বলিউডের সেরা ১০ কমেডি সিনেমা

প্রতিবছর অনেক সিনেমা তৈরি হয় বলিউডে। কোন সিনেমা ব্যবসাসফল হয়, আর কোন সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে। কিন্তু, কিছু জনরার ফিল্ম বলিউডি দর্শকদের বরাবরই পছন্দের। কমেডি জনরার চলচ্চিত্রগুলো হল সেসব জনরার মাঝে একটি যা সবসময়ই আকৃষ্ট করে বলিউডের দর্শকদের। এখনও কমেডি জনরা হল বলিউডি পরিচালকদের সবচেয়ে প্রিয় বাজি।

আজকের আলোচনার বিষয় সেসব বলিউডি কমেডি সিনেমা। এমন কিছু ছবি নিয়ে বলবো, যেসব দর্শকদের হৃদয়ে গেড়ে নিয়েছে চিরস্থায়ী আসন। একটা ব্যাপার সত্যি যে, এই মানের কমেডি সিনেমা এখন বলিউডে হয়না বললেই চলে। কারণ কি? উত্তরটা সহজ, দর্শকদের কাঁদানোর চেয়ে হাসানোর কাজটা অনেক বেশি কঠিন।

  • গোলমাল (১৯৭৯)

প্রতিভাবান ঋষিকেশ মুখার্জীর পরিচালনায় নির্মিত হয়েছিল চলচ্চিত্রটি। আমোল পালেকার, উৎপল দত্ত, বিন্দিয়া গোস্বামী, দেবেন ভার্মা অভিনীত চলচ্চিত্রটি এলাকার সবচেয়ে রাশভারী লোকটির মুখেও এনে দিয়েছিল অট্টহাসি। আইএমডিবি রেটিং এ ৮.৬ পাওয়া চলচ্চিত্রটি দেখেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। উৎপল দত্ত, একজন আজব ব্যবসায়ী, যিনি মানুষকে বিচার করতেন গোঁফ দিয়ে। উৎপল দত্ত গোঁফ ছাড়া মানুষদের পছন্দ করতেন না। আমোল পালেকারের গোঁফ ছিল। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয় উৎপল দত্তের। এগিয়ে যায় সিনেমার গল্প।

  • আঙ্গুর (১৯৮২)

এই সিনেমাটি উইলিয়াম শেক্সপিয়র রচিত ‘কমেডি অব এররস’ এর ছায়া অবলম্বনে বানানো। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন দেবেন ভার্মা, সঞ্জীব কাপুর, দীপ্তি নাভাল, অরুণা ইরানী, মৌসুমি চ্যাটার্জী প্রমুখ। দেবেন আর সঞ্জীব, দুজনই অভিনয় করেছেন দ্বৈত চরিত্রে। ৮.৪ আইএমডিবি রেটিং বিশিষ্ট চলচ্চিত্রটি ছিল সুপার ডুপার হিট। চলচ্চিত্রটির জন্য দেবেন ভার্মা জিতেছিলেন ‘বেস্ট কমেডিয়ান’ ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

  • জানে ভি দো ইয়ারো (১৯৮৩)

৮.৫ আইএমডিবি রেটিং বিশিষ্ট সিনেমা বলিউডি কমেডি ফিল্মের ইতিহাসে অন্যতম সফল সিনেমা। সতীশ শাহ, নাসিরুদ্দিন শাহ, ওম পুরি, পঙ্কজ কাপুর, দীপক কাপুর অভিনীত চলচ্চিত্রটি ছিল ভারতীয় রাজনীতিতে চলমান দুর্নীতি নিয়ে এক ব্যঙ্গচিত্র। চলচ্চিত্রটি সবার জন্যই একটি ‘মাস্ট ওয়াচ ফিল্ম’।

  • আন্দাজ আপনা আপনা (১৯৯৪)

এই সিনেমাটি যারা দেখেছে তারা তেজা, ক্রাইম মাস্টার গোগো, রবার্ট, আমার, প্রেমকে কখনোই ভুলতে পারবে না। আর হ্যাঁ, ভুলবেনা রাভিনা ট্যান্ডন আর কারিশমা কাপুরকে। সালমান খান ও আমির খান অভিনীত চলচ্চিত্রটি ছিল রাজকুমার সন্তোষীর এক অসাধারণ সৃষ্টি। কিন্তু, ১৯৯৪ সালে যখন চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল, তখন এটি বক্স অফিসে সুবিধা করতে পারে নি। বক্স অফিসে এই চলচ্চিত্রটির কাহিনী যেন হলিউডের ফিল্ম ‘দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন’-এর মতই। ‘দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন’-এর মত বক্স অফিসে ভাল না করলেও পরবর্তীতে সমাদৃত হয়েছে দর্শকদের কাছে। সর্বস্তরের দর্শকদের কাছে পেয়েছে জনপ্রিয়তা। চলচ্চিত্রটির সংলাপগুলো পেয়েছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

  • হিরো নাম্বার ওয়ান (১৯৯৭)

কমেডি আর গোবিন্দ যেন বলিউডে সমার্থক শব্দ। ডেভিড ধাওয়ানের এই চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় গোবিন্দ ছাড়াও অভিনয় করেছেন কারিশমা কাপুর, কাদের খান, শক্তি কাপুর, পরেশ রাওয়াল প্রমুখ। সিনেমায় যখন গোবিন্দ আর কারিশমা একে অপরের প্রেমে পড়ে, কারিশমার পরিবার এই প্রেম মেনে নেয় না। অত:পর গোবিন্দ প্রবেশ করে কারিশমার পরিবারে,জয় করে নেয় সবার হৃদয়। ৬ আইএমডিবি রেটিং বিশিষ্ট চলচ্চিত্রটি দেখে যে কেউ বলতে বাধ্য, ‘গোবিন্দ বলিউডি কমেডি জনরার ফিল্মের ইতিহাসে সেরা অভিনেতা।’

  • হেরা ফেরি (২০০০)

পরেশ রাওয়াল, সুনীল শেঠি, অক্ষয় কুমার, টাবু অভিনীত চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছিল ২০০০ সালে। ৮.২ আইএমডিবি রেটিংবিশিষ্ট চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে অর্জন করেছিল ব্যাপক সফলতা। কৃপণ বাবুরাও (পরেশ রাওয়াল) এর বাসায় ভাড়া থাকত রাজু (অক্ষয় কুমার)। সে বাসায় শাম (সুনীল শেঠি) প্রবেশ করলে তিনজনকে নিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমার কাহিনী। চলচ্চিত্রটির দৃশ্যগুলো দেখে যে কেউ ফেটে পড়বে অট্টহাসিতে। সিনেমার ডায়লগগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে ফিরে। সিনেমায় অপহরণকারীদের সাথে রাজু, শাম ও বাবুরাও এর লড়াইয়ের দৃশ্যটা বোধ করি বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা হাস্যকর দৃশ্য। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয় ফির হেরা ফেরি। সম্প্রতি এই তিনজনকে নিয়ে এই সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘হেরা ফেরি ৩’ বের হবে বলে খবর বেরিয়েছে।

  • হাঙ্গামা (২০০৩)

পরেশ রাওয়াল, অক্ষয় খান্না, আফতাব শিবদাসানী, রিমি সেন অভিনীত চলচ্চিত্রটি ছিল হাস্যরসে ভরপুর। চার্লস ডিকেন্সের ‘দ্য স্ট্রেঞ্জ জেন্টেলম্যান’ অবলম্বনে বানানো চলচ্চিত্রটির আইএমডিবি রেটিং ৭.৫। সিনেমায় প্রধান চরিত্রে থাকা অভিনেতাদের পাশাপাশি দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন পার্শ্ব চরিত্রে থাকা শক্তি কাপুর, রাজপাল যাদবও। প্রিয়দর্শনের এই চলচ্চিত্রটি যে কোন কমেডি জনরা লাভারের জন্যই মাস্ট ওয়াচ ফিল্ম।

  • খোলসা কা ঘোসলা (২০০৩)

অনুপম খের, বোমান ইরানি, বিনয় পাঠক, রনবীর শোরে অভিনীত চলচ্চিত্রটি ছিল হাস্যরসে পরিপূর্ণ। শক্তিমান অভিনেতায় পরিপূর্ণ চলচ্চিত্রটির অভিনয়ের মান নিয়ে প্রশংসা তোলা বাতুলতা। ৮.৩ আইএমডিবি রেটিং বিশিষ্ট চলচ্চিত্রটি সবারই দেখা উচিত।

  • ম্যায়নে পিয়ার কিউ কিয়া? (২০০৫)

সালমান খান, ক্যাটরিনা কাইফ, সুস্মিতা সেন, সোহেল খান অভিনীত চলচ্চিত্রটি দেখলে যে কেউ ফেটে পড়বে অট্টহাসিতে। হাস্যরসে পরিপূর্ণ চলচ্চিত্রটির গল্প সামির (সালমান খান) নামের এক ডাক্তারকে ঘিরে। ডেভিড ধাওয়ানের এই চলচ্চিত্রটির আইএমডিবি রেটিং ছিল ৫.৫।

  • ভেজা ফ্রাই (২০০৭)

রজত কাপুর, বিনয় পাঠক, সারিকা, রনবীর শোরে, মিলিন্দ সুমান, ভৈরব গোস্বামী অভিনীত চলচ্চিত্রটি ক্লিন কমেডি ওয়াচারদের জন্য মাস্ট ওয়াচ ফিল্ম। বক্স অফিসে শুরুটা ভাল না করলেও দর্শকদের মুখে মুখে প্রশংসা ছড়ানোর জন্য সাগর বল্লরীর চলচ্চিত্রটি পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়ায় বক্স অফিসে। চলচ্চিত্রটির সাফল্য দেখে পরবর্তীতে নির্মাণ করা হয় ভেজা ফ্রাই ২। ভেজা ফ্রাই-এর আইএমডিবি রেটিং ৭.৭।

– মেনএক্সপি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।