জমে উঠুন থ্রিলার ছবির আবহে

থ্রিলার কে না ভালবাসে? বিশেষ করে শীতের আবহ কিংবা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির দিনে থ্রিলারের গোলকধাঁধায় জমে ওঠার চেয়ে উপভোগ্য আর কী বা হতে পারে। প্রিয়জন, পছন্দের খাবার আর সঙ্গে যদি একখানা সিনেমা হয় তাহলে বিরক্তি কাটতে সময় লাগবে না। কথা না বাড়িয়ে চলুন তবে এমন ক’টা থ্রিলার মুভির সন্ধান করি, যা এই আবহাওয়া জমিয়ে দেবে!

  • হু অ্যাম আই? (২০১৪)

জার্মানির মুভি। হ্যাকিং, ডার্কনেট এসব নিয়ে। ভীষণ ফাস্ট আর দুর্ধর্ষ সিনেমা! একদল তরুণ ডার্কওয়েবে জড়িয়ে যায় নানান অপকর্মে। নেশা চেপে বসে নিষিদ্ধ জগতের আরো গভীরে যেতে। ফাঁদে পড়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দলের এক একজন। পুলিশ অফিসার মহিলার সামনে জবানবন্দি দিতে থাকে, চেষ্টা করে নিজেকে প্রমাণের। মাইন্ড গেইমের সাক্ষী হতে পারবেন সিনেমার একপর্যায়ে, বাকীটুকু না হয় দেখেই নিন!

  • এক্সাম (২০০৯)

নামকরা এক প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিইও পদের নিয়োগ পরীক্ষা। আটজন পরীক্ষার্থী। একটা বন্ধ ঘর। সময় ৮০ মিনিট। খাতা দেওয়া হলো সকলকে। আরদশটা নিয়োগ পরীক্ষার মতোই লাগছে? তাহলে থামুন। হলে কোন গার্ড নেই। আবার থামুন। নকল করবে? কোন প্রশ্নই তো নেই! জ্বি, কোন প্রশ্ন নেই। শুরুতে কয়েকজন এসে কিছু নিয়মকানুন বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। শেষে সবাইকে কোন প্রশ্ন জানার আছে কি না এটা জিজ্ঞেস করেই চলে গেলেন। বন্ধ ঘরে শুরু হলো প্রশ্ন খোঁজা। যেন জীবন মরণের লড়াই। ওহ হ্যাঁ, দর্শক আপনিও কিন্তু ওখানকার নবম পরীক্ষার্থী। আপনারও কি এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন আছে? অ্যানি কোয়েশ্চেন?

  • ডোন্ট ব্রিদ (২০১৬)

থ্রিলার হরর কম্বো! এক অন্ধ সাইকো মিলিটারির ধূর্ততার জালে ফেঁসে যায় কয়েকজন। সেখান থেকে বেরুবে কি করে? নিঃশ্বাসের শব্দ শুনলেই বুড়োটা হামলে পড়ে। সাসপেন্সে ভরপুর, দেড়ঘন্টা দারুভ কাটবে।

  • ইরাভুক্কু আয়িরাম কাঙ্গাল (২০১৮)

বাংলা অর্থ ‘রাতটির হাজারো চোখ’! ২০১৮ সালেতামিলে রিলিজ পাওয়া অসাধারণ থ্রিলার মুভি। বৃষ্টির রাতে এক ফ্ল্যাটে খুন হয় মায়া নামের একটি মেয়ে। কে খুনি? কেনই বা করলো? গোটা সিনেমায়, বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্সগুলায় হলিউডের খানিকটা স্বাদ পেয়ে যেতে পারেন।

  • ব্যাড জিনিয়াস (২০১৭)

আপনি আমি সবাই কমবেশি পরীক্ষায় নকল করে এসেছি। হলগার্ডকে এড়িয়ে অন্যের কাছ থেকে দেখার জন্যে বের করেছি নিত্যনতুন উপায়। তবে ওসব স্কুল কলেজের সাধারণ পরীক্ষাতেই। আর বন্ধুদের দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে হয়ত পেটপূজোটাই বেশি হতো। কিন্তু, নকল করে কাঁড়িকাঁড়ি টাকা আয়? ভাবা যায়?

সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত থাইল্যান্ডের এই সিনেমাটি ঠিক এটিই ভাবাবে আপনাকে। সঙ্গে অভিনব পদ্ধতিতে নকল করা নিয়ে নানান কারসাজিতে চোখ চড়কগাছে উঠবে। এককথায় চমৎকার ফ্রেশ একটা সিনেমা, যার পরতে পরতে উত্তেজনা! এই বুঝি খেল ধরা! চলচ্চিত্র সমালোচনা বিষয়ক ওয়েবসাইট রটেন টম্যাটোতে ১০০ পাওয়া মুভি এটি।

  • ফরগটেন (২০১৭)

একটা অসাধারণ মিস্ট্রি থ্রিলার। ভাইকে বাঁচাতে কিডন্যাপদের পেছনে ছুটে ছুটে আহত হয় নায়ক। তারপর থানায় যায় সাহায্যের জন্য। সেখানে গিয়ে মনে হয় সাহায্য নিজেরই লাগবে। অনেক কিছুই হুট করে অচেনা, বিস্ময়কর ঠেকতে থাকে, ঘুরপাক খেতে থাকে গাদাগাদা প্রশ্ন!

কে আমি? বয়স কত? এখন কত সাল চলছে? যেখানে আছি আমি তাহলে তারা কারা?
হ্যাঁ! পরিবারেই কিছু উল্টাপাল্টার গন্ধ পায় সে। নামে অনুসন্ধানে। আপনারাও নেমে পড়ুন তার সঙ্গে, দেখুন হিরোর আগেই উত্তর খুঁজে পান কি না!

  • কাইথি (২০১৯)

কার্থি শিবকুমার অভিনীত ২০১৯ সালের অন্যতম সেরা তামিল মিস্ট্রি থ্রিলার সিনেমা কাইথি। দশ বছর পর জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক আসামী উপকার করে পুলিশের! মাফিয়াচক্রের আটশ কেজি ড্রাগ আটক করার পর সেগুলো উদ্ধার করতে পুলিশের পার্টিতে খাবারের সঙ্গে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে সবাইকে অসুস্থ করে দেয়। একদিকে একঝাঁক পুলিশ অফিসারকে বাঁচাতে হবে, সময়মতো নিতে হবে হাসপাতালে, অপরদিকে হারানো ড্রাগ ফিরে ফেতে গ্যাংস্টারদের হামলা! আড়াইঘন্টার দুর্দান্ত রোড ট্রিপে দম বন্ধ করা থ্রিল পাবেন, পাবেন কার্থির ক্যারিয়ার সেরা অভিনয় আর চমৎকার গল্পের চিত্রায়ন।

  • কালের পুতুল (২০১৮)

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। বেশ ভালো একটা কাজ উপহার দিয়েছেন পরিচালক আকা রেজা গালিব। ফেরদৌস, রাইসুল ইসলাম আসাদের মতোন অভিনেতাদের সমন্বয়ে পাহাড়ি লোকেশনে দারুণ কিছু দেখতে পাবে দর্শক। বাংলা সিনেমায় এমন কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।

  • আইডেন্টিটি (২০০৩)

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। ঝড়ের রাতে রাস্তাঘাট সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটা মোটেলে আশ্রয় নেয় দশজন মানুষ। এরপরই একে একে খুন হতে থাকেন তারা! একজন একজন করে মরছে, জানিয়ে যাচ্ছে এবার তোমার পালা। যখনই মনে হয় ইনিই বুঝি খুনী, তখনই তারও মৃত্যু হয়। ঘোলা হতে থাকে রহস্য। কেন, কে করছে এসব খুন? দেড়ঘন্টার দারুণ একটি থ্রিলারের শেষে যে উত্তরটা মিলবে, সেটি আপনার মাথা ঘুরিয়ে দিলেও দিতে পারে!

  • সার্চিং (২০১৮)

অনলাইন আসক্তি, যারতার সঙ্গে ভার্চুয়াল কানেকশনে জীবনের পরিণতি নিয়েই সিনেমা। দিনদিন আমরা সোশাল সাইট নির্ভর হয়ে যাচ্ছি যা অশনী সংকেত! এমন কনসেপ্টে অসাধারণ একটি মুভি। বৃষ্টির একটা দুর্দান্ত ক্লাইম্যাক্স আছে সিনেমায়!

  • দি ইউজুয়াল সাসপেক্টস (১৯৯৫)

দুটো অস্কারসহ ৩৪টি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এবং আরো ১৫টি নমিনেশনপ্রাপ্ত সিনেমা! প্রায় অর্ধশত পুরস্কার! এসবকিছু সিনেমাটির প্রাপ্য। অন্তত শেষে যে টুইস্ট দিয়েছে, নাথিং টু সে। পুরো মুভি অত আহামরি না হলেও শেষের সময়টা! সব শেষ ভেবে দর্শক যখন হাত ধুতে যাবে তখনই আসলে আসল জিনিস বেরোয় যাতে ভর দিয়ে ‘দ্য ইউজুয়াল সাসপেক্টস’ হয়ে ওঠে থ্রিলারপ্রেমীদের কাছে অন্যতম পছন্দের এক মুভি এবং বগলদাবা করে একগাঁদা পুরস্কার।

  • দি ইনভিজিবল গেস্ট (২০১৬)

গার্লফ্রেন্ডের সাথে সময় কাটিয়ে ফেরার পথে একটা গাড়িকে ধাক্কা দেয় কর্পোরেট বয়ফ্রেন্ড। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় একজনের। সেই মৃত্যুকে ঘিরে তাদের ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে অজ্ঞাত কেউ। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে হোটেলে গেলে খুন হয় গার্লফ্রেন্ড। অথচ ওই রুমে তারা দুইজন ছাড়া কেউ ছিল না! সব দোষ চাপে বয়ফ্রেন্ডের ঘাঁড়ে। কিন্তু সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছে। খুনটা তাহলে করলো কে?

স্প্যানিশ মুভি দ্য ইনভিজিবল গেলবছর মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউড সিনেমা ‘বদলা’র অরিজিনাল ভার্সন।

  • ডায়াল এম ফর মার্ডার (১৯৫৪)

১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এক মাস্টারপিস সিনেমা। না হয়ে উপায় নেই। পরিচালক যে আলফ্রেড হিচকক, যার মস্তিষ্কের পুরোটাজুড়ে স্রেফ সিনেমা কিভাবে পারফেক্ট করা যায় সেটি ঘুরত। পরকীয়ার দোষে একজন টেনিস খেলোয়াড়ের তার স্ত্রীকে খুনের পরিকল্পনা করা নিয়ে আবর্তিত সিনেমার গল্প। খুনটাকে নিঁখুত করতে নানান জারিজুরি। স্ত্রীর প্রেমিকও জড়িয়ে যায় এতে। শুরু হয় চোর পুলিশের খেলা, আগাগোড়া মাইন্ড গেম। ষাটের দশকের অন্যতম সেরা একটি কাজ ডায়াল এম ফর মার্ডার।

  • সেভেন (১৯৯৫)

ব্র্যাড পিট, মর্গান ফ্রিম্যান; নাম দুটোই যথেষ্ট। ডিটেক্টিভ থ্রিলার! রুদ্ধশ্বাস মুভি। লোভ, মিথ্যা, কাম, অলসতা, ক্রোধ ; মোট সাতটি এমন অপরাধ যেসব আমরা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত কিন্তু আদতে এসবের জন্যে কোন অনুশোচনা বা পাপবোধ আসে না সেসব সামনে আনতেই একজন সাধারণ মানুষের সিরিয়াল কিলার রূপে আবির্ভাব! তাকে ধরতেই ছুটে চলে দুই প্রজন্মের দুই গোয়েন্দা অফিসার। টানটান উত্তেজনায় গায়ে যেমন কাঁটা দেবে, তেমনি অভিনয়, গল্পের উপস্থাপন উপহার দেবে তৃপ্তি!

  • তুম্বাড় (২০১৮)

কিছুটা হরর, কিছুটা সাসপেন্স মিলিয়ে একটা পিরিয়ডিক ড্রামা মুভি। গল্পের পরিবেশন, সিনেমাটোগ্রাফি, অভিনয় সব মিলিয়ে যথেষ্ট ভালো মুভি। ডায়লগ পাঞ্চিংগুলো দারুণ।

– তুই লোভী!

– একটাই গুণ আছে আমার দাদী!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।