অদ্ভুত এক ভাল লাগার নাম ‘ম্যাডি’

মাধবন বালাজি রঙ্গনাথ। অপরিচিত ঠেকছে নাম? যদি বলি আর. মাধবন, লাফিয়ে উঠবেন আনন্দে! আরে, ম্যাডির কথা বলছেন যে! ম্যাডি, যার নাম শুনলে কাজ করে অদ্ভুত এক ভাললাগা।

দক্ষিণ ভারতের ফিল্মপাড়ায় প্রথম সারির তারকাদের ভক্তদের সরব যুদ্ধের কথা কারো অজানা নয়। ম্যাডি সেসবের বাইরে। সে একদম প্রথম সারির তারকাদের মতোন হরহামেশা আলোচনায় থাকেন না, আবার তার সিনেমা মুক্তি পেলে তাকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। সুদর্শন, শিক্ষিত, মার্জিত। সব ছাপিয়ে চমৎকার অভিনেতা।

১৯৭০ সালের এক জুন পৃথিবীর আলো দেখেন। এরপর কেটেছে পাঁচ দশক। জীবনের ইনিংসে বয়সের হাফসেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেললেন। অভিনয়ের ক্যারিয়ারের বছর বিশেক ধরে নটআউট। উপহার দিয়েছেন দূর্দান্ত সব সিনেমা। ম্যাডির সিনেমায় গল্প থাকে, চোখজুড়ানো অভিনয় থাকে, থাকে মুগ্ধতা।

মুগ্ধতার ডালি থেকেই বের করে আনার চেষ্টা আমার দেখা মাধবনের সেরা কয়েকটি কাজ। তামিল অভিনেতা হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ম্যাডি, সেটি বলেছেন বহুবার। তাই উল্লেখিত সিনেমাগুলিও তামিলে করা কাজ থেকে বেছে নেওয়া।

  • কান্নাথিল মুথামিত্তাল (২০০২)

মনি রত্নম-মাধবন জুটির অন্যতম সেরা উপহার কান্নাথিল মুথামিত্তাল। আমুধাকে দত্তক নেয় লেখক থিরু ও তার স্ত্রী ইন্দ্রা। নয় বছর পর আমুধা জানতে পারে তার মায়ের খোঁজ। থিরু দম্পতি মেয়ের জন্মদিনে তাকে সত্য জানায়। শ্রীলঙ্কায় থাকা মায়ের সঙ্গে দেখা করার বায়না ধরে বাবার কাছে। লঙ্কায় তখন দাঙ্গা চলছে। এর মাঝেই শুরু হয় মায়ের খোঁজ। গালে এক চিলতে আদর মাখার সুযোগ হবে কি মা মেয়ের?

তামিল লেখক সুজাতা রঙ্গরাজনের ছোটগল্প ‘আমুধাভাম আভানাম’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে মাধবন, আমুধা চরিত্রের মেয়েটির অভিনয় মন ছুঁয়ে যাবে। একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে জীবনের আয়োজন আর কানে এ. আর. রহমানের মিউজিক! তামিল সিনেমাপ্রেমীদের কাছে কান্নাথিল মুথামিত্তাল এক শান্তির নাম।

  • আনবে শিভাম (২০০৩)

এক বৃষ্টিস্নাত দিনে এয়ারপোর্টে দেখা দুইজন মানুষের। গন্তব্য ভুবনেশ্বর টু চেন্নাই। প্রতিকূলতার গ্যাঁড়াকলে বিমানে চেপে বসা হয় না তাদের৷ শুরু হয় সড়কপথের যাত্রা। সেই যাত্রায় কমল হাসান এবং মাধবন গল্পের ডালি খুলে বসে৷ আর তাতেই ভিন্নজগতে হারিয়ে যেতে বাধ্য দর্শক। এই সিনেমা যতখানি কমল হাসানের ততটাই মাধবনের। জীবন সম্পর্কে মানুষ অনেক সময় ভুল ধারণা পোষণ করে, আনবে শিভাম বদলে দেবে দৃষ্টিভঙ্গি।

  • মিন্নালে (২০০১)

মাধবন থেকে ম্যাডি কিংবা পাশের বাড়ির চকলেটবয় হয়ে উঠা এই সিনেমা দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জীবনকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করা ম্যাডির দরজায় একদিন প্রেম কড়া নাড়ে। শ্রাবণের অঝোর ধারা এসে যেন ভিজিয়ে দেয় তাকে, এনে দেয় প্রশান্তি। কিন্তু প্রেম তো সহজ ধারাপাত মেনে চলে না! ম্যাডির বেলায়ও ঠিক তাই ঘটে। অতিথি পাখির মতো এসে, মায়া বাড়িয়ে আবার উড়ে যায়! তবে ম্যাডি ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়।

২০০১ এর ভালবাসা দিবসে মুক্তি পাওয়া মিন্নালে ভারতেরই সর্বকালের অন্যতম সেরা রোমান্টিক সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে সকলের হৃদয়ে। একইভাবে ম্যাডিও হয়ে উঠেছে আপনজন। হিন্দিতে এটি ‘র‌্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ নামে রিমেক করা হয়, যাতে মাধবনই থাকেন মূল চরিত্রে।

  • ইরুধু সুত্রু (২০১৬)

খ্যাপাটে বক্সিং কোচ আর তার পাগল শিষ্যের চমৎকার রসায়নে বিনোদনের পরিপূর্ণ প্যাকেজ স্পোর্টস ড্রামা এই সিনেমা। চরিত্রের গভীরে ঢুকে যাওয়া মাধবনকে দেখে একবারো মনে হচ্ছিল না অভিনয় করছে। অভিষিক্তা রিতিকা সিং বাস্তব জীবনের বক্সিং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ন্যাচারাল অভিনয় করে গেছে। সাথে মায়াবী হাসি, খুঁনসুটিতে জমিয়ে রাখেন গোটা সময়।

চেন্নাইয়ের মাছ বিক্রেতা থেকে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হবার রাস্তায় গুরুর প্রেমে পড়ে যাওয়া, কোচের তাকে সরাসরি ফিরিয়ে না দেওয়ায় দর্শক রোমাঞ্চের আবহেও ডুব দিতে পারবে। মিষ্টিমধুর সিনেমার শেষটা ডেজার্টের তৃপ্তি দেবে। তামিল-হিন্দি বাইল্যাঙ্গুয়াল ছবিটির হিন্দি টাইটেল – ‘শালা খাড়ুস’।

  • ইয়াভারাম নালাম (২০০৯)

মনোহর নামের একজন প্রকৌশলী একটি ফ্ল্যাট কেনেন। ফ্লোর ১৩, ব্লক বি। পরিবার সমেত দিন কাটছিল আনন্দে। হঠাৎ একটি সিরিয়াল প্রচারিত হয়। সেই সিরিয়ালে ঘটে যাওয়া কাহিনীগুলো একে একে ঘটতে থাকে তার সঙ্গে। কিন্তু কেন? জমাটি চিত্রনাট্য, ভৌতিক আবহের অসাধারণ মিশেলে তৈরি সাইকোলজিক্যাল হরর থ্রিলার মুভিটির শেষে রয়েছে দারুণ টুইস্ট। সিনেমার হিন্দি ভার্সনের নাম- থার্টিন বি। হ্যাঁ, রহস্যেঘেরা ফ্ল্যাটের নাম্বার।

  • বিক্রম ভেদা (২০১৭)

এই সিনেমা নিয়ে আসলে বলার কিছু নেই। পরিচালক দম্পতি পুষ্কর-গায়ত্রী মিলে এমন এক সিনেমা নিয়ে এলেন যার পরতে পরতে উত্তেজনা। মাধবনের একার ছবি নয় এটি, বিজয় সেথুপতিকে ছাড়া সে অচল। ঠিক একইভাবে তাকে ছাড়া সেথুপতিও জিরো। পুলিশ অফিসার বিক্রম আর গ্যাংস্টার ভেদার মনস্তাত্ত্বিক খেলায় বিভোর এবং বিভ্রান্তের অনবদ্য মিশ্রণ। কখনো মনে হবে বিক্রম ভিলেন, কখনো ভেদা হিরো। মাধবনের অন্যতম সেরা এই কাজ সকলেরই দেখা। অভিনয়ের এমন মুন্সীয়ানা রোজ রোজ দেখার সুযোগ তো মেলে না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।