বীর বাঙালির স্বভাবসুলভ কমেন্ট-প্রতিভা!

বিল গেটসের করা পাবলিক পোস্টের তারিখটার দিকে লক্ষ্য করুন। জানুয়ারির ১৫ তারিখ মানে আজ থেকে চারমাস আগে বিল গেটস পুরো একটা আর্টিকেল প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশি গবেষক ড. সমীর সাহা আর তার মেয়ে সেঁজুতি সাহার নিরলস সব সাধনা আর অবদানের গল্প নিয়ে।

অথচ আমরা বাংলাদেশিরাই হয়তো তাদের নাম জীবনে প্রথমবারের মত শুনেছি এইতো মাত্র চার-পাঁচদিন আগে, বাংলাদেশে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর। জাতি হিসাবে কেন আমরা এখনও এত পিছিয়ে অাছি,তার হাজারটা কারণের এটা একটা বেশ বড় উপসর্গ।

যাই হোক, বিল গেটসের সেই ফেইসবুক পোস্টের নিচে স্বয়ং ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জুকারবার্গ গিয়ে কমেন্ট করেন তাদের কাজকে স্বাগত জানিয়ে। বিল গেটস এবং জুকারবার্গ তাদের নিজ নিজ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সহায়তাও করেছেন সমীর-সেঁজুতি টিমকে বাংলাদেশে করোনার জিনোম সিকোয়েন্সিং রিসার্চের জন্য।

এত সব ভালো খবরের ভেতর একটু অন্যজায়গায় দৃষ্টি পরলো। জুকারবার্গের ওই কমেন্টের নিচের রিপ্লাই গুলোতে একটু চোখ বুলালাম। আমরা পারতাম তাদের এই পোস্ট আর কমেন্টের নিচে গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ এবং আন্তরিকতা জানাতে।

তাতে করে আর কিছু না হোক অন্ততপক্ষে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বাংলাদেশ নামটার ইম্প্রেশন একটু হলেও বাড়তে পারত। ধরেই নিলাম আমরা কাউকে ধন্যবাদ জানাতেই পারি না, অন্তত চুপ থাকতাম। কিন্তু বীর বাঙালি শুরু করেছে তাদের স্বভাবসুলভ কমেন্ট-প্রতিভা। বেশ কিছুদিন ধরেই একেবারে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এই কালচারটা গড়ে উঠছে। কোথায় কতটুকু ট্রল করা যায়,
তার সীমানাটা জানা বড্ড বেশি জরুরী।

চাংখারপুলকে যে পাল্লায় মাপি, লিভারপুলকেও যেন মাপতে চাই সেই পাল্লাতেই। দেশীয় গণ্ডির ভেতর এসব নোংরামি তো করেই, এবার পুরো বিশ্বের বুকে বীরদর্পে তুলে ধরা শুরু করেছে নিজেদের ক্লাস। অবশ্য যাদের কাছে অনলাইন দুনিয়া মানেই খান হেলাল আর ওমর সানী টাইপ লোকদের কমেন্টবক্সে মন্তব্য প্রকাশ করা, তাদের কাছে কী-ই বা আর আশা করা উচিৎ!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।