বায়োপিক মানেই অবারিত সাফল্য নয়!

বলিউডে সময় এখন বায়োপিকের। আর বলাই বাহুল্য যে এই ধারাটা দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে বেশ প্রশংসিতও হচ্ছে। আর সবাই এক বাক্যে একটা ব্যাপার স্বীকার করে নেমে যে, এই ধারায় কাজ করতে গিয়ে নির্মাতারা যথেষ্ট পরিশ্রম করছেন। তাঁদের এই সৎ চেষ্টা বক্স অফিসে সাফল্য আনছে। ‘দঙ্গল’, ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ কিংবা ‘এমএস ধোনি’ সিনেমাগুলো কম বেশি আলোচিত ও সাফল্যমন্ডিত হয়েছে। তবে, এত কিছুর ভিড়ে এমন কিছু বায়োপিকও এসেছে যারা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

  • ড্যাডি

না, ড্যাডি কোনো মন্দ সিনেমা নয়। এটা মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম বর্ণাঢ্য এক চরিত্রের ওটর নির্মিত।  অরুণ গৌলির উত্থানে পরিচালক ডিটেইলিংয়ের কোনো কমতি রাখেনি। বস্তি বাসিন্দা থেকে মুম্বাইয়ের ক্ষমতাধর শক্তি – এটুকুই তো যথেষ্ট। তবে, এর কিছুটা মনোযোগ যদি চরিত্র ও গল্প নির্মানে পরিচালক দিতেন তাহলে নি:সন্দেহে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো।

  • মঙ্গল পান্ডে: দ্য রাইজিং

সিনেমাটির ওপর প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। আর তাতে কোনো দোষও নেই কারণ কেতন মেহতার পরিচালনায় সিনেমাটির নাম চরিত্রে ছিলেন স্বয়ং আমির খান। সিপাহী বিদ্রোহের ওপর নির্মিত সিনেমার জন্য নিজের পুরো ভোল পাল্টে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু, সিনেমাটা বক্স অফিসে পাত্তাই পেল না। দেখে মনে হয়েছে, স্টোরি টেলিংটা যেন আধো আধো করে হয়েছে। এমনকি এ আর রহমানের মিউজিকও সিনেমাটির ডুবে যাওয়া ঠ্যাকাতে পারেনি।

  • সার্বজিৎ সিং

এই সিনেমাটি প্রমাণ করেছিল যে, কারো ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্সও কোনো সিনেমাকে বাঁচাতে যথেষ্ট নয়। অভিনেতা রণদীপ হুডা কিংবা ঐশ্বরিয়া রায়রা তাঁদের চেষ্টার কমতি করেননি। আর সার্বজিৎ সিংয়ের গল্পটাই এমন যে সেটা পাহাড়ও কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম। কিন্তু অনেক বেশি ড্রামাটাইজেশন ও মেলোড্রামাই সিনেমাতে ‘ভিলেন’ হিসেবে কাজ করেছে।

  • আজহার

এটাকে এমন একটা বায়োপিক বলা যায়, যা ছিল হতাশা-বিরক্তির চূড়ান্ত। বায়োপিকে অতিরঞ্জন থাকেই, কিন্তু আজহারে একটু বেশিই ছিল। গল্প আর ডিরেকশনের গলদা তাই ইমরান হাশমী একা সামলে উঠতে পারেনি। ক্রিকেটার আজহারউদ্দিনের জীবন অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় তথ্য বিকৃতিও ঘটেছে অনেক ক্ষেত্রেই।

  • খেলে হাম জি জান সে

‘লগন’ খ্যাত আশুতোষ গোয়ারিকরের আরেকটি পিরিওডিক্যাল ছবি। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিষেক বচ্চন, দিপীকা পাড়ুকোন। প্লট স্বয়ং চট্টগ্রামের কিংবদন্তি বিপ্লবী মাস্টারদা সুর্য সেন। সমালোচকরাও ছবিটা পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু, বক্স অফিসে টেকেনি ছবিটি। কারণ, এত লম্বা ছবি নাকি থিয়েটারে দর্শকদের বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে।

  • হাওয়াইজাদা

স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে আয়ুষ্মান খুড়ানার যে ‍গুটিকয়েক ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে – তার মধ্যে একটি হল হাওয়াইজাদে। শিবকর বাপুজি তালপাড়ে নামের এক স্কলার সেই ১৮৯৫ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় প্রথম বিমান বানিয়েছিলেন। নাম দিয়েছিলেন ‘মরুতসখা’। যদিও, তাঁর বায়োপিক থেকে একালের দর্শকরা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

  • হাসিনা পার্কার

সিনেমার গল্পটা কোথা থেকে শুরু হল, আর কোথায় গিয়ে শেষ হল – কিছুই তেমন একটা বোঝা যায় না। বিশেষ করে মূল চরিত্রে শ্রদ্ধা কাপুর একদমই মানানসই ছিলেন না। মুখে কিছু একটা নিয়ে তিনি যে বিচিত্র ভঙ্গীতে স্লো-মোশনে কথা বলতেন, সেটা ছিল যথেষ্ট হাস্যকর।

  • ঠাকরে

কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন স্বয়ং নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী – সিনেমাটির ব্যাপারে আগ্রহী হওয়ার জন্য এই তথ্যটাই যথেষ্ট। তবে, আদতে ‘ঠাকরে’ ছবিটি একটা প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছুই নয়। এখানে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে তাঁঁদের সাধুবাদ জানানো হয়েছে। মূলত এটা ভারতের বিতর্কিত ও সমালোচিত রাজনৈতিক দল শিব সেনার প্রধান বাল ঠাকরের জীবনী অবলম্বনে নির্মিত, যিনি কার্টুনিস্ট-সাংবাদিক থেকে পুরোদস্তর রাজনীতিবিদ বনে যান, যাকে একটা পর্যায়ে মুম্বাইয়ের হিন্দুরা ঈশ্বরের পরেই স্থান দিয়েছে। তবে, চিত্রনাট্যে গণ্ডগোল, স্ব-বিরোধীতা ও কট্টর হিন্দুত্ববাদকে অযথা গ্লোরিফাই করায় নওয়াজের দুর্দান্ত অভিনয়ের পরও ছবিটা বক্স অফিসে টিকতে পারেনি।

– দেশিমার্টিনি.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।