কার চরিত্র কে করে!

হিন্দি সিনেমার ভক্ত, অথচ ‘র‍্যাঞ্চোর দাস শ্যামল দাস চাঞ্চার’কে চিনে না, এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আচ্ছা থ্রি ইডিয়টস ছবির নিয়ম না মানা ওই খেয়ালী ছাত্রের চরিত্রে আমির ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারেন? কিংবা চাকদে ইন্ডিয়ার হকি কোচ কবির খান, দ্য ডার্টি পিকচারের উদ্যমী নায়িকা সিল্ক স্মিতা, ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এর মিলখা সিংয়ের কথাই ধরা যাক। আপনি কি জানেন, এসব চরিত্রে শাহরুখ, বিদ্যা, আর ফারহান আখতাররা পরিচালকের ‘ফার্স্ট চয়েজ’ ছিলেন না?

বলিউডে এরকম অসংখ্য সিনেমা রয়েছে, যেগুলো নামি দামি তারকারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারও স্ক্রিপ্ট পছন্দ হচ্ছিল না, কারও শিডিউল মিলছিলো না, কেউবা কম পারিশ্রমিকের দোহাই দিয়ে এসব ছবি হাতছাড়া করেছিলেন। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, কারও কারও রিজেক্ট মাঝে-মধ্যে অন্য কারও জন্য বয়ে নিয়ে এসেছে বিরাট বাণিজ্যিক সাফল্য, কেউ বগলদাবা করেছেন বড় বড় সব পুরস্কার।

চলুন এরকম আট তারকার নাম জেনে নেই, যারা বেশ কিছু সুপার হিট ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, যার কারণে পরবর্তীতে তাঁদের পস্তাতে হয়েছে, নীরবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে হয়েছে।

  • কাজল

শাহরুখ-কাজল বলিউডের কিংবদন্তী জুটি। বাজিগর থেকে শুরু করে করণ-অর্জুন, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে, কুচ কুচ হোতা হ্যায়-সহ অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা তারা উপহার দিয়েছেন। তবে জানেন কি, এই কিং খানের বিপরীতে বেশ কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কাজল। এর মধ্যে ‘মোহাব্বতে’, ‘কাভি আল বিদা না ক্যাহ না’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘চালতে চালতে’,  ‘দেবদাস’, ‘ভীর-জারা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শুধু শাহরুখ খান নয়, সালমানের বিপরীতে ‘হাম দিল চুকে সানাম’, ‘খামোশী’, আমির খানের বিপরীতে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমাটিও করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন কাজল।

  • অক্ষয় কুমার

কালজয়ী ভারতীয় অ্যাথলেট মিলখা সিং-এর বায়োপিক ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-এ অভিনয়ের ডাক পড়েছিল বলিউড খিলাড়ি অক্ষয় কুমারের। কিন্তু তখন তিনি ব্যস্ত ছিলেন ‘দেশি বয়েজ’, হাউজফুল-২ সিনেমার শুটিং নিয়ে। এর কারণেই তিনি মিলখা সিং হতে রাজি হননি। অথচ নিজের চরিত্রে স্বয়ং মিলখা সিংয়ের প্রথম পছন্দ ছিল অক্ষয় কুমার। ছবিটি সব মিলিয়ে ৪০ টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছিল, যা অক্ষয়ের আফসোস বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে, বলাই যায়।

  • দীপিকা পাড়ুকোন

২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যাব তাক হ্যায় জান’ সিনেমার মিরা চরিত্রে পরিচালক যশ চোপড়ার প্রথম পছন্দ ছিল দীপিকা পাড়ুকোন। কিন্তু বলিউড বাদশাহর বিপরীতে ওই সিনেমায় অভিনয় অস্বীকৃতি জানান দীপিকা। এ ছাড়া হিন্দি সিনেমা জগতে মিস্টার পারফেকসনিস্ট খ্যাত আমির খানের সঙ্গে ধুম ৩, এবং সালমান খানের বিপরীতে কিক, প্রেম রতন ধন পায়ো-সহ অনেক ছবি অজানা কারনে ফিরিয়ে দেন তিনি।

অথচ, ছবি তিনটি বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্লকবাস্টার হিসেবে আখ্যা পেয়েছে। শুধু বলিউড নয়, হলিউড পরিচালকদেরও নিরাশ করেছেন দীপিকা। ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস-৭ এর মতো ধুন্ধুমার অ্যাকশন সিনেমা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তখন অবশ্য তিনি শাহরুখের সঙ্গে একটি মুভির শুটিংয়ে দুবাই ছিলেন।

  • সালমান খান

বলিউড ভাইজান সালমান খানের বৃহস্পতি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক তুঙ্গে। তাঁর সিনেমা মানেই যেন অঘোষিত সুপার হিট। তিনিও বেশ কিছু সিনেমা ছেড়ে দিয়েছিলেন, যেগুলো পরবর্তীতে হিট-সুপাহিটের তকমা পেয়েছে। চাকদে ইন্ডিয়ার স্ক্রিপ্ট সালমানকে মাথায় রেখেই লেখা হয়েছিল। কিন্তু, শিডিউল সমস্যার কারণে তিনি ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান।

সালমান খান

অন্য দিকে ‘গজনি’ সিনেমার জন্য আমির নিজেই সালমানের নাম প্রস্তাব করেন, অজানা কারণে সালমান ফিরিয়ে দিলে আমির নিজেই ওই চরিত্রটি করেন। ছবিটির বক্স অফিস কালেকশন সম্পর্কে নতুন করে কিছু না বললেও হবে। এ ছাড়া ‘বাজিগর’, ‘কাল হো না হো’র মতো আরও বেশ কিছু সিনেমা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলিউডের এই সুপারস্টার।

  • ক্যাটরিনা কাইফ

ক্যাটরিনা কাইফকে নাচ-গানে ভরপুর ‘হালকা’ চরিত্রেই অভিনয় করতে বেশিরভাগ সময় দেখা যায়। অথচ সুপারহিট সিনেমা চেন্নাই এক্সপ্রেসর ‘মিনাম্মা’ এবং ‘ইয়েহ জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’র ‘ন্যায়না’ কিংবা বাজিরাও মাস্তানির ‘মাস্তানি’ চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারতো। কিন্তু তা আর হলো কই। এ ছাড়া অনুরাগ বসুর বরফি, সঞ্জয় লীলা বানসালীর আরেকটি ছবি ‘গোলিও কি রাসলীলা রাম-লীলা’ সিনেমাটিও তিনি প্রত্যখান করে দিয়েছিলেন।

  • সাইফ আলী খান

পরিচালক আদিত্য চোপড়া ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে সাইফ আলি খানের কাছে গিয়েছিলেন। শুনতে অবাক লাগলেও সিমরানের রাজ হওয়ার কথা ছিল সাইফের। তখন ফ্লপ হিরো হিসেবেই পরিচিত ছিল তাঁর। তারপরও আদিত্যকে ফিরিয়ে দেন সাইফ।

শেষমেষ পরিচালক শাহরুখ খানের দারস্থ হন। ১৯৯৫ সালে ওই সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পর বলিউডে একটা শোরগোল পড়ে গিয়েছিল, যা এখন অবধি বিদ্যমান। এরকম একটা সুপার ডুপার হিট ছবি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটা নিশ্চয়ই এখনো তাকে ভীষণভাবে পোড়ায়। এর চেয়েও অবাক করা ব্যাপার হল, ছবিটির চিত্রনাট্য লেখা হয়েছিল স্বয়ং টম ক্রুজকে মাথায় রেখে।

  • কারিনা কাপুর

‘হাম দিল চুকে সানাম’-এর ‘নন্দিনী’ চরিত্রে ঐশ্বরিয়ার জায়গায় প্রথমে ভাবা হয়েছিল কারিনা কাপুরকে। এ ছাড়া কাহো না পেয়ার হ্যায়, কাল হো না হো, চেন্নাই এক্সপ্রেসের মতো সুপারহিট ও প্রসংশিত ছবিকেও কারিনা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভুল মনে হয় ‘কুইন’ এর মতো সিনেমা ছেড়ে দেওয়াটা। ভিকাস বেহেল পরিচালিত এ সিনেমার জন্য কঙ্গনা রনৌত জিতে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

  • শাহরুখ খান

‘কফি উইদ করণ’-এর এক শোতে শাহরুখ মজা করে বলেছিলেন, সে হচ্ছে ফোর্থ ইডিয়ট, যে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমাটি করেনি। আসলে ক্যারিয়ারের এই ক্রান্তিকাল মুহূর্তে কিং খানের আফসোস হওয়ারই কথা। কারণ, শুধু থ্রি ইডিয়টসই নয়, ‘লাগান’, ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’, ‘লাগে রাহো মুন্না ভাই’, ‘রোবট’, ‘এক থা টাইগার’, ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-সহ এরকম অনেক ক্লাসিক্যাল ব্লকবাস্টার মুভি অবলীলায় ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

আরো পড়ুন

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।