বছরজুড়ে আলোচিত তিন অভিনেতা

ঢাকাই সিনেমার ২০১৮ সালের দিকে তাকালে বেশ কয়েকজন অভিনেতার কথা ভাবতে হয়। সবার মাঝ হতে তিনজনকে বেছে নেয়া কঠিন। তিনজন বেছে নেয়ার সময় কয়েকটি ফ্যাক্টর বিবেচনা করতে হয়েছে। সেগুলো হল – অভিনয় দক্ষতা, শিল্পীকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ এবং সর্বশেষ সিনেমার অবস্থান। সবগুলো বিষয়গুলোর আলোকে আলোচিত তিনজন অভিনেতা হলেন – চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ ও ইরেশ যাকের।

  • চঞ্চল চৌধুরী

দুই বছর আগে, ২০১৬ সালে মুক্তি পায় ‘আয়নাবাজি’। এ ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী। তাঁর এ ছবিটি দিয়েই বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন একশ্রেণীর দর্শকের দেখা পাওয়া যায়। তো, আলোচিত চঞ্চলের নতুন ছবি ‘দেবী’র জন্য দর্শকের তুমুল আগ্রহ থাকবে তা স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে ‘মিসির আলি’ চরিত্রে ধরা দিলেন চঞ্চল।

জনন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসানের প্রথম প্রযোজনায় চঞ্চলের চরিত্রটি নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ছিলেন। কারণ, বইয়ের পাতায় পড়া ‘মিসির আলি’ চরিত্রের সাথে চঞ্চলকে ঠিক মানায় না। ছবিটি যখন মুক্তি পেল তখন দর্শক বুঝতে পারলেন অভিনেতারা অনেকসময় চরিত্রের নতুন সংজ্ঞা দাঁড় করাতে পারেন। বইয়ের পাতার ‘মিসির আলি’ চরিত্রটি তাঁর মতো রইলো, পর্দার ‘মিসির আলি’ চরিত্রের জন্য নতুন ‘মান’ নির্ধারন করে দিলেন চঞ্চল। তাঁর ছবিটি ব্যবসাসফল হয়ে গেল। চঞ্চলও ছোটপর্দার পর বড়পর্দায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন।

তাইতো বছরের অন্যতম আলোচিত অভিনেতার তালিকা করলে সব্যসাচী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী প্রথমদিকেই থাকবেন।

  • সিয়াম আহমেদ

এ বছরের সুপারহিট ছবির তালিকা করলে তাতে একটি ছবি থাকবে, ‘পোড়ামন ২’। ছবিটির নায়ক সিয়াম আহমেদ। তরুণ এ নায়ক ছোটপর্দার প্রিয়মুখ। নিয়মিত কাজ করেন নাটকে, বিজ্ঞাপনে। ওয়েবের জন্য নির্মিত ফিকশনেও তিনি দেখা দিয়েছেন। হঠাৎ করেই বড়পর্দায় আবির্ভূত হয়েছেন এ তরুণ। এসেই জয় করলেন দর্শকের হৃদয়।

নায়কখরার ঢালিউডের বড় প্রাপ্তি কিন্তু সিয়াম আহমেদ। তিনি এসেই বিশাল একটি সমর্থক গোষ্ঠী সৃষ্টি করতে পেরেছেন। ফেইসবুকে তাঁকে নিয়ে গড়ে ওঠা ফ্যান ক্লাব বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন পাবলিক ইভেন্টে সিয়ামকে এক নজর দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে হাজির হয়েছে অনেকেই। মেয়েদের ক্রাশে পরিণত হয়েছেন সিয়াম।

বছরের শেষদিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘দহন’ ছবি দিয়ে সিয়াম আরো একবার দর্শককে মাতিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ে কেঁদেছে দর্শক। সিয়াম ক্রেজ শুধু ফেইসবুক নয় পাবলিক প্লেসেও দেখা যায়।

বছরজুড়েই আলোচনায় থাকা সিয়াম আহমেদ তাই বছরের আলোচিত অভিনেতাদের তালিকায় নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়েন।

  • ইরেশ যাকের

আপনি যখন বছরের সেরা অভিনেতাদের তালিকা করবেন তখন ইরেশকে অগ্রাহ্য করলে তা হবে অবিচার। ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে তিনি ছিলেন খল চরিত্রে। আবার ‘দেবী’ চলচ্চিত্রেও তাই। বছরে তাঁর দুটো ছবি মুক্তি পেয়েছে, দুটোতেই তিনি খল অভিনেতা। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন কিন্তু এমন চরিত্রে অভিনয় করেই। ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে তিনি ছিলেন নেতিবাচক চরিত্রে।

তিনি এমন চরিত্রে কেন কাজ করছেন এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইরেশ বলেছিলেন,  ‘আমি ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার প্লে করতে চাই। বাংলাদেশে আসলে নায়ক বা ভিলেনের বাইরে সেভাবে বলার মতো কোন চরিত্র থাকে না। হিরো হবার বয়স বা চেহারা তো কোনটাই নেই, তাই ভিলেন হওয়া।’

শোনা যায় ‘স্বপ্নজাল’ ছবির চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য ইরেশ সাত মাস দাড়ি গোঁফ কাটেননি। তিনি চাইলেই মেকআপ করতে পারতেন। তা না করে প্রাকৃতিকভাবে চরিত্রে মিশে যেতে চেয়েছেন। ছবিতে তাঁর অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

‘দেবী’ চলচ্চিত্রের আহমেদ সাবের চরিত্রে ইরেশের উপস্থিতিতে দর্শক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। নিজের চরিত্রের প্রতি সুবিচার করেছেন ইরেশ। অনেকেই তাঁর চরিত্রের ব্যপ্তি নিয়ে আশাহত হয়েছে, এখানেই একজন অভিনেতার সফলতা।

আমাদের ঢালিউডের নেতিবাচক চরিত্রের অভিনেতাদের মাঝে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে ইরেশ যাকের হতে পারেন আস্থাভাজন। কারণ তিনি অভিনয় করতে পারেন মাপা মাপা যাতে ঢুকিয়ে দিতে পারেন চমৎকার হাস্যরস। আলোচিত অভিনেতার ছোট্ট তালিকায় তাই নায়কদের ভিড়ে ইরেশ যাকের চলে এসেছেন নিজগুণে।

তিনজনের তালিকা করা খুব কষ্টের, যোগ্য অনেকেই বাদ পড়ে যান। অভিনেতার তালিকায় ইয়াশ রোহান, ফজলুর রহমান বাবু আসতে পারতেন। আসছে বছরে সকল প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ঘুচিয়ে সিনে ইন্ডাস্ট্রিকে সফল করে তুলবেন সকলে মিলে, এ আশা করতেই পারি আমরা। অন্তত বছরজুড়ে নতুনদের দাপটে এ স্বপ্ন দেখা দোষের নয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।