ভারত: পরিপূর্ণ ভারতীয় ‘মশলাদার’ ছবি!

ভারতের মুখশ্রী সবার সামনে চলে এসেছে। এই ভারত কিন্তু সেই ভারত নয়। এটা হল সালমান খানের নতুন ছবি ‘ভারত’। নামটা দিয়েই যাচ্ছে, ভারতীয় দর্শকদের দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষাই নিতে যাচ্ছে আলী আব্বাস জাফরের পরিচালনায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ছবিটি।

ট্রেইলার দেখেই বার্তাটা পরিস্কার। দর্শকদের আবেগ নিয়ে আবারো ‘খেলতে’ চলেছেন সালমান ও আব্বাস। যেমনটা এই জুটি আগে করেছেন ‘সুলতান’ কিংবা ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ছবিতে। ‘ভারত’-এ আবেগের সাথে আরো যোগ হবে দেশপ্রেম ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদ।

সিনেমার মত ট্রেইলারের মূল আকর্ষণ অবশ্যই সালমান খান। ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তাকে বিভিন্ন গেট আপে দেখা যাবে। সালমানকে এই রূপে দেখাটা আক্ষরিক অর্থেই দর্শকদের জন্য বিশেষ কিছু হবে।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল, এই ছবিটিতে নিজের ক্যারিয়ারে সম্ভবত প্রথমবারের মত নিজের চেয়ে বয়স্ক কোনো চরিত্র করবেন বলিউডের ভাইজান। ফলে, এটা বিনোদনের জগতে সালমানের জন্যই হয়তো নতুন মাইলফলক হবে।

ছবিটি খ্যাতনামা কোরিয়ান ছবি ‘ওডে টু মাই ফাদার’-এর অফিশিয়াল রিমেক। ছবিটি কোরিয়ান চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে আছে। সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কোরিয়ান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে।

সেখানে এবার যোগ হচ্ছে ভারতীয় প্রেক্ষাপট, ভারতীয় আবেগ, ভারতীয় রোম্যান্স, মশলা, আইটেম সং ইত্যাদি। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় ঘরানার এক ছবি হতে যাচ্ছে ভারত।

‘ভারত’ সিনেমাটি একজন ভারতীয় মধ্যবিত্তের গল্প। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র মানে সালমান খানের নামই হল ‘ভারত’। ১৯৪৭ থেকে ২০০০ সাল অবধি তাঁর জীবনের নানা উত্থান-পতন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির গল্প বলবে এই ছবিটি।

ভারতীয় রোম্যান্সের কথা যখন বলা হচ্ছে, তখন সবার আগেই বলা উচিৎ ক্যাটরিনা কাইফের কথা। সম্ভবত এবারই প্রথমবারের মত শুদ্ধ ভাবে হিন্দি ভাষায় কথা বলতে দেখা যাবে তাকে। ছোট্ট একটা চরিত্র করবেন দিশা পাতানি। ট্রেইলার দেখে বোঝা গেল, সিনেমাটিতে তিনি হতে যাচ্ছেন সারপ্রাইজ প্যাকেজ। আধুনিক কেতা মেনে যথারীতি আইটেম সংও আছে। সেটা করছেন নোরা ফাতেহি।

অন্যান্য চরিত্রে আছেন সুনীল গ্রোভার, জ্যাকি শ্রফ ও টাবু। যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন অতুল অগ্নিহোত্রী, আলভিরা খান অগ্নিহোত্রী, ভূষণ কুমার, কৃষান কুমার, নিখিল নমিত ও সালমান খানের প্রোডাকশন হাউজ ‘এসকেএফ’।

বরাবরই ঈদুল ফিতরকে বড় কোনো ছবি নিয়ে হাজির হন সালমান খান। লম্বা সময় ধরে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। প্রত্যাশামাফিক ছবিগুলো বিস্তর সাফল্যও পায়। তবে, গেল বছর ‘রেস ৩’-তে সালমানের এই সুনামে দাগ লাগিয়েছে। মোটা দাগে ছবিটা ফ্লপ না হলেও উদ্ভট চিত্রনাট্য দর্শক ও সমালোচকদের হতাশ করেছে।

এবার ভারত দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে নিজের হারানো আসন সালমান আদৌ ফিরে পান কি না, এখন সেটাই দেখা বিষয়। তবে, ‍সুদিন না ফিরলে একটা ভুতুড়ে ব্যাপার হবে। শিরোনাম হতে পারে – ‘হতাশ করলো ভারত’। এই বাক্যটা নিশ্চয়ই কোনো ভারতীয়র কাছে সুখকর হবে না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।