রাজপরিবার থেকে বলিউডের লাল গালিচায়

খুব নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে বড় তারকা বনে গেছেন – এমন বিস্তর নজীর বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়া যাবে। তবে এর উল্টে চিত্রও আছে। এখানে অনেকেই আছেন, যারা রীতিমত সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছেন। আর এদেরও এক ধাপ ওপরে থাকবেন তারা, যাদের জন্ম হয়েছে রাজ পরিবারে। রাজ পরিবার থেকে বলিউডে নাম লেখানো তারকাদের নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • সাইফ আলী খান ও সোহা আলী খান

আমির খান, শাহরুখ খান কিংবা সালমান খানের পর বলিউডে চতুর্থ খান হলেন সাইফ আলী খান। তাঁর বাবা মনসুর আলী খান পতৌদি ওরফে টাইগার পতৌদি ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যান এক কালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকও ছিলেন। শুধু তাই নয়, টাইগার হলেন লখনৌ’র নবাব পতৌদি পরিবারের ছেলে। তিনি বিয়ে করেন বাঙালি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে। তাঁদের ঘরে ১৯৭০ সালের ১৬ আগস্ট জন্ম হয় সাইফের।

আর সোহা আলী খানের জন্ম হয় ১৯৭৮ সালের চার অক্টোবর। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ‘রাঙ দে বাসন্তী’ ও ‘তুম মিলে’র মত ছবি করেছেন। মনসুর আলী খান ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল অবধি আনুষ্ঠানিক নবাব ছিলেন। তাঁর ‍মৃত্যুর পর অনেক ঘটা করে হরিয়ানার পতৌদি গ্রামে সাইফকে দশম নবাব হিসেবে পাগড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলিউডেও ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত।

  • অদিতি রাও হায়দারী

হিন্দি, মালায়ালাম ও তামিল ছবিতে অভিনয় করা অদিতি একাধারে দু’টি রাজ পরিবারের সদস্য। মানে, বাবা ও মা দু’জনের দিক থেকেই তিনি রাজ পরিবারের মেয়ে। তিনি হলেন আকবর হায়দারীর নাতনী। তার চাচা হলেন মোহাম্মদ সালেহ আকবর হায়দারী। তিনি আসামের সাবেক গভর্নর ছিলেন। দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর অদিতি সিনেমায় ভাগ্যের প্রতিযোগীতায় নামেন। মজার ব্যাপার হল ‘খুবসুরাত’ ছবিতে তিনি রাজকুমারীর ছোট্ট একটা চরিত্রও করেছিলেন।

  • ইরফান খান

সময়ের অন্যমত প্রতিভাবান অভিনেতাদের একজন ইরফান খান। শুধু বলিউডেই নয়, তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেতাও বটে। হলিউডেও তাঁর সাফল্যের কমতি নেই। তবে, খুব কম লোকই জানেন যে, তাঁর জন্ম হয় রাজ পরিবারে। ১৯৬৭ সালের সাত জানুয়ারি ইরফান জন্ম নেন রাজস্থানের জয়পুরে, এক মুসলিম পাঠান পরিবারে। তাঁর মা বেগম ছিলেন ছিলেন হাকিম বাড়ির মেয়ে। বাবা টঙ্ক জেলার খাজুরিয়া গ্রামের জমিদার ছিলেন। একই সাথে পারিবারিক ব্যবসাও ছিলেন। ইরফান জয়পুরেই এমএ ডিগ্রি নেন। সেখান থেকে ১৯৮৪ সালে দিল্লীর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার (এনএসডি) স্কলারশিপ পান। এরপর মুম্বাইয়ে এসে শুরু হয় স্ট্রাগল।

  • রিয়া সেন ও রাইমা সেন

বাংলা ও হিন্দি ছবির মুখ দুই বোন – রিয়া ও রাইমা। তাঁদের বড় পরিচয় হল তারা স্বয়ং সুচিত্রা সেনের নাতনী ও মুনমুন সেনের মেয়ে। রিয়া ও রাইমার বাবা ভারত দেব বর্ম হলেন ত্রিপুরার রাজ পরিবারের ছেলে। আবার ভারতের মা ইলা দেবী হলেন কুচবিহারের রাজকুরামী। ইলা দেবীর ছোট বোন গায়ত্রী দেবী ছিলেন জয়পুরের মহারানী। এখানেই শেষ নয়, রিয়া-রাইমার পরদাদী ইন্দিরা ছিলেন বারোদার মহারাজা সায়াজিরাও গায়েকওয়াদ তৃতীয়’র একমাত্র কন্যা।

  • আর ডি বর্মন ও এস ডি বর্মন

যেমন বাবা, তেমন ছেলে – এমন যুগলবন্দী আজকের যুগে আর পাওয়া যায় না। একজন রাহুল দেব বর্মনকে রোজ রোজ পাওয়া যাবে না। তিনি ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সঙ্গীত পরিচালক। তিনি ত্রিপুরা রাজ পরিবারের সদস্য ছিলেন। বাবা শচিন দেব বর্মনের মা, মানে আর ডি বর্মনের দাদী নির্মলা দেবী ছিলেন মনিপুরের রাজ কুমারী। আর শচিনের বাবা, মানে রাহুলের দাদা ঈশ্বরচন্দ্র মানিক্য দেব বর্মন ছিলেন ত্রিপুরার মহারাজা।

  • কিরণ রাও

‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত আমির খানের স্ত্রী কিরণ রাও নিজেও একজন প্রযোজক, নির্মাতা ও স্ক্রিপ্ট রাইটার। তার জন্ম ১৯৭৩ সালের সাত নভেম্বর, তেলাগানার রাজ পরিবারে। তার দাদা জে. রামেশ্বর ছিলেন তেলাগানা প্রদেশের ওয়াপার্থির রাজা। কিরণের জন্ম তেলাগানাকে হলেও স্কুলিং হয় কলকাতায়। ১৯৯২ সালে তিনি বাবা-মা’র সাথে কলকাতা থেকে মুম্বাই চলে আসেন।  মজার ব্যাপার হল, কিরণ রাও ও অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারী একে অপরের কাজিন।

  • সোনাল সিং চৌহান

মডেল ও অভিনেত্রী সোনালের শরীরেও আছে রাজকীয় রক্ত। তাঁর জন্ম হয় ১৯৮৭ সালের ১৬ মে, উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরে। তিনি রাজস্থানের বিখ্যাত রাজ পরিবার চৌহান বংশের মেয়ে। ২০০৮ সালের তেলেগু ছবি ‘রেইনবো’ দিয়ে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়।

  • ভাগ্যশ্রী

১৯৮৯ সালে সালমান খানের বিপরীতে ব্লকবাস্টার ছবি ‘ম্যয়নে প্যায়ার কিয়া’ দিয়ে বলিউযে অভিষেক হয় ভাগ্যশ্রী’র। ভাগ্রশ্রী হলেন মহারাষ্ট্রের সাঙলির পটবর্ধন নামের মারাঠী রাজপরিবারের মেয়ে। তার বাবা বিজয় সিংরাও মাধবরাও পটবর্ধন হলেন সাঙলির বর্তমান রাজা। ভাগ্যশ্রীর পরিবার অনেক কট্টরপন্থী। সব সময় ভাগ্রশীকে সন্ধ্যা নামার আগেই ঘরে ফিরতে হত। কে জানে, এ কারণেই কিনা জমকালো অভিষেকের পরও ভাগ্রশ্রীর ক্যারিয়ার খুব বেশিদূর এগোয়নি।

ক্রিটিক্স ইউনিয়ন অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।