নব্বই দশকের যত অপ্রত্যাশিত ফ্লপ

একটা সিনেমার হিট হওয়া বা না হওয়ার পেছনে অনেকগুলো ‘ফ্যাক্টর’ থাকে। একেকটা ছবি একেক কারণে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে হিট কিংবা ফ্লপ হয়। কোনে ছবির প্লট ভাল থাকে, কোনোটা আবার এক গাদা তারকা নিয়ে বাজিমাৎ করে। কোনো সিনেমাকে একাই টেনে নিয়ে যান কোনো তারকা, আবার কোনো পরিচালকের নির্মানগুণে সাফল্য পায়। কোনো ছবির সাফল্য-ব্যর্থতার পেছনে অভিনয়শৈলী কিংবা গানের শ্রুতিমধুরতাও প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

তবে, কোনো সিনেমা মুক্তির আগে অনেক আলোচিত হওয়ার পরও মুক্তির পর ফ্লপের তালিকায় সামিল হলে তাকে একটু অবাক করার বিষয়ই বলা যায়। নব্বই দশকের বলিউডে এমন অনেক নজীরই দেখা যায়। সেসব নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন।

  • আজুবা (১৯৯৯)

শশী কাপুরের পরিচালনায় নির্মিত আজুবার বাজেট ছিল প্রায় আট কোটি  ভারতীয় রুপি। ১৯৯১ সালের হিসাবে এটা ছিল বিশাল বাজেট। কিন্তু, ফ্যান্টাসি নির্ভর এই সিনেমা দর্শক একেবারেই গ্রহণ করেনি। অমিতাভ বচ্চন, ঋষি কাপুর, ডিম্পল কাপাডিয়া কিংবা অমরেশ পুরির মত তারকারাও ছবির ব্যর্থতা কমাতে পারেননি।

  • রুপ কি রানী চোরো কি রাজা (১৯৯৩)

প্রথমে শেখর কাপুর ছিলেন ছবিটির পরিচালক। পরে ‘ক্রিয়েটিভ’ মতপার্থক্যের কারণে তিনি সরে যান। পরিচালনার দায়িত্ব পান কাপুর ব্রাদার্সদের প্রিয় পরিচালক সতীষ কৌশিক। বিভিন্ন কারণে ছবিটির নির্মান শেষ করতে অনেক সময় লেগে যায়। একই সাথে ছবির অতিরিক্ত বাজেট এবং মাত্রাতিরিক্তি ড্রামাটিক স্ক্রিন-প্লে হওয়ায় কারণে দর্শক ছবিটিকে ফিরিয়ে দেয়। সিনেমায় অবশ্য তারকার কোনো কমতি ছিল না। অনিল কাপুর, জ্যাকি শ্রফ, শ্রীদেবী, অনুপম খের, জনি লিভার – কে ছিলেন না ছবিতে!

  • আউজার (১৯৯৭)

সালমান খানের ভাই সোহেল খানের পরিচালক হিসেবে হয় এই ছবি দিয়ে।। নানা কারণে মুক্তির আগেই আলোচনায় থাকলেও মুক্তির পর ফ্লপ করে মুভিটি। এক গ্যাঙস্টার ও একজন পুলিশের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে ছিলেন স্বয়ং সালমান খান ও সঞ্জয় কাপুর। নায়িকা ছিলেন শিল্পা শেঠি। আরো ছিলে পরেশ রাওয়াল।

  • রাজু চাচা (২০০০)

অজয় দেবগন প্রযোজিত শিশুতোষ সিনেমা। সেবারই প্রথম প্রযোজনায় নামেন অজয়। পরিচালনা করেন অজয়ের ভাই অনিল দেবগন। সিনেমায় একটি বাড়ির প্রোডাকশনেই এই খরচ হয় কেবল দুই কোটি ভারতীয় রুপি। কিন্তু শিশুতোষ সিনেমায় দর্শক অনাগ্রহ ও দূর্বল চিত্রনাট্যের কারণে ছবিটি ফ্লপ। যদিও কাজল-অজয় জুটির ছবিটি ওই যুগের তুলনায় একটু বেশিই ব্যয়বহুল ছিল। গানগুলোও জনপ্রিয় হয়।

  • ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি (২০০০)

শাহরুখ খান, জুহি চাওলা, আজিজ মির্জার প্রোডাকশন।এই ত্রয়ীন আগের সিনেমা ‘ইয়েস বস’ হিট হওয়ায় আগ্রহ শির্ষে ছিল। কিং খানের তখন সেরা সময়। শাহরুখ-জুহি জুটিও তখন বেশ জমে গেছে। কিন্তু ভিন্ন ধাচের গল্প নির্ভর এই সিনেমা দর্শক এর মন জয় করতে পারেনি। তবে, ছবিটির গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

এই পাঁচটি সিনেমার বাইরে আরো অনেক বড় বড় ফ্লপ ছিল নব্বই দশকে। অক্ষয় কুমার বা জ্যাকি শ্রফের ফ্লপের সংখ্যা  নব্বই দশকেই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু, কম বাজেট ও নিম্ন মানের ছবি বলে সেগুলো খুব একটা আলোচনায় আসে না। সেসব সিনেমার  মধ্যে কিমাত, ইনসাফ, লাহো কে দো রাং, গ্রহন, গুড্ডু, ইয়ে মাঝদার, ভিরগাতি, সাপুত, জাং, খাউফ অন্যতম। নব্বই দশকে মিঠুন চক্রবর্তী কিংবা ধর্মেন্দ্ররাও সুবিধা করতে পারেননি। একের পর এক নিম্ন মানের ফ্লপ ছবি করে কোনোক্রমে টিকে ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিতে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।