সঠিক পথে ফেরাতে। পারেননি, তাই ছেড়ে চলে আসেন। যদিও, হয়তো এখনো পারভিনকে ভুলতে পারেননি মহেশ ভাট। তাঁদের প্রেমের গল্প নিয়ে তিনটা সিনেমা তিনি বানিয়েছেন – ‘আর্থ’, ‘ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ে’ এবং ‘ও লামহে’।

  • রাজ বাব্বার ও স্মিতা পাতিল

রাজ বাব্বারের সাথে স্মিতা পাতিলের প্রণয় নিয়ে বেশ আলোচিত ছিল। ‘ভিগে পালকে’ সিনেমায় এই জুটি প্রেমে পড়েন। অনেকটা বাধ্য হয়েই রাজ বাব্বার বিয়ে করেন স্মিতাকে, কারণ তিনি ছিলেন সন্তান সম্ভবা। এর জন্য পরিবারও ছাড়েন। যদিও, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হয় স্মিতার। এই জুটি’র সেই সন্তান প্রতীক ‘জানে তু ইয়া জানে না’, ‘দাম মারো দাম’, ‘ধোবি ঘাট’, ‘মাই ফ্রেন্ড পিন্টো’ কিংবা ‘ইশাক’-এর মত সিনেমা করে প্রশংসিতও হয়েছেন।

– বলিবাইটস অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।