সুরেলা সুনিধির সেরা ১০

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির আধুনিক সঙ্গীতকে একধাপ ওপরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুনিধি  চৌহানের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। একটা গানে শুধু কণ্ঠ দিয়ে কত রকমের নতুনত্ব আনা যায় সেটা সুনিধির সৌজন্যে দেখা গেছে। সুনিধির গানে ঠোট মিলিয়েছেন বলিউডের প্রায় সব মহারথী অভিনেত্রীরা। রেখা, শ্রীদেবী, মাধুরী থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের আলিয়া ভাট সবার জন্যই গান গেয়েছেন সুনিধি। সেখান থেকে সেরা ১০ টি গান বেছে নিয়েছি আমরা।

  • শিলা কি জাওয়ানি

বিশালের লেখা ও বিশাল- শেখরের সুরে গাওয়া সুনীধি চৌহানের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান হিসেবে এটিকে ধরা হয়। গান টি ব্যবহৃত হয়েছিল ‘তিস মার খান’ ছবিতে। সুনীধির আবেদনময়ী কন্ঠের সাথে ক্যাটরিনার অনবদ্য পারফর্ম গানটিকে বেশ জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এই গানের জন্য ২০১০ সালে সুনিধি ফিল্মফেয়ার পান। এই ছবিটি যেইটুকু আলোচিত, তা এই গানটির জন্যই।

  • ধুম মাচালে

সমীরের লিখা ও প্রীতমের সুরে এই গানটিও সুনীধির ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা জনপ্রিয় গান। এটি ব্যবহৃত হয়েছিল যশরাজ ফিল্মসের ‘ধুম’ ছবিতে। ২০০৪ সালে এই গানটি তুমুল সাড়া ফেলেছিল,নায়িকা এশা দেওলের নাম নিলে এই গানটির কথাই মনে পড়বে। সুনিধির ও প্লেব্যাকে ব্যস্ততা বেড়ে যায় আগের চেয়ে অনেক বেশি।

  • ক্রেজি কিয়ারে

যশরাজ ফিল্মসের সুপারহিট ছবি ‘ধুম ২’ তে এই গানটি সুনীধি গেয়েছেন সমীরের লিখায় ও প্রীতমের সুরে। ২০০৬ সালের তুমুল সাড়া জাগানো এই গানে অভিনয় করেছিলেন হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই, সঙ্গে সুনিধির কন্ঠের মাদকতা আছেই।

  • বুমরো

এই গানটি বাংলাদেশে আবেদন অন্যরকম। আমাদের ছোটবেলায় খেলনার মোবাইলে যে দুই- তিনটা গান বাজাতো তাঁর মধ্যে এটি একটি। বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘মিশন কাশ্মীর’ ছবিতে শংকর এহসান লয়ের সুরে প্রীতি জিনতা ও হৃত্বিকের অভিনয়ে সুনীধি এই গানটি করেন। ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে এই গানটি জনপ্রিয়তা পাওয়া প্লেব্যাক জগতে তাঁর পথ সুগম হয়।

  • আজা নাচালে

বলিউডের সর্বশেষ নারী সুপারস্টার মাধুরী দীক্ষিতের প্রত্যাবর্তন ছবি ‘আজা নাচালে’র টাইটেল গান এটি। ২০০৭ সালে ছবিটি অসফল হলেও গানটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল,সঙ্গে ছিল মাধুরীর নৃত্যের ঝলক। পীযূষ মিশ্রের লেখায় ও সেলিন- সুলায়মানের সুরে সুনীধি এই গানটি গেয়েছিলেন।

  • বিড়ি জালাইলে

বিশাল ভরদ্বাজের শৈল্পিক নন্দিত ছবি ‘ওমকারা’ তে এই গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। গানটির কথা ও সুর করেছিলেন গুলজার ও বিশাল ভরদ্বাজ নিজেই,সুনীধির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গান হিসেবে এটি বিবেচিত। ২০০৬ সালে একমাত্র জাতীয় পুরস্কার ছাড়া বাকি ফিল্মফেয়ার সহ উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের আসরে এই গানের জন্য পুরস্কৃত হন সুনীধি। ছবিতে এই গানে পারফর্ম করেছিলেন বিপাশা বসু।

  • মেহেবুব মেরে

সুনীধি তখন নবীন গায়িকা,২০০০ সালের ‘ফিজা’ ছবিতে এই গানটি গেয়ে বেশ আলোচিত হয় । আনু মালিকের সুরে ও সুস্মিতা সেনের পারফর্মে গানটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এই গানের জন্য ফিল্মফেয়ারে আর ডি বর্মন পুরস্কার পেয়েছিলেন সুনীধি।

  • কামলি

যশরাজ ফিল্মসের ‘ধুম’ সিরিজ সুনীধির গান ছাড়া যেন পূর্ণতা পায় না,তাঁর অন্যতম প্রমান এই গানটি। ২০১৩ সালে ‘ধুম ৩’ ছবির এই গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পাওয়া এই গানটি লিখেছেন অমিতাভ ভট্টাচার্য ও সুর দিয়েছেন প্রীতম। সুনীধির গানে আবার মনকাড়া ঝলক মিলল ক্যাটরিনা কাইফের।

  • সাজনাজি বারি বারি

২০০৮ সালের অন্যতম জনপ্রিয় এই গানটি ব্যবহার করেছিল ‘হানিমুন ট্র‍্যাভেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ ছবিতে। জাভেদ আখতারের লেখায় গানটি সুর করেছিলেন বিশাল-শেখর জুটি। সেই বছর অনেকেই ভেবেছিলেন এই গানে কন্ঠ দেয়ার জন্য বেশ কয়েকটি পুরস্কার পাবেন সুনীধি,যদিও পাওয়া হয় নি। এই গানে অভিনয় করেছিলেন শাবানা আজমী, কে কে মেনন, রাইমা সেন সহ অনেক তারকারা।

  • ডান্স পে চান্স

যশরাজ ফিল্মসের ২০০৮ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘রাব নে বানা ডে জোড়ি’র অন্যতম জনপ্রিয় গান এটি। জয়দীপ সাহনির লেখা ও সেলিম-সুলায়মানের সুরে সুনিধি এই গানটি গেয়েছিলেন। এই গানে অনবদ্য পারফর্ম করেছিল নবাগত আনুশকা শর্মা, সঙ্গে শাহরুখ খান তো আছেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।