সবার চেয়ে আলাদা, সবার চেয়ে এগিয়ে

‘দাম লাগাকে হ্যায়শা’ চলচ্চিত্রে স্থূলকায় ‘সন্ধ্যা’র কথা মনে আছে? মনে আছে ‘টয়লেট:এক প্রেম কাথা’ চলচ্চিত্রের ‘জয়া’র কথা? দু’টি চরিত্রেই অভিনয় করেছেন ভূমি পেদনেকার। দর্শকদের স্থূলকায় সন্ধ্যার সাথে জয়ার মেলাতে কষ্ট হলেও এটা সত্য।

১৯৮৯ সালের ১৮ জুলাই জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ছয় বছর কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এর মত নামী জায়গায়। ২০১৫ সালে আয়ুষ্মান খোরানার বিপরীতে ‘দাম লাগাকে হ্যায়শা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ঘটে বলিউডে। চলচ্চিত্রটি সমালোচক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

ভূমি ‘নবাগত অভিনেত্রী’ ক্যাটাগরিতে জিতে নেন ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার, জি সিনে পুরস্কার, স্ক্রিন পুরস্কার, প্রোডিউসার গিল্ড পুরস্কার, ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম একাডেমি পুরস্কার। ২০১৭ সালে তিনি অভিনয় করেন ‘টয়লেট: এক প্রেম কাথা’ ও ‘শুভ মঙ্গল সাবধান’ এর মত সামাজিক সচেতনতামূলক চলচ্চিত্রে।

দু’টি চলচ্চিত্রই প্রশংসিত হয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছে। ‘টয়লেট: এক প্রেম কাথা’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি পান ‘দাদাসাহেব ফালকে ফিল্ম ফাউন্ডেশন পুরস্কার’। এই বছর তাকে দেখা গিয়েছে নেটফ্লিক্সের ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এ। ২০১৯ সালে সুশান্ত সিং রাজপুত-এর বিপরীতে ‘সনচিরিয়া’য় দেখা যাবে তাঁকে।

ভূমি পেডেনকার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, ১২ বছর বয়সে তিনি প্রথম তার মাকে জানান যে তিনি অভিনেত্রী হতে চান। কিন্তু,তার কথাকে হালকাভাবে নিয়েছিল সবাই। তাঁর মতে, যশ রাজ ফিল্মসে অ্যাসিস্ট্যান্ট কাস্টিং ডিরেক্টর হিসে কাজটা ছিল তার জন্য এক শিক্ষা ক্ষেত্র। কিন্তু, কাজটি সহজ ছিল না তার জন্য। মোকাবেলা করেছেন অনেক প্রতিকূলতার।

যশ রাজে কাজ নিয়ে থেমে থাকেননি তিনি। অভিনেত্রী হিসেবে দিয়েছেন অডিশন। এরই মধ্যে আসে জন্মদিন, পার্টি করছিলেন বন্ধু-পরিবারের সাথে। এরই মধ্যে আসে এক ফোন কল। আসে সুসংবাদ, জানতে পারেন নায়িকা হিসেবেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শুরু হল ‘দাম লাগাকে হ্যায়শা’র কাজ। শুরুটাই হল ভিন্ন ধরণের এক চরিত্র দিয়ে। নায়িকা মানেই হতে হবে লম্বা আর রোগা, চেহারা হতে হবে দ্যুতিময় – প্রচলিত এই ধারাকে ভেঙেছেন তিনি।

এসব দেখে তিনি নিজের মাঝে উপলব্ধি করেন। তিনি নিজেকে দর্শকদের সামনে যেভাবে উপস্থাপন করবেন,দর্শকেরা তাকে সেভাবেই গ্রহণ করবে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে,তিনি সাধারণ কেউ নন। নিজের মাঝের অসাধারণত্বকে আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন তিনি। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তিনি প্র‍থা ভাঙার চেষ্টা করবেন। সৃষ্টি করবেন নতুন ধারা। তিনি পেরেছেনও। তার অভিনীত চলচ্চিত্র তাকে এনে দিয়েছে খ্যাতি। এনে দিয়েছে পুরস্কার।

তিনি বলেন, ‘নতুনদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোটা শিখতে হয়। করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। এর আগে নিজেকে ভালবাসতে হবে। এখানে প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা। প্রত্যেকেরেই আলাদা কিছু গুন আছে। তবে, এর মধ্যেও তাকে হয়ে উঠতে হবে অসাধারণ।’

কেউ যদি তার নিজের মাঝে থাকা, ‘অসাধারণত্ব’কে জাগাতে পারে, তবে সেই ‘অসাধারণত্ব’ তাঁকে দিবে প্রতিকূলতা জয় করার ক্ষমতা। আর এই ক্ষমতাই তো তাঁকে এখন বাকিদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।