আন্ডারওয়ার্ল্ডের ফাঁদে পা দেওয়া নায়িকারা

বলিউডের সাথে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পর্কটা নতুন কিছু নয়। বরং, বলা ভাল আশি ও নব্বই দশকে এই সম্পর্কের গভীরতা অনেক বেশি ছিল। ওই যুগে ডনদের পাল্লায় পড়ে অনেক নায়িকার ক্যারিয়ার যেমন দাঁড়িয়ে গেছে, অনেকে আবার হারিয়েও গেছেন। কেউ কেউ তো জড়িয়ে গেছেন অন্ধকার জগতেই।

  • মনিকা বেদি ও আবু সালেম

তখন কেবল ক্যারিয়ার শুরু করেছেন মনিকা। ভাল নাচ জানতেন। একবার দুবাইয়ে একটা স্টেজ শো-এর জন্য প্রস্তাব আসে ফোনে। ফোনটা করে খোদ আবু সালেম। সেই থেকে শুরু।

যদিও, তখনও সালেমের আসল পরিচয় জানতেন না মনিকা। এরপর সালেমের প্রভাবেই ‘জানাম সামঝা কারো’ ও ‘বিবি নম্বর ওয়ান’-এর মত সিনেমা পান মনিকা। ব্যস, ‍দু’জনের প্রেম হয়ে যায়।

সালেমের দাবী সালে তাঁদের বিয়ে হয়। মনিকা কখনোই এই তথ্য স্বীকার করেননি। ২০০৫ সালে পর্তুগালে দু’জন গ্রেফতার হন, চার বছরের জেল হয়। ২০১৭ সালে সালেমকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মনিকা এখন পাঞ্জাবি সিনেমায় কাজ করছেন। ২০০৮ সালে জেল থেকে বের হয়ে বিগ বস টু-তে অংশও নেন তিনি। একটু একটু করে পর্দায় থিতু হতে শুরু করেছেন তিনি।

  • মন্দাকিনি ও দাউদ ইব্রাহিম

বলা হয়, দাউদ নাকি নিজের প্রভাব খাটিয়ে মন্দাকিনিকে সিনেমা পাইয়ে দিতেন। পরে দাউদ দুবাইয়ে আত্মগোপনে চলে যান। মন্দাকিনিও বিয়ে করে সংসারি হয়ে যান। আর কখনোই তিনি বলিউডে ফেরেননি।

১৯৮৫ সালের সিনেমা ‘রাম তেরি গাঙ্গা ম্যায়লি’। ঝর্ণার পানিতে সিক্ত সফেদ শাড়ির মন্দাকিনিকে দেখে অনেক পুরুষের বুকেই ঝড় ওঠে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের বেতাজ বাদশাহ দাউদ ইব্রাহিমও। ১৯৯৪ সালে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এই দু’জনের একটা ছবিও বেশ ভাইরাল হয়। গুঞ্জন ছিল, এই দু’জনের মধ্যে প্রেম চলছে।

  • মমতা কুলকার্নি ও বিক্রম গোস্বামী

নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা মমতার প্রথমে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক ডন ছোটা রাজনের সাথে যোগাযোগ ছিল। ১৯৯৬ সালে তাঁর পরিচয় হয় আহমেদাবাদের স্মাগলার  বিজয়গিরি বিক্রম গোস্বামীর সাথে। ১৯৯৮ সালে রাজকুমার সন্তোষী মমতাকে তাঁর ছবি ‘চায়না গেট’ থেকে মাঝপথে বের করে দেন । পরে আসে ছোটা শাকিলের ফোন। তাঁর হুমকিতেই নাকি ফের মমতাকে ছবিতে ফিরিয়ে নেন রাজকুমার।

বোঝাই যাচ্ছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়েছিলেন মমতা। পরবর্তীতে তিনি বিক্রমকেই বিয়ে করেছিলেন বলে শোনা যায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর দেখা মেলে কেনিয়াতে কুখ্যাত, সব ড্রাগ মাফিয়াদের সাথে বৈঠক করতে দেখা যায় ভিকির সাথে।

  • হাজি মাস্তান ও সোনা

মাস্তান হায়দার মীর্জা, ভারতীয় আন্ডানওয়ার্ল্ডের প্রবাদ পুরুষ হাজি মাস্তান, সুলতান মীর্জা কিংবা বাওয়া বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন। সিনেমার জগতেও তাঁর হাত ছিল, সিনেমার প্রযোজনা করতেন।

হাজি মাস্তান ছিলেন মধুবালার ভক্ত। সেজন্যই তিনি সোনা’র প্রেমে পড়েন। কারণ সোনা’র সাথে মধুবালার চেহারার অদ্ভুত রকমের মিল ছিল।  ১৯৮৪ সালে জেল থেকে ফিরে ৫৮ বছর বয়সে বিয়ে করেন হাজি মাস্তান। সোনার জন্য কয়েকটা সিনেমাও প্রযোজনা করেন হাজি মাস্তান।

  • আনিতা আইয়ুব ও দাউদ ইব্রাহিম

পাকিস্তানি মডেল ও অভিনেত্রী আনিতা আইয়ুব। তিনি পাকিস্তানি ও বলিউডের সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে কাজ করতেন। প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে তিনি কান উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন।

তাঁর ওপর চোখ পড়েছিল দাউদ ইব্রাহিমের। ১৯৯৫ সালে প্রযোজক জাভেদ সিদ্দিকিকে খুন করেছিলেন দাউদ, কারণ তিনি আনিতাকে সিনেমায় রোল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন!

– বলিউড বাবল ও ফ্রি প্রেস জার্নাল অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।