সবার জন্য বলিউড নয়!

বলিউডে যে গ্রুপিং আছে সেটা নতুন কোনো খবর নয়। প্রোডাকশন হাউজ, পরিচালক এমনকি তারকারও এই গ্রুপিংয়ের সাথে জড়িত। হালের তারকা সালমান খান, শাহরুখ খানরাও এর বাইরে নন। এর বড় কোনো ক্যাম্পের সাথে নিজেকে জড়ালে কাজ পাওয়াটাও সহজ নয়। হ্যা, এই ব্যাপারটা যথেষ্ট বিতর্কিত, তবে, এই পথটাকে সাফল্যের রাস্তা হিসেবে বেঁছে নেন অনেকেই। অনেকের সাফল্য তাঁতে স্থায়ী হয়। আবার অনেকে প্রতিভা থাকার পরও ঝরে পড়েন অকালেই।

  • উদয় চোপড়া

 

বলিউডে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়াটা তাঁর জন্য ‘ঘরের ডাল ভাত’-এর মত ব্যাপার। কারণ, উদয় চোপড়ার বাবা হলেন স্বয়ং যশ রাজ চোপড়া। বড় ভাই হলেন আদিত্য চোপড়া। ২০০০ সালে ‘মোহাব্বাতে’ সিনেমা দিয়ে তাঁর বলিউডে অভিষেক। সেই সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ারের বিবেচনায় সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান। এরপর আর কখনোই যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানার থেকে বের হননি। তবুও তিনি টিকে আছেন বলিউডে। এখনো তিনি ধুম ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ। ‘আলী খান’-এর চরিত্রে তিনি অদ্বিতীয়। যদিও, অভিনয়ের পাশাপাশি পারিবারিক সূত্রে প্রযোজনার সাথেও জড়িত তিনি।

  • নিশা কোঠারি

‘জেমস’ সিনেমায় তাঁর অভিষেক করান খোদ রাম গোপাল ভার্মা। সাহসী অভিনেত্রীর ইমেজ গড়তে চেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আরজিভিই অনেকগুলো সিনেমাতে তাঁকে নিয়েছিলেন। সাফল্য আসেনি। এমনকি উর্মিলা মাতন্ডকার, অমিতাভ বচ্চন, অজয় দেবগন, মনোজ বাজপাইদের সাথে কাজ করেও তাঁর ভাগ্য পাল্টায়নি। শেষের দিকে স্রেফ কয়েকটা আইটেম সং করেছেন, এরপর বাধ্য হয়ে অন্তরা মালি বিদায় জানান বলিউডকে। যে দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে তাঁর উত্থান, সেখানেও তিনি আর নিয়মিত নন। ২০১৬ সালে তিনি তেলেগু সিনেমা ‘বুলেট রানী’-তে সর্বশেষ অভিনয় করেন। সেই বছরই তিনি বিয়ে করেন দিল্লী ভিত্তিক ব্যবসায়ী ভাস্কর প্রকাশকে। সেখানেই তাঁর ক্যারিয়ারের ইতি।

 

  • শ্রেয়াস তালপাড়ে

তাঁর প্রতিভা নিয়ে কখনোই কোনো সন্দেহ নেই। ২০০৫ সালে তিনি ‘ইকবাল’-এর মত সিনেমা করেছেন। সেখানে কোনো মূক-বধির চরিত্রে কোনো ডায়লোগ না থাকার পরও তাঁর অভিনয় দেখে চোখের পানি ফেলেছেন অনেক দর্শক। এরপর ‘আপনা সাপ্না মানি মানি’ ও ‘ওয়েলকাম টু সাজ্জানপুর’ সিনেমায় নিজের কমেডি দক্ষতারও পরিচয় তিনি দিয়েছেন। সেই সুবাদে তিনি রোহিত শোঠির ক্যাম্পের নিয়মিত মুখ। তবে, শ্রেয়াস তালপাড়েকে কখনোই বলিউড প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেয়নি।  যদিও, গোলমাল ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ হিসেবে তিনি টিকে আছেন বলিউডে। একই সাথে ছোট ছোট কিছু কাজও করেন। ২০১৭ সালে ‘পোস্টার বয়েজ’ সিনেমা দিয়ে পরিচালক হিসেবেও অভিষেক হয়েছে তাঁর।

  • অন্তরা মালি

তিনিও রাম গোপাল ভার্মার আরেক আবিষ্কার। ‘নাচ’ ও ‘রোড’ সিনেমায় তাঁর কাজ বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। তবে, কখনোই সাফল্যের সিঁড়িটা উর্ধ্বগামী ছিল না তাঁর। বরং বার বার খেয়েছেন হোঁচট অন্তরা মালি। ২০০৩ সালে ‘ম্যায় মাধুরী দিক্ষিত বান্না চাহতি হু’-তেও দারুণ অভিনয় করেছিলেন। জি সিনের বিবেচনায় তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তারপরও তাঁর ক্যারিয়ারটা লম্বা হয়নি। ২০০৫ সালে তিনি ‘মিস্টার ইয়া মিস’ সিনেমায় কাজ করেন। এরপর পাঁচ বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পায় তাঁর ‘অ্যান্ড ওয়ান্স এগেইন’ সিনেমাটি। সেটাই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা।

– দেসিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।