নব্বই দশকের সেরা অ্যাকশন ছবি

নায়ক থাকবে, ভিলেন থাকবে। কখনো প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠবেন, কখনো বা নায়িকাকে উদ্ধার করতে যুদ্ধের মনোভাব নিয়ে চলে আসবেন নায়ক। লম্বা সময় ঢিশুম-ঢুশুমের পর উদ্ধার পাবেন নায়িকা। নায়কেরও প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে যাবে।

এমন অ্যাকশন ছাড়া একটা সময় বলিউডের সিনেমার কথা ভাবাও যেত না। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে স্রেফ অ্যাকশনকে পুঁজি করেই বিস্তর ভারতীয় ছবি রমরমা ব্যবসা করেছে। তাদেরই মধ্যে সেরা কয়েকটি ছাব নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। ছবি বাছাইয়ে মূলত ব্যবসায়িক সাফল্য ছাড়াও সমালোচক ও দর্শকদের পছন্দের কথা মাথায় রাখা হয়েছে।

  • আতিশ (১৯৯৪)

সঞ্জয় দত্ত-সঞ্জয় গুপ্তার প্রথম কম্বো। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি সময়ের হিসেবে অনেক আধুনিক নির্মান। অপরাধের স্বর্গ রাজ্য মুম্বাইয়ের গ্যাংস্টার সংস্কৃতিকে ড্রামাটিক ভঙ্গিতে এই ছবিতে উপস্থাপন করা হয়। সঞ্জয় দত্ত ছিলেন দুর্দান্ত। ‘মেরে মোহাব্বাত কা তু গাওয়া’ সেসময়ের হিট গান।

  • মোহরা (১৯৯৪)

ব্লকবাস্টার হিট ছবি। পাথ ব্রেকিং মুভি। ‘ত্রিদেব’-এর পর রাজিব রাইয়ের আরেক মাস্টার পিস। নাসির উদ্দিন শাহ, অক্ষয় কুমার এর দারুন অভিনয় এপিলিং রাভিনা আর সিনেমার মূল হাইলাইট নাম ভূমিকায় সুনিল সেট্টির অনবদ্য একশন ও হৃদয়ছোয়া অভিনয়। টিপ টিপ বারসা ও চিজ বারি হ্যায় মাস্ত এখনো মানুষ মনে রেখেছে।

  • দিলওয়ালে (১৯৯৪)

ওই সময়ে রোমান্টিক-অ্যাকশন ঘরানার সবচেয়ে বড় হিট ছবি এটা। এই সিনেমায় নাদিম-শ্রাবণের গানও ছিল চার্টবাস্টার। হ্যারি বায়েজার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট এই সিনেমায় অজয় দেবগন ছিলেন অসাধারনের চেয়েও বেশি। সাথে ছিল সুনীল শেঠি ও রাভিনা ট্যান্ডনের চমৎকার পারফরম্যান্স।

  • খিলাড়িও কা খিলাড়ি (১৯৯৬)

৯০-এর দশকে অক্ষয় কুমারের একমাত্র সলো সুপার হিট। রেখা ও অক্ষয়ের রসায়ন এই ছবিতে আলোচনা ও সমালোচনা – দুটোরই জন্ম দিয়েছিল।

  • সোলজার (১৯৯৮)

ববি দেওলের ক্যারিয়ারের একমাত্র সলো সুপার হিট। আব্বাস মাস্তান ও ববি দেওলের এক সাথে করা পাঁচটি সিনেমার প্রথমটি এটা। প্রীতি জিনতার প্রথম সাইন করা সিনেমাও এটা।

  • জিদ্দি (১৯৯৭)

১৯৯৭ সালের সারপ্রাইজ হিট। সেসময় সানি দেওল কিছুটা খারাপ সময় পার করছিলেন। সেই সময়ে কারো খুব আশা না থাকলেও টিপিকাল সানি দেওল ঘরানার এই মুভি সুপার হিট ব্যবসা করে।

  • গুলাম (১৯৯৮)

বিক্রম ভাটের ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রশংসিত সিনেমা। বক্সার চরিত্রে আমির খান ছিলেন অসাধারণ। এই সিনেমার একটি দৃশ্যে (ট্রেনের মুখোমুখি দৌড়) স্টান্ট ছাড়া আমিরের অভিনয় সেসময় ব্যপক আলোচনার জন্ম দেয়।

  • ইয়াশওয়ান্ত (১৯৯৭)

‘শালা এক মাচ্ছার আদমিকো হিজড়া বানা দেতা হ্যায়’ – বিখ্যাত এই ডায়লগ ইয়াশওয়ান্ট মুভিরই। পুলিশের ভূমিকায় নানা পাটেকারের অসাধারণ অভিনয় তাঁকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

  • সারফারোশ (১৯৯৯)

জন ম্যাথিউ পরিচালিত এই সিনেমা এখন কাল্ট মুভি হিসাবেই পরিচিত। পুলিশ চরিত্রে আমিরের তাক লাগানো পারফরম্যান্স, মোহরার পর নাসিরউদ্দিন শাহর আরো একবার নেগেটিভ রোলে দুরন্ত আর জতিন ললিতের হিট মিউজিক। এই সিনেমায় খুব ছোট একটি রোলে কাজ করেছিলেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী।

  • বাস্তব (১৯৯৯)

মহেশ মাঞ্জরেকারের পরিচালনায় সঞ্জয় দত্ত করেন রঘুর চরিত্র। এই সিনেমা তাকে পূনর্জন্ম দেয় বলা যায়। তিনি পান ফিল্মফেয়ার।

  • করণ-অর্জুন (১৯৯৫)

পূনর্জন্ম নিয়ে সম্ভবত বলিউডের সবচেয়ে ব্যবসা সফল সিনেমা। ‘মেরে করন-অর্জুন আয়েঙ্গে – এই সংলাপ এখনো শাহরুখ ও সালমান খান এক হলে শোনা যায়। রাখি গুলজার, শাহরুখ, সালমান, কাজল, মমতা, অমরেশ পুরি – সবার জীবনের অন্যতম সেরা কাজ এই ছবি।

  • খলনায়ক (১৯৯৩)

সাঞ্জু-মাধুরীর শেষ সুপার হিট ছবি। সুভাস ঘাইয়েরও শেষ সুপার হিট। সিনেমাটির ‘চোলি কে পিছে কেয়া হ্যায়’ এখনো হিট গান। বলিউডের অন্যতম সফল অ্যাকশন ফিল্ম হিসেবে – এটা আজো সকলের পছন্দ।

তালিকায় আরো কয়েকটা ছবি আসতে পারতো। এর মধ্যে বিজয়পথ, হাকিকাত, ফুল অর কাটে, জিত, গোপি কিশান, ভাই, সাবসে বাড়া খিলাড়ি, ঘাতক, ঘায়েল অন্যতম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।