এশিয়া কাপের সেরা একাদশ

প্রথমেই আসি ওপেনার প্রসঙ্গে। নিঃসন্দেহে এশিয়া কাপের এবারের আসরের সেরা ওপেনিং জুটি ভারতের শিখর ধাওয়ান (৫ ইনিংসে ৩৪২ রান) এবং রোহিত শর্মা (৫ ইনিংসে ৩১৭ রান)। এই দুজন বাদে পাকিস্তানের ইমাম-উল-হক (৫ ইনিংসে ২২৫ রান), আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শাহজাদ (৫ ইনিংসে ২৬৮ রান) এবং বাংলাদেশের লিটন দাসও (৬ ইনিংসে ১৮১ রান) ভাল খেলেছেন। তবে পরিসংখ্যান বিবেচনায় সবার ওপরে থাকবেন ধাওয়ান-রোহিত জুটি।

তিন নম্বর জায়গাটির জন্য আমি বেছে নিয়েছি ইমাম-উল-হককে। কারণ তিন নম্বর পজিশনে এবার কেউই তেমন একটা ভাল করতে পারে নি। আর আমার কাছে মনে হয়েছে ইমাম ওপেনার হলেও তিনে খেলার সেই টেকনিক কিংবা টেম্পারমেন্টটা তার মধ্যে আছে।

হ্যাঁ, আম্বাতি রাইডু (৬ ইনিংসে ১৭৫ রান), বাবর আজম (৫ ইনিংসে ১৫৬ রান), রহমত শাহ (৫ ইনিংসে ১২২ রান ও ১ উইকেট) কিংবা সাকিব আল হাসানের (৪ ইনিংসে ৪৯ রান ও ৭ উইকেট) কথাও মাথায় এসেছিল। কিন্তু ব্যাট হাতে সেভাবে ইম্প্যাক্ট ফেলতে পারেন নি এদের কেউই।

চার নম্বর পজিশনে আসরের সেরা ব্যাটসম্যান নিঃসন্দেহে মুশফিকুর রহিম (৫ ইনিংসে ৩০২ রান)। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর ১৪৪ রানের ইনিংসটি তো টুর্নামেন্টেরই সেরা ইনিংস।

দিনেশ কার্তিক (৬ ইনিংসে ১৪৬ রান), আসগর আফগান (৫ ইনিংসে ১১৫ রান) এবং সরফরাজ আহমেদদের (৪ ইনিংসে ৬৮ রান) দুরবস্থাই বলে দিচ্ছে, চার নম্বরে ব্যাট করা বাকিদের চাইতে কতটা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন মুশফিক।

পাঁচ নম্বর পজিশনে আমার পছন্দ আফগানিস্তানের বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হাশমতউল্লাহ শহীদী। ৫ ইনিংস খেলে তাঁর সংগ্রহ ২৬৩ রান।

৫ নম্বরে খেলা অন্য ব্যাটসম্যানরা হলেন শোয়েব মালিক (৫ ইনিংসে ২১১ রান), মোহাম্মদ মিথুন (৬ ইনিংসে ১৩৭ রান) এবং এমএস ধোনি (৪ ইনিংসে ৭৭ রান)।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ছয় নম্বর পজিশনটা মূলত ফিনিশারের। এই পজিশনে খেলার জন্য শোয়েব মালিকের চাইতে যোগ্য সত্যি বলতে কাউকেই খুঁজে পাই নি এবার। মালিক মূলত পাঁচ নম্বরে ব্যাট করলেও ছয় নম্বর পজিশনে মানিয়ে নিতে পারবেন অনায়াসেই।

ছয় নম্বর পজিশনের জন্য মালিকের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৬ ইনিংসে ১৫৬ রান ও ৩ উইকেট)। কিন্তু ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে থাকবেন তিনি।

এই পজিশনে বাকিদের অবস্থা আরও করুণ। আসিফ আলী (৪ ইনিংসে ৭৭ রান), গুলবাদিন নাইব (৫ ইনিংসে ৭১ রান ও ৫ উইকেট) এবং কেদার যাদব (৩ ইনিংসে ৭০ রান ও ৬ উইকেট)। বল হাতে ইফেক্টিভিটি বিবেচনায় কেদারকে বলা যায় মন্দের ভালো।

সাত নম্বর পজিশনে স্পিন অলরাউন্ডার রোলে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬ ম্যাচে মাত্র ১১০ রান করলেও ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই ব্যাট হাতে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছে সে। আর বোলিংয়ে মাত্র ৪ উইকেট পেলেও টুর্নামেন্ট জুড়ে বল হাতে তার নিয়ন্ত্রণ ছিল এককথায় অসাধারণ। ইকোনমি রেট মাত্র ৩.৫৬!

সাত নম্বর পজিশনের জন্য বিবেচনায় আসতে পারতেন মোহাম্মদ নবী (৫ ইনিংসে ১৩৭ রান ও ৫ উইকেট, ইকোনমি ৩.৭৬) কিংবা রবীন্দ্র জাদেজাও (২ ম্যাচে ৭ উইকেট ও ৪৮ রান)। বিগ হিটিং এবিলিটি এবং অভিজ্ঞতার বিচারে এগিয়ে রাখতে হবে মোহাম্মদ নবীকেই। এক্ষেত্রে নবী-মিরাজ যে কেউ আসতে পারেন একাদশে।

আট নম্বর পজিশনে অটোমেটিক চয়েস আফগান অলরাউন্ডার, বর্তমান বিশ্বের সেরা লেগ স্পিনার রশিদ খান। ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা বোলারও তিনিই। ব্যাট হাতে তার দুর্দান্ত একটি ফিফটিও আছে।

এক্ষেত্রে রশিদ খানের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন যিনি, সেই শাদাব খান এবার হতাশ করেছেন। ২০ বছর বয়সী এই ডানহাতি লেগ স্পিনার ৪ ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ৪টি আর ব্যাট হাতে করেছেন সর্বসাকুল্যে মাত্র ২২ রান!

নয় নম্বরে আমার পছন্দ মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৬ ইনিংসে তিনি করেছেন ৬৭ রান এবং উইকেট নিয়েছেন ৬টা। তবে তুখোড় নেতৃত্বগুণ, ক্রিকেটিং সেন্স, ট্যাক্টিকাল বুদ্ধিমত্তা, ডেডিকেশন, ইম্প্যাক্ট এবং মাঠের পারফরমেন্স বিবেচনায় এবারের আসরের ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য টুর্নামেন্ট’ মাশরাফি।

ভুবনেশ্বর কুমার (৫ ম্যাচে ৬ উইকেট), আফতাব আলম (৫ ম্যাচে ৬ উইকেট) কিংবা হাসান আলীরা (৫ ম্যাচে ৫ উইকেট) পরিসংখ্যানের দিক থেকে খুব একটা পিছিয়ে না থাকলেও মাশরাফির লিডারশীপ, ইম্প্যাক্ট এবং ইন্টেলিজেন্সের কাছে তারা হার মানতে বাধ্য।

আমার দলের দশ ও এগারো নম্বরে থাকছেন মুস্তাফিজ (৫ ম্যাচে ১০ উইকেট) এবং বুমরাহ (৪ ম্যাচে ৮ উইকেট)। সময়ের সেরা দুই ‘ডেথ ওভার’ স্পেশালিষ্টের জায়গা নিয়ে আশা করি কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।

এক্ষেত্রে আরও যারা বিবেচনায় আসতে পারতেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বোধ হয় কূলদীপ যাদব (৬ ম্যাচে ১০ উইকেট)। এছাড়া মুজিব জাদরান (৫ ম্যাচে ৭ উইকেট), যজুবেন্দ্র চাহাল (৫ ম্যাচে ৬ উইকেট) কিংবা রুবেল হোসেনরাও (৫ ম্যাচে ৬ উইকেট) আনলাকি ভাবতে পারেন নিজেদের।

তাহলে এশিয়া কাপের সেরা একাদশটি দাঁড়াচ্ছে এরকম –

·         শিখর ধাওয়ান

৫ ইনিংসে ৬৮.৪০ গড়ে ৩৪২ রান। সেঞ্চুরি ২টা।

·         রোহিত শর্মা

৫ ইনিংসে ১০৫.৬৭ গড়ে ৩১৭ রান। সেঞ্চুরি ১টা, ফিফটি ২টা।

·         ইমাম উল হক

৫ ইনিংসে ৪৫.০ গড়ে ২২৫ রান। ফিফটি ৩টা।

·         মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক)

৫ ইনিংসে ৬০.৪০ গড়ে ৩০২ রান। সেঞ্চুরি ১টা, ফিফটি ১টা।

·         হাশমতউল্লাহ শহীদী

৫ ইনিংসে ৬৫.৭৫ গড়ে ২৬৩ রান। ফিফটি ৩টা।

·         শোয়েব মালিক

৫ ইনিংসে ৭০.৩৩ গড়ে ২১১ রান। ফিফটি ২টা।

·         মেহেদী হাসান মিরাজ

৬ ম্যাচে ১১০ রান এবং ৪ উইকেট। বোলিং গড় ৪২.৭৫, ইকোনমি ৩.৫৬।

·         রশিদ খান

৫ ম্যাচে ১০ উইকেট ও ৮৭ রান। বোলিং গড় ১৭.২০, ইকোনমি ৩.৭৩।

·         মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক)

– ৬ ম্যাচে ৬ উইকেট এবং ৬৭ রান। বোলিং গড় ৪২.০০, ইকোনমি ৫.৪৭।

·         জাসপ্রিত বুমরাহ

৪ ম্যাচে ৮ উইকেট। বোলিং গড় ১৬.০, ইকোনমি ৩.৬৭।

·         মুস্তাফিজুর রহমান

৫ ম্যাচে ১০ উইকেট। বোলিং গড় ১৮.৫০, ইকোনমি ৪.৪০।

·         কূলদীপ যাদব (দ্বাদশ ব্যক্তি)

 

৬ ম্যাচে ১০ উইকেট। বোলিং গড় ২৩.১৬, ইকোনমি ৩.৯৭।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।