গ্ল্যামার নয়, তাঁর জোরটা ছিল অভিনয়ের

চেহারা বা গ্ল্যামার নয়, জোরটা তাঁর বেশি ছিল অভিনয়েই। কারো প্রিয় পাত্র বা স্টারকিড হয়ে নয়, তিনি টিকে ছিলেন পরিশ্রমের জোরে। শুধু প্রতিভা নয়, চরিত্র নির্বাচনের তুখোড় এক ক্ষমতা দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন সমসাময়িক অনেক অভিনয় শিল্পীকেই। শুধু বলিউডেই নয়, সুনামের সাথে কাজ করেছেন হলিউডেও। চলুন এই শক্তিমান অভিনেতার সেরা কাজগুলো এক ঝলক দেখে ফেলা যাক।

  • মন্টি (লাইফ ইন এ মেট্রো)

লাইফ ইন এ মেট্রো সিনেমায় ৩৫ বছর বয়সী মন্টি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে বেড়াতেন। সেখানে তিনি ছিলেন স্পষ্ট বক্তা, সমাজের নানা নিয়ম কানুনে বিরক্ত। কঙ্কনা সেন শর্মার সাথে তাঁর হাস্যরসাত্মক বাক্যালাপ ও পর্দার রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ছবিতে অনেকগুলো চরিত্র, এর মধ্যেও ইরফান খানকে খুব আলাদা করে চেনা গেছে। এজন্যই এই চরিত্রটি তাঁকে ফিল্ম ফেয়ারে সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার এনে দেয়।

  • ইয়োগি (কারিব কারিব সিঙ্গেল)

ইয়োগি একজন কবি, একটু পাগলাটে আর খুব আপত্তিকর রকমের লাউড। এরপরও নিজেকে অন্যের কাছে পছন্দশীল করে তোলাটা সহজ কাজ নয়। সেই কাজটাই পর্দায় করে দেখিয়েছেন ইরফান খান। দর্শকদের জন্য ব্যাপারটা তাই মনোমুগ্ধকর।অনলাইন ডেটিং সাইটের সুবাদে তাঁর পরিচয় হয় জয়ার সাথে। জয়ার স্বামী মারা গেছেন। ছবির দু’জনই মধ্যবয়সী। অন্যরকম একটা ভাললাগা ও ভালবাসার গল্প একটু একটু করে এগিয়ে যায়। গল্প এগোতে যায় দেহরাদুন, এরপর জয়পুর, শেষ হয় গ্যাংটকে গিয়ে। ছবির একদম শেষ দৃশ্যে গিয়ে আসে সম্পর্কের পূর্ণতা।

  • রানা চৌধুরী (পিকু)

বাবা ও মেয়ের জীবনে যেন উড়ে এসেই জুড়ে বসেছিলেন পিকু। আর কেমন করে যেন অমিতাভ বচ্চনের প্রচণ্ড জেদী মেয়ে দীপিকা পাড়ুকোনের প্রেমে পড়ে যান তিনি। এটা ইরফানের বুদ্ধিদীপ্ত ও মজার চরিত্রগুলোর একটি। ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের সাথে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন ইরফান।

  • পান সিং তোমার (পান সিং তোমার)

পান সিং তোমার ছবিটির জন্য সেরা অভিনেতা ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ইরফান খান। দৃঢ় চিত্ত ও সৎ এক অ্যাথলেটের ডাক্তার সর্দারে পরিণত হওয়ার বায়োপিকে অভিনয় করে সমালোচক ও দর্শকদের মন জয় করেন ইরফান খান। ছবিটির জন্য ফিল্ম ফেয়ার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ইরফান খান।

  • সাজান ফার্নান্দেজ (দ্য লাঞ্চবক্স)

পুরোই ভিন্ন ঘরানার একটা ছবি। ইরফান খানের নাম আসলেই এই ছবিটার প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য। মাঝবয়সী একজন একাকী অ্যাকাউনটেন্টের জীবন নিয়ে এগিয়ে গেছে ছবির গল্প। ভদ্রলোক অদেখা এক নারীর হাতের রান্না খেয়ে তার প্রেমে পড়ে যান। বক্স অফিসে সাফল্যের সাথে সাথে লাঞ্চ বক্স ভারত ও ভারতের বাইরে বেশ কিছু ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রশংসা কুড়ায়। এই চরিত্রটির সুবাদে সেরা অভিনেতার ক্যাটাগরিতে এশিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পান ইয়োগি।

  • মুসাফির (সাত খুন মাফ)

একজন কোমল মনের কবি বিছানায় কতটা ‘জানোয়ার’-এর মত আচরণ করতে পারেন সেটা ইরফান দেখিয়েছেন সাত খুন মাফ সিনেমায়। দর্শকদের জন্য দৃশ্য গুলো হরর সিনেমার দু:স্বপ্নের মত হয়েছিল বলেই বলা যায়, শতভাগ সফল ইরফান। ছবিটি মূলত ছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ‘ওয়ান ম্যান শো’। এর মাঝেও আলো ছড়িয়েছেন ইরফান।

  • মিয়া মকবুল (মকবুল)

শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত ‘ম্যাকবেথ’ অবলম্বনে নির্মিত মকবুল সিনেমার নাম ভূমিকাটি ইরফানের ক্যারিয়ারের সেরা কাজগুলোর একটি। একজন গ্যাংস্টারের জীবনের ভালবাসা, বিশ্বাস ও ট্র্যাজিক সমাপ্তির গল্প মকবুল। আর পর্দায় এই সিনেমায় রীতিমত ম্যাজিক দেখিয়েছেন ইরফান। ইরফানের সিগনেচার কাজগুলোর একটি এই ‘মকবুল’।

  • রণভিজে সিং (হাসিল)

ইরফান খানের খুবই আন্ডাররেটেড একটা ছবি। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে নেতিবাচক চরিত্র করেছিলেন ইরফান খান। ছাত্র রাজনীতির অন্ধকার দিক, নোংরামি আর ‍নৃশংসতা – সবই দেখানো হয়েছে এই ছবিতে। ছবিটির জন্য সেরা নেতিবাচক চরিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার পান ইরফান।

  • অশোক গাঙ্গুলি (দ্য নেমসেক)

ইংরেজি ভাষায় নির্মিত মিরা নায়ারের ছবি। এই ছবিটি দিয়েই ২০০৬ সালে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়ান ইরফান। ছবিতে গোগোল’এর বাবার চরিত্র করেন ইরফান। তিনি পিএইচডি করতে যান আমেরিকায়। সেখানে পরবর্তীতে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যোগ দেন। যদিও, তিনি ভারতীয় আবেগ-অনুভূতি ও বাঙালি রীতি ও সংস্কৃতিকে ভুলতে পারেননি। এই নিয়ে ছেলের সাথে শুরু হয় তাঁর টানাপোড়েন।

  • রাজ বাত্রা (হিন্দি মিডিয়াম)

রাজ বাত্রা চাঁদনী চকের মানুষ। পড়াশোনা খুব একটা না জানলেও পাঁকা ব্যবসায়ী। বেশ পয়সাকড়িও হয়েছে। স্ত্রী মিতার চাপে বাসা পাল্টে আসেন অভিজাত এলাকায়। এরপর পাঁচ বছরের মেয়ে পিয়াকে ভাল একটা ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করার জন্য শুরু হয় সংগ্রাম। এই নিয়েই এগিয়ে যায় ছবির গল্প। ছবিটির জন্য ইরফান ফিল্ম ফেয়ারের বিবেচনায় সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।