বিগ ব্যাশকে ‘হারিয়ে দিচ্ছে’ বিপিএল!

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে বিস্তর সমালোচনা আছে। যাচ্ছেতাই আম্পায়ারিং, তৃতীয় শ্রেণির ধারাভাষ্য, এলোমেলো আচরণ করা উইকেট – সব মিলিয়ে দর্শকমহল বিপিএল নিয়ে খুব কমই সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন। গেল আসরগুলোর মত এমনসব সংকট এই আসরেও আছে।

আর বিশেষ করে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে স্বয়ং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপ, বাইলজ পরিবর্তন, নীতিমালা পরিবর্তন – এগুলো তো আছেই। এসবের মধ্যেই এক কর্মকর্তা যখন বছর দুয়েক আগে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বলেছিলেন, তখন হাসির রোল উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তবে, এত সমালোচনা আর হাসি-তামাশার মধ্যেই একটি খবর প্রকাশ করলো অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা গণমাধ্যম ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’। তাদের দাবী, বিদেশি খেলোয়াড় কিনে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়ানোর লড়াইয়ে বিপিএলের কাছে হেরে যাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ।

তাঁদের এই মনে করার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ নি:সন্দেহে বিপিএলে ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভেন স্মিথের উপস্থিতি। তারা বিপিএলে শুধু খেলছেনই না, তারা যথাক্রমে সিলেট সিক্সার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়কও। তারা অস্ট্রেলিয়ান এই প্রজন্মেরই সেরা দুই ব্যাটসম্যান। বল টেম্পারিংয়ের খড়গে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ না হলে আজো দলের অধিনায়ক-সহ অধিনায়ক থাকতেন দু’জন, আজো দলের রণকৌশল সাজানোর দায়িত্বটা পড়তো এই  দু’জনের ওপরই। এখন সেই একই কাজটাই তারা করছেন বিপিএলে।

শুরুতে বিপিএল আয়োজনের জন্য অক্টোবরকে বিবেচনা করা হচ্ছিল। পরে নানা কারণে এটাকে পিছিয়ে জানুয়ারিতে নিয়ে আসা হয়। ফলে, বিপিএল আর বিগ ব্যাশ প্রায় এক সাথে বিশ্বের দু’টি ভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স এবারই প্রথম বিপিএল খেলবেন। চট্টগ্রাম পর্বেই তাঁর রংপুর রাইডার্স দলে যোগ দেওয়ার কথা। এর বাদে বিগ ব্যাশে সুযোগ থাকার পরও বিপিএলকে বেছে নিয়েছেন ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, কাইরেনে পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, ইয়াসির শাহ ও কার্লোস ব্র্যাথওয়াইটের মত ক্রিকেটাররা।

আলাদা করে বলতে হয় নেপালি লেগ স্পিনার সন্দীপ লামিছানের কথা। তিনি মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে বিগ ব্যাশ খেলছিলেন। বিগ ব্যাশের মাঝপথেই তিনি সিলেট সিক্সার্সের হয়ে বিপিএল খেলতে চলে এসেছেন। বিপিএল শেষ হলে আবার যোগ দেবেন বিগ ব্যাশে।

বিগ ব্যাশে এখন খেলে যাওয়া উল্লেখযোগ্য বিদেশি ক্রিকেটার হলেন অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের রশিদ খান, মেলবোর্ন রেনেগেডজের মোহাম্মদ নবী, সিডনি থান্ডারের দুই ইংলিশ ক্রিকেটার জো রুট ও জশ বাটলার।

বিদেশি খেলোয়াড়: বিপিএল বনাম বিগ ব্যাশ

বিপিএল: ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, এবি ডি ভিলিয়ার্স, সুনিল নারাইন, কাইরেন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, ইয়ান বেল, মোহাম্মদ আসিফ, স্টিভেন স্মিথ, শোয়েব মালিক, শহীদ আফ্রিদি, কার্লোস ব্র্যাথওয়াইট, ডেভিড মালান, লাসিথ মালিঙ্গা, ইয়াসির শাহ, মোহাম্মদ হাফিজ, সন্দীপ লামিছানে, রবি ফ্রাইলিংক, নিকোলাস পুরান।

বিগ ব্যাশ: জশ বাটলার, জো রুট, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, রশিদ খান, জোফরা আর্চার, মোহাম্মদ নবী, ডোয়াইন ব্রাভো, সন্দীপ লামিছানে, ডেভিড উইলি, টম কুরান, জো ডেনলি।

প্রথমবারের মত বিপিএল খেলতে আসছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স

বিগ ব্যাশের খেলোয়াড় হারানোর নেপথ্য কারণ

  • লম্বা সূচি

সিএ এবার পুরো হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতির বিগ ব্যাশ আয়োজন করছে। এর ফলে পুরো প্রতিযোগীতাতে সময় লাগছে দুই মাস। বিপিএল গেল পাঁচ জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে, শেষ হবে আট ফ্রেবুয়ারি। সেখানে বিগ ব্যাশ গেল ১৯ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে, শেষ হবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। এত লম্বা সময়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়াটা খুব মুশকিল ব্যাপার।

  • বড়দিনের ছুটি

বিগ ব্যাশ শুরু হয়েছে ১৯ ডিসেম্বর। মানে একটা বড় দিনের ছুটির সাথে সাংঘর্ষিক। সিডনি মর্নিং হেরাল্ড মনে করে, অধিকাংশ ক্রিকেটারই চান বড়দিনের সময়টা পরিবারের সাথে নিজেদের বাড়িতে কাটাতে। কিন্তু, বিগ ব্যাশে সেই সুযোগ ছিল না।

  • নীতিমালা

টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী বিপিএলে প্রতিটি দল নিজেদের স্কোয়াডে সর্বোচ্চ নয়জন বিদেশি ক্রিকেটার রাখতে পারবেন। অন্যদিকে বিগ ব্যাশে প্রতিটি দলে বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা হতে পারবে মাত্র দু’জন। এটাই আসলে সবচেয়ে বড় কারণ।

বিগ ব্যাশ চলাকালেই অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল নিজেদের দেশে ভারতের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে ব্যস্ত। চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ সদ্যই শেষ হল। শিগগিরই শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। ফলে, দেশের শীর্ষ অনেক ক্রিকেটারই বিগ ব্যাশে খেলতে পারছেন না।

বিদেশি খেলোয়াড়দের মান পড়ে যাওয়া বিগ ব্যাশ এখন ম্যাচ প্রতি ৩২০০ জন দর্শক হারিয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োক কর্তৃপক্ষ। গতবারের চেয়ে টেলিভিশন পর্দায় দেখা দর্শকের পরিমানও কমেছে শতকরা পাঁচ শতাংশ। যদিও, না বললেই নয় যে এরপরও বিগ ব্যাশে এখনো ম্যাচ প্রতি গ্যালারিতে উপস্থিত থাকেন ২১,৫৯১ জন দর্শক। সেই তুলনায় বিপিএলে দর্শক নেই বললেই চলে। টেলিভিশনের পর্দায় বা মাঠে বসে যারা খেলা দেখেছেন, নিশ্চয়ই খাঁ খাঁ গ্যালারি তাঁদের নজর এড়ায়নি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।