ছবি হিট, অথচ মিউজিক ফ্লপ!

বলিউড সিনেমায় সঙ্গীতের গুরুত্ব কতখানি তা অনুধাবন করতে পাঁড় বলিউড ভক্ত না হলেও চলে। অনেক মোটামুটি মানের সিনেমাও শুধু ভালো সঙ্গীতের বলে বক্স অফিসে পার পেয়ে গেছে। হিন্দি সিনেমার ভক্তরা একটি খারাপ সিনেমাকেও আপন করে নেন, যদি সিনেমাটির সঙ্গীত মনোমুগ্ধকর হয়।

তবে কখনো-কখনো এর উল্টোটাও ঘটেছে বলিউডে। সঙ্গীত ততটা হৃদয়গ্রাহী না হলেও সিনেমা অনন্য সফলতা পেয়েছে বক্স অফিসে। এমনকি এর কোন কোনটি আবার পেয়েছে সর্বকালের সেরা সফল সিনেমার তকমা।

চলুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু অবিস্মরণীয় বলিউড সিনেমার কথা যেগুলোর সঙ্গীত বিস্মরণযোগ্য।

  • বাহুবলি

ভারতের সর্বকালের সেরা ব্লকবাস্টার সিনেমা। গল্প, অভিনয়, ভিজুয়াল ইফেক্টসহ আরও অনেক বিষয়ের জন্য সিনেমাপ্রেমিদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়া ‘বাহুবলি’র সঙ্গীত অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়েছে।এস.এস. রাজামৌলির ‘বাহুবলি‘ তার স্বকীয় মহিমায় দর্শকদের এতটাই মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল যে, এর মোটামুটি মানের সঙ্গীত নিয়ে সিনেমা প্রেমিদের মাঝে মোটেও উচ্চবাচ্য লক্ষ্য করা যায়নি। বাহুবলি’র সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন এম. এম. কিরাভানি।

  • কৃশ ৩

ভারতীয় সিনেমার একমাত্র সফল সুপারহিরো কৃশ। এর তৃতীয় কিস্তি ‘কৃশ ৩’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৩ সালে। ‘কৃশ’ সিরিজের আগের দুই ছবির বেশ কিছু গান দর্শকপ্রিয়তা পেলেও ‘কৃশ ৩’র গানগুলো মোটেও সারা জাগাতে পারেনি। বর্ষীয়ান সঙ্গীত পরিচালক রাজেশ রোশনের অ্যালবামটিতে ছিল নতুনত্বের অভাব যা দর্শক-শ্রোতাদের হতাশ করেছিল। তবে হৃতিকের ক্যারিশমাটিক সুপারহিরো অবতার সেই অভাবটি ভালভাবেই পুষিয়ে দিয়েছিল।

  • প্যায়ার কা পাঞ্চনামা

পরিচালক লাভ রঞ্জন ‘প্যায়ার কা পঞ্চনামা’ দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। কোন রকম ‘স্টার পাওয়ার’ ছাড়াই একঝাঁক নবীন অভিনয়শিল্পীকে দিয়ে শুধু বিষয়বস্তুর দৃঢ়তায় দারুণ হিট দুটি ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। সিনেমা দুটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন বেশ কয়েকজন তরুন সঙ্গীত পরিচালক। তবে সিনেমার গানগুলো দর্শক-শ্রোতাদের মোটেও তুষ্ট করতে পারেনি। ‘প্যায়ার কা পঞ্চনামা’ সিরিজের এখন পর্যন্ত ২ টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে যথাক্রমে ২০১১ ও ২০১৩ সালে।

  • পিকু

বাবা-মেয়ের সম্পর্কের উপাখ্যান নিয়ে বাঙালি পরিচালক সুজিত সরকারের গতানুগতিক ধারার বাইরের ছবি। ছবিটি দর্শক-সমালোচক সবার কাছেই প্রশংসিত হয়, বক্স অফিসে ছবিটির সাফল্যও ছিল ঈর্ষনীয়। ছবির গানগুলো কাহিনীর সাথে মানিয়ে গেলেও আলাদাভাবে জনপ্রিয়তা পায়নি। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন অনুপম রায়।

  • ইংলিশ ভিংলিশ

 

অভিনয় থেকে ১৫ বছরের এক দীর্ঘ বিরতির পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে শ্রীদেবী আবারো বড় পর্দায় ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ সিনেমাটির মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। আর ছবিটির অভূতপূর্ব সফলতা  শ্রীদেবী’র প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রেখেছিলো। সঙ্গীত পরিচালক অমিত ত্রিবেদী’র অ্যালবামটির শুধু ‘নভরাই মাঝি’ গানটি জনপ্রিয়তা পেলেও বাকি গানগুলো আশানুরূপ সাফল্য পায়নি।

  • পিকে

বাণিজ্যিকভাবে বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ছবিটির সঙ্গীতে এর সফলতা মোটেও চিত্রিত হয়নি। অঙ্কিত তিওয়ারি, শান্তনু মৈত্র এবং অজয়-অতুলে’র মতো বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালকেরাও ছবির গানগুলোকে শ্রুতিমধুর করে তুলতে পারেননি।

  • কাহানি

‘কাহানি’ সিনেমার কাহিনীর মতো এর গানগুলোর মাঝেও ছিল একইসাথে নতুনত্ব ও পুরনোর মিশ্রণ। গানের কথায় বাংলা এবং হিন্দি শব্দের সুনিপুণ ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য। তবে সিনেমার অবিস্মরণীয় সফলতার ছিটেফোঁটাও গানগুলোর ভাগ্যে জোটেনি। ‘কাহানি’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন বিশাল-শেখর ও ক্লিনটন সেরেজো।

  • পিংক

বলিউডে ২০১৬ সালের সবচেয়ে বড় হিট সিনেমাগুলোর একটি, অনেকের মতে সিনেমাটি পরিচালক অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী’র এক অতুলনীয় মাস্টারপিস।ছবিটির জীবনঘনিষ্ঠ কাহিনীর গাম্ভীর্যকে বজায় রাখতে গিয়ে পরিচালক গানের ব্যবহার খুবই সীমিত আকারে করেছেন। আর তাই বোধহয় খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালকদ্বয় অনুপম রায় এবং শান্তনু মৈত্রের গানগুলো শুধুই কাহিনীর গতি-প্রবাহকেই ঠিক রাখার কাজটি করেছে, আলাদাভাবে সাধারন দর্শক-শ্রোতাদের প্লেলিস্টে জায়গা করে নিতে পারেনি।

দেশিমার্টিনি.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।