এক ছবি, দুই চরিত্র!

৭০ কিংবা ৮০’র দশকে বলিউডের নির্মাতারা এত বেশি দ্বৈত চরিত্রের ছবিতে আসক্ত ছিলেন যে, সহজেই এটাকে আলাদা একটা জনরা হিসেবে উল্লেখ করা যেত। মেলায় হারিয়ে যাওয়া জমজ ভাই, বড় হয়ে পুনর্মিলন; বাবা-মায়ের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া – এটা ছিল সে সময়ের হিট ফর্মুলা।

তবে, এখন সময় পাল্টেছে। এখন সিনেমা নিয়ে অনেক বেশি গবেষণা হয়। দ্বৈত চরিত্রের হার অনেক কমে আসলেও কেবল জমজ ভাই হিসেবে তাদের ব্যবহার কমে এসেছে অনেকটাই। আমাদের এবারের আয়োজন বলিউডের কিছু আলোচিত দ্বৈত রোলের সিনেমা নিয়ে।

  • ফ্যান (২০১৬)

খুব বেশি ব্যবসা সফল না হলেও শাহরুখ খানের অভিনয় আলোচিত ছিল। রুপালি পর্দার একজন সুপার স্টার (আরিয়ান খান্না) আর তারই এক পাগল ভক্তের (গৌরব চাঢ্ঢা) চরিত্র করেছেন কিং খান।  ছবিটি ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া রবার্ট ডি নিরোর হলিউড ‘দ্য ফ্যান’-এর গল্প থেকে অনুপ্রাণিত।

  • তানু ওয়েডস মানু ২ (২০১৫)

২০১১ সালের হিট ছবি ‘তানু ওয়েডস মানু’র সিকুয়েল। এখানে তানু (কঙ্গনা রনৌত) আর মানু’র (আর মাধবন) জীবনে আসেন দাত্তো। এই চরিত্রটিও করেন কঙ্গনা রনৌত। ছবিটি কমেডি আর আবেগের এক রোলার কোস্টার রাইড।

  • ধুম থ্রি (২০১৩)

অ্যান্টি হিরোর ভূমিকায় আমির খানের দ্বৈত ভূমিকা প্রশংসা কুড়ালেও ছবির কিছু ক্লাইমেক্ট হলিউডের ‘দ্য প্রেস্টিজ’-এর অনুকরণে করা বলে ‘ধুম থ্রি’-কে ঘিরে সমালোচনারও কোনো শেষ নেই। ছবিতে অভিষেক বচ্চন ও ক্যাটরিনা কাইফ থাকলেও তাঁদের ভূমিকা খুবই সামান্য।

  • কামিনে (২০০৯)

শহীদ কাপুরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয়। ‘কামিনে’ ছবিতে তিনি জমজ ভাইয়ের (গুড্ডু ও চার্লি) চরিত্র করেন। গুড্ডুর প্রেমিকা ‘সুইটি’র করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। হলিউড নির্মাতা কুয়েন্টিন টারান্টিনো ও গাই রিচি’র কয়েকটা ছবির ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয় ‘কামিনে’।

  • জুড়ুয়া (১৯৯৭)

আরেকটি রিমেক। ১৯৯২ সালের জ্যাকি চ্যানের কমেডি ছবি ‘টুইন ড্রাগনস’ অবলম্বনে নির্মিত ‘জুড়ুয়া’। সালমান খানের সিগনেচার ছবি, জন্মের পরই আলাদা হয়ে যাওয়া জমজ ভাইয়ের রোল করেন তিনি। আরো ছিলেন কারিশমা কাপুর ও রাম্ভা। ছবিটি অবশ্য আগেই দক্ষিণ ভারতে ‘হ্যালো ভারত’ নামে নির্মিত হয়। কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন নাগার্জুন। নির্মাতা ডেভিড ধাওয়ান একালে প্রায় একই স্ক্রিপ্টে নিজের ছেলে বরুণ ধাওয়ানকে নিয়ে নির্মান করেন ‘জুড়ুয়া ২’।

  • চালবাজ (১৯৮৯)

সানি দেওল ও রজনীকান্ত – তখনকার দুই সুপার স্টারের উপস্থিতি’র পরও সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন শ্রীদেবী। তিনি আঞ্জু ও মাঞ্জু – দুই জমজ বোনের চরিত্র করেন।  আঞ্জু সাহসী ও আজ্ঞাবহ আর মাঞ্জু সাহসী ও তেজী।

  • আখেরি রাস্তা (১৯৮৬)

অমিতাভ বচ্চন দ্বৈত চরিত্রে আরো ছবি করলেও এটা বাকিদের চেয়ে একদমই আলাদা। ছবিতে বাবা ও ছেলের চরিত্র করেন অমিতাভ। এটা মূলত একটা প্রতিশোধের গল্প। এটা ১৯৮৫ সালের তামিল ছবি ‘ওরু কাইধিন ডায়রি’র রিমেক। মূল ছবিতে ছিলেন কমল হাসান।

  • আঙ্গুর (১৯৮২)

এটাও কোনো মৌলিক গল্প নয়। ১৯৬৩ সালে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা উপন্যাস ‘ভ্রান্তিবিলাস’ অবলম্বনে একই নামে বাংলা সিনেমা নির্মিত হয়।  ১৯৬৮ সালে সেটা বলিউড ‘দো দুনি চার’ নামে রিমেক হয়। পরে আশির দশকে সেটা আবারো রিমেক হয় ‘আঙ্গুর’ নামে। শীর্ষ চরিত্রে ছিলেন সঞ্জীব কুমার ও দেবে ভার্মা। গুলজারের নির্মানে এই দু’জনই ছিলেন দ্বৈত চরিত্রে।

  • রাম অওর শ্যাম (১৯৬৭)

সোলো স্টার হিসেবে এই ছবি দিয়েই ক্যারিয়ারে শেষবারের মত বড় সাফল্য পান দিলীপ কুমার। ছবিতে দু’টি ভিন্ন ব্যক্তিত্ব নিজের মাঝে ফুঁটিয়ে তোলেন। এখানে তিনি দু’জন জমজ ভাইয়ের চরিত্র করেন, যারা জন্মের পর আলাদা হয়ে যায়।

  • সীতা অওর গীতা (১৯৭২)

ড্রিম গার্ল হেমা মালিনীকে চেনার জন্য এই ছবি দেখলেই যথেষ্ট। রমেশ সিপ্পি এখানে দিলীপ কুমারের ‘রাম অওর শ্যাম’-কেই একটু ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেন। ছবিতে আরো ছিলেন ধর্মেন্দ্র ও সঞ্জীব কুমার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।