ভিএফএক্স: দর্শক বোকা বানানোর প্রযুক্তি

ভিএফএক্স বা ভিজুয়াল ইফেক্টস প্রযুক্তি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ প্রসার লাভ করেছে। আর এখন এর ব্যবহারটা এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে যেখানে ভিএফএক্স ছাড়া সিনেমা কল্পনাই করা যায় না। লোকেশনের কিছু পরিবর্তন আনা, ভয়ংকর কোনো পশুর সাথে মারামারির দৃশ্য, গাড়ি ও মোটরবাইকের স্টান্ট – অনেক ক্ষেত্রেই এখন নির্মাতা-এডিটররা ভিএফএক্সের আশ্রয় নেন।

ওহ! একটা ব্যাপার বাদ পড়ে গেল, ভিএফএক্স দিয়ে চাইলে কারো শারীরিক গঠনেও পরিবর্তন আনা যায়। বলিউডের অনেক তারকাই এই প্রযুক্তির সাহায্যে প্রায়শই দর্শকদের সাথে ‘ছলনা’ করে যাচ্ছেন। সিক্স কিংবা এইট প্যাক বানাতে এখন এর তাই জিমে না গেলেও চলে।

  • সালমান খান

আবেদনময় শরীরের জন্য সেই নব্বই দশক থেকে নিজের সুনাম ধরে রেখেছেন সালমান খান। তবে, তিনিও নিজের পেশির আধিক্য দেখাতে ভিএফএক্সের সাহায্য নিয়েছেন। ২০০৯ সালের সিনেমা ‘ওয়ানটেড’-এ তিনি পুলিশের শার্ট খুলে ফেলে যে সিক্স প্যক দেখান সেটা নির্মানে ভিএফএক্স ব্যবহৃত হয়েছে। একই কাজ তিনি করেছেন ‘এক থা টাইগার’ সিনেমাতেও।

  • অক্ষয় কুমার

অক্ষয় কুমার অনেক অ্যাকশন সিনেমা করলেও খুব বেশি শরীর দেখান না। তবে খিলাড়ি খ্যাত এই অভিনেতা বরাবরই দারুণ শারীরিক গঠনের অধিকারী। ২০১৩ সালের সিনেমা ‘বস’-এর ক্লাইমেক্স দৃশ্যে অক্ষয়কে নিজের শার্ট খুলে ফেলতে দেখা যায়। সেখানে ভিজুয়াল ইফেক্টস ব্যবহার করা হয়। যদিও, সেই দৃশ্যটা সিনেমার ভাগ্য সামান্যই পাল্টাতে পেরেছিল।

  • শাহরুখ খান

‘বাদশাহ অব রোম্যান্স’ হলেও শাহরুখ খান বেশ অনেকদিন হল নিজের শারীরিক আবেদন বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছেন। ‘ওম শান্তি ওম’ ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমাগুলোতে তাঁকে ‘শার্টলেস’ দেখা গেছে। তিনি ভিএফএক্স ব্যবহার করেছেন তাঁর সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘ফ্যান’ সিনেমায়। গৌরব চাড্ডা’র চরিত্র শাহরুখের বয়স কমপক্ষে ২০ বছর কমানো দরকার ছিল। তাই, নিজেকে তরুণ দেখাতেই ভিএফএক্স ব্যবহার করেন কিং খান।

  • সানি দেওল

তিনি এখন হয়তো আগের মত লাইমলাইটে আসেন না। তবে, একটা সময় সানি ছিলেন সেরাদের কাতারেই। বয়স অনেক আগেই ৫০ পেড়িয়ে গেলেও ২০১৬ সালের সিনেমা ‘ঘায়েল ওয়ান্স এগেইন’-এ তাঁকে শার্ট খুলে ফেলতে দেখা যায়।

মজার ব্যাপার হল, নিজেকে তরুণ দেখাতে নয় বরং বুড়ো দেখাতে ভিএফএক্সের আশ্রয় নিয়েছেন সানি। প্লট অনুযায়ী অনেকদিন বাদে জেল থেকে ছাড়া পাওয়া সানির শরীর ভঙ্গুর দেখানোর প্রয়োজন ছিল। এজন্যই এডিটররা ভিএফএক্সের আশ্রয় নেন।

  • গোবিন্দ

নব্বই দশকের কমেডি কিং এখন আড়ালে চলে গেছেন বললেই চলে। টুকটাক সিনেমা করলেও সেগুলো খুব বেশি ব্যবসা করতে পারে না। ২০১৪ সালে সাইফ আলী খানের সিনেমা ‘হ্যাপি এন্ডিং’-এ ছোট একটা চরিত্র করেন গোবিন্দ। চরিত্রটা ছিল এক নায়কের। দেখানো হয় প্লাস্টিক সার্জারি করে সিক্স প্যাক বানান গোবিন্দ। আদতে বিষয়টা প্লাস্টিক সার্জারি ছিল না, ছিল ভিএফএক্সের সুনিপুন ব্যবহার।

– অ্যানিমেশন এক্সপ্রেস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।