পরকীয়ার পরও সুখের সংসার

অত:পর তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। সিনেমায় বলিউড তারকাদের এমন হাজারো গল্প আমরা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু, বাস্তবতা ভিন্ন। তারকাদের জীবনেও অনেক অজানা ও অন্ধকার অধ্যায় আছে। বিয়ের পর যাদের আদর্শ জুটি বলে মনে করা হত, সেই সম্পর্কেও পরকীয়ার জের ধরে এসেছে ভাঙন। যদিও, যাদের কথা বলছি তাঁরা প্রত্যেকেই পরকীয়ার ভুত চলে যাওয়ার পর ফিরেছেন নিজেদের প্রথম প্রেমের কাছেই।

  • রাজ কাপুর

রাজ কাপুরের প্রেম ছিল অভিনেত্রী নার্গিসের সাথে। অনেকে বলেন, ডিম্পল কাপাডিয়া হলেন নার্গিস ও রাজ কাপুরের প্রেমের ফসল। যদিও, রাজ কাপুরের স্ত্রী কৃষ্ণা কখনোই স্বামীকে ছেড়ে যাননি। নার্গিস নিজেই পরবর্তীতে সরে যান, বিয়ে করেন সুনিল দত্তকে। তাঁদের ঘরেই জন্ম হয় সঞ্জয় দত্তর।

  • মিঠুন চক্রবর্তী

শ্রীদেবীর রূপে মজেছিলেন মিঠুন। কেউ কে্উ বলেন, দু’জন লুকিয়ে বিয়েও করেছিলেন। তখনো যোগিতা বালির সাথে মিঠুনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। শ্রীদেবী ১৯৮৮ সালে মিঠুনের সাথে ছাড়াছাড়ি করে ফেলেন। বিয়ে করেন ববি কাপুরকে। মিঠুন সুবোধ বালকের মত ফিরে আসেন স্ত্রীর কাছে।

  • শত্রুঘ্ন সিনহা

রিনা রায়ের সাথে শত্রুঘ্ন সিনহার প্রেম ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল অনেকটা ওপেন সিক্রেটের মত। যদিও, সিনহা সাহেব পাঁচ বছর প্রেম করেছিলেন পূণম সিনহার সাথে। তাঁকেই বিয়ে করার জন্য প্রতীজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। সেই প্রতীজ্ঞা মেনে তিনি পুণমকে বিয়ে করেন ১৯৮০ সালে। যদিও, বিয়ের পরও কানাঘুষা ছিল যে রিনার সাথে মেলামেশা টিকিয়ে রেখেছেন শত্রুঘ্ন। পরে রিনাই সরে আসেন। রিনা পরে বিয়ে করেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার মহসিন খানকে।

  • গোবিন্দ

‘হাদ কার দি আপনে’ সিনেমার শুটিং চলাকালে রানী মুখার্জীর সাথে গোবিন্দ’র রোম্যান্সের সূচনা হয়। একবার রাতে রানীর বাড়িতে রাতের বেলা এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিতে গেলে সেখানে রাতের পোশাকে গোবিন্দকে দেখতে পানে। গুজব ছিল, রানীকে দামী গাড়ীও উপহার দিয়েছিলেন গোবিন্দ। সমস্যা ছিল একটাই, গোবিন্দ তখন বিবাহিত। গোবিন্দ’র স্ত্রী সুনিতা বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দিয়ে বসেন। ব্যস, গোবিন্দও সোজা পথটা বেছে নেন। গোবিন্দ রানী ও সুনিতার মধ্যে, স্ত্রী সুনিতাকেই বেছে নেন। এরপর সংসারে আর কোনো সমস্যা হয়নি দু’জনের। ৩১ বছর ধরে দু’জন সংসার করে চলেছেন।

  • সঞ্জয় খান

১৯৬৬ সালে পরিচালক ও অভিনেতা সঞ্জয় খান বিয়ে করেন জারিন খানকে। এই দম্পতির আছে চার সন্তান। ‘আবদুল্লাহ’ সিনেমার শ্যুটিং চলাকালে ১৯৮০ সালে জয়সলমিরে জিনাত আমানের প্রেমে পড়ে যান সঞ্জয়। অনেকদিন প্রেম করার পর সম্পর্ককে নতুন নাম দিতে চান জিনাত। তবে, এবার বেঁকে বসেন সঞ্জয়। শোনা যায়, বি টাউনের এক জমকালো পার্টিতে স্ত্রী জারিন খানের সাথে মিলে জিনাতের গায়ে হাতও তোলেন সঞ্জয়। তাঁর দাবী ছিল, তাকে নাকি জিনাত আমান ধোঁকা দিয়েছেন।

  • দিলীপ কুমার

সায়রা বানুকে বিয়ে করার পরও অন্য নারীর প্রেমে পড়েছিলেন চিরতরুণ দিলীপ কুমার। কিছু কিছু গণমাধ্যম দাবী করে ওই সময় সায়রা বানুর সাথে সাথে আরেক অভিনেত্রী আসমার সাথে সম্পর্ক থাকার জের ধরে ডিভোর্স হয়ে যায় দিলীপ কুমার। পরে দিলীপ কুমার জানতে পারেন আসমাই তাঁকে ধোঁকা দিচ্ছেন। আসমাকে ডিভোর্স দিয়ে তাই আবারো সায়রার কাছে ফেরেন দিলীপ। সায়রাও গ্রহণ করেন দিলীপকে।

  • অমিতাভ বচ্চন

জয়াকে বিয়ে করার পর আরেক অভিনেত্রী রেখার সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। ‘সিলসিলা’ সিনেমায় যেমন জয়া, অমিতাভ আর রেখার ত্রিভূজ প্রেম দেখানো হয়েছিল, বাস্তবেও অবস্থা ছিল তেমনই। তবে, ‘কুলি’ সিনেমায় শ্যুটিংয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে যখন হাসপাতালে অসহায় দিন কাটাচ্ছিলেন তখন পরিবারের সঙ্গ বিগ বি’র ভাবনার জগৎটা আমূল পাল্টে দেয়। আবারো সংসারী হয়ে ওঠেন তিনি। রেখার সাথে মুখ দেখাদেখিও বন্ধ হয়ে যায়। আর আজকের দিনে অমিতাভ-জয়াকে বলিউডের অন্যতম আইকনিক জুটি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

  • আদিত্য পাঞ্চোলি

কঙ্গনা রনৌতের সাথে সম্পর্কের আগ পর্যন্ত স্ত্রী জারিনা ওয়াহাবের সাথে আদিত্য পাঞ্চোলির জীবনটা ছিল ছবির মত সুন্দর। তবে, কঙ্গনার সাথে অসম প্রেমের সম্পর্কটাই সব পাল্টে দেয়। বাজে নানারকম খবরের জন্য পাঞ্চোলি খবরের শিরোনামে আসতে থাকেন। তবে, পুরোটা সময় স্বামীর পাশে ছিলেন জারিনা।

– ঝাকাসমুভিজ অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।