ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় সমর্থক!

কোলিন্ডা গ্রাবার-কিটারোভিচের জন্য গত কয়েকটা সপ্তাহ অন্যরকমই কেটেছে। তিনি সময় কাটিয়েছেন রাশিয়ায়। গ্যালারিতে বসে থেথে সমর্থন যুগিয়েছেন লুকা মড্রিচের দলকে। তার উপস্থিতিতেই তো ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকেট পেল ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার এই প্রধান মন্ত্রী  ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এই বিশ্বকাপ চলাকালে বড় এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছেন। অনেকেই তাঁকে মডেল মনে করে বসেছিলেন। তবে, সেটা না হলেও, আকর্ষণীয় এই প্রধানমন্ত্রী ক্রোয়েশিয়া দলের সবচেয়ে বড় সমর্থক।

ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের পর কোলিন্ডা গিয়ে হাজির হয়েছিলেন খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে। মাঠের খেলার জন্য খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে আবারো পেনাল্টি শ্যূট আউটে রাশিয়াকে হারায় হারায় ক্রোয়েশিয়া।

এবারো খেলোয়াড়দের সাথে পার্টি করেন ৪৬ বছর বয়সী কোলিন্ডা। শুধু তাই নয়, গ্যালারিতে বসে তিনি খোদ রাশিয়ান প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের সামনেই জয়ের উদযাপন করেন। নিশ্চয়ই ফাইনালে চলে যাওয়ার পেছনে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের এই ‘লেডি লাক’টাও কাজে দিয়েছে।

২০১৬ সালের কথা। সেবার এই প্রধানমন্ত্রীর কিছু খোলামেলা ছবি ভাইরাল হল ইন্টারনেটে। টুইটারে একজন লিখলেন, ‘এরপরের বার ক্রোয়েশিয়ার নাগরিকত্বের জন্য চেষ্টা করবো!’ আরেকজন লিখলেন, ‘আচ্ছা, ক্রোয়েশিয়ার দূতাবাসটা কোথায়!‘

তবে, ছবিটাই ভুল ছিল। কোলিন্ডার নয়, ছবিগুলো আসলে আমেরিকান মডেল কোকো অস্টিনের। দুই সন্তানের মা কোলিন্ডা একই সাথে  আমেরিকার ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত। ফলে, আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর দারুণ বোঝাপড়া।

ইংল্যান্ডের সাথে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি দেখা করেছেন ইংল্যান্ডের থেরেসা মে’র সাথে। এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নাম লেখা একটা ক্রোয়েশিয়ার জার্সিও উপহার হিসেবে সাথে নিয়ে যান কোলিন্ডা। একই রকম জার্সি উপহার পেয়েছেন ট্রাম্পও। বোঝাই যাচ্ছে, শুধু দলকে সমর্থনই নয়, কূটনীতিটাও ভালই বোঝেন কোলিন্ডা!

কোলিন্ডা, মডেল না হলেও রোল মডেল তো অবশ্যই। ২০১৫ সালে তিনি ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেন। একই সাথে তিনি হলেন ক্রোয়েশিয়ার সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। ফরাসি, জার্মান, ইতালিয়ানসহ পাঁচটি ভাষায় কথা বলতে পারেন তিনি।

কি ভাবছেন, বিলাসবহুল প্লেনে করে রাশিয়ায় দলের খেলা দেখতে যাওয়া কি এমন বড় ব্যাপার? – না, কোলিন্ডা সরকারের টাকায় রাশিয়া সফরে যাননি। তিনি সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে গিয়েছেন রাশিয়ায়। সেটাও ইকোনমি ক্লাসে চড়ে, ক্রোয়েশিয়ার অন্য সমর্থকদের সাথে।

ডেনমার্কের বিপক্ষে দ্বিতীয়পর্বের ম্যাচটা চাইলে তিনি ভিআইপি স্ট্যান্ড থেকেও দেখতে পারতেন। সেটা না করে তিনি দেখেছেন সাধারণ দর্শক গ্যালারিতে বসে!

– দ্য মিরর, বিবিসি ডেইলি নেশন ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।