বিল গেটসের তিনটি টিপস কাজে লাগতে পারে আপনারও!

যেকোনো বিষয়ে বড়লোক বা বিখ্যাত লোকদের টিপস সাধারণত আমি এড়িয়ে চলি। কিন্তু বই পড়া বিষয়ক বিল গেটসের এই তিনটা টিপস সত্যিই কাজের বলে মনে হচ্ছে।

  • বইয়ের পাশে ইচ্ছেমতো নোট নেওয়া।

নিজের ভালো লাগা, দ্বিমত আছে বা সেই সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত ভাবনা বইয়ের মার্জিন বরাবর লিখে রাখা সত্যিই কাজের। অনেকে দাগাদাগি করে বই নষ্ট করতে চান না – আরে বইটা তো আপনি টাকা দিয়ে কিনেছেন, এটার সম্পূর্ণ মালিকানা আপনার। ‘নষ্ট’ করলে তো কেউ বকা দেবে না। তাই বইটাকে যথেচ্ছভাবে পড়ে, দাগাদাগি করে যা ইচ্ছে করেন। এতে ওই বই পড়ার যে উদ্দেশ্য, বিনোদন এবং নিজের চিন্তা বিকশিত করা – দুটোই অনেকখানি হাসিল হবে। কয়েক বছর পরে বইটা আবার পড়ার সময় আগের চিন্তা এবং বর্তমান চিন্তা বিশ্লেষন করেও আনন্দ পাবেন।

  • কোনো বই শুরু করলে সেটা শেষ করা।

অনেকে বলেন খারাপ বই পড়ে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। কথা সত্য। তাই বই শুরু করার আগেই সেটা খারাপ না ভালো সেই বিষয়টা বুঝে নিন। সেটা বোঝা খুব একটা কষ্টের কাজ না। আপনার আগ্রহের বই না হলে সেটা শুরু করারই দরকার নাই। তবে শুরু করলে সেটা শেষ করা উচিত। (গেটস নিজেই তার ওয়েবসাইটে নানা সময় ‘ভালো’ বইয়ের লিস্ট দেন, সবই মূলত নন ফিকশন। তবে ফিকশন-ননফিকশন, বাংলা-ইংরেজি ‘ভালো’ বইয়ের এত লিস্ট ইন্টারনেট জগতের চারদিকে ছড়িয়ে আছে যে সেগুলো ফলো করলেও হয়।)

  • প্রতিদিন অন্তত এক ঘন্টা টানা পড়া।

বর্তমান হোমো স্যাপিয়েন্সের সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের অ্যাটেনশন স্প্যান আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়া। তাই বই পড়তে শুরু করলে সকল ডিভাইস বন্ধ করে (আইপ্যাড হলে সেটার ইন্টারনেট কানেকশন অফ করে) টানা ১ ঘন্টা পড়া। না হয় আমাদের মনোযোগ দ্রুতই এদিক সেদিক ছুটে বেড়ায়। বইয়ের জগতে থিতু হতে অন্তত ১ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগ প্রয়োজন। গেটস সাধারণত রাতে শোয়ার আগে সেই এক ঘন্টা সময় দেন। এভাবে তিনি সপ্তাহে একটা বই শেষ করেন।

উপরের তিনটা বিষয়েই আমি সম্পূর্ণ একমত। এইজন্যই বলে গ্রেট মাইন্ডস থিংক অ্যালাইক।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।