পরমব্রত’র সেরা ৫

বাংলা সিনেমার প্রতিভাবান এই অভিনেতা একের পর এক সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করছেন। ফেলুদার সহকারী তোপসে নিয়ে চলচ্চিত্র যাত্রা করা এই অভিনেতা কাজ করেছেন বহু চরিত্রে। এমনকি কালক্রমে স্বয়ং ফেলুদার চরিত্রও করেছেন। তিনি বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের নাতি। নিজেও সফল নির্মাতা। তবে, তার কাজের ক্ষেত্র মূলত অভিনয়, সেখানে নিজেকে ভেঙেছেন বারবার। তাঁর এই বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পাঁচ সিনেমা নিয়ে এই আয়োজন।

  • কালবেলা (২০০৯)

বিখ্যাত ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদারের আলোচিত উপন্যাস ‘কালবেলা’ অবলম্বনে গৌতম ঘোষের ছবি ‘কালবেলা’। নকশাল আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমায় প্রধান ভূমিকায় অনিমেষ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ক্যারিয়ারে এই ছবিটি বিশেষ সংযোজন হয়ে আছে। পরম ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেন পাওলি দাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ।

  • অপুর পাঁচালী (২০১৪)

সত্যজিৎ রায় তার প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণ করেই বাজিমাৎ করেছিলেন। এই ছবির ‘অপু’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুবীর ব্যানার্জী, যাকে পরবর্তীতে বড় হয়ে আর কোনো ছবিতেই দেখা যায়নি। এই একটি মাত্র ছবিই তাকে এনে দিয়েছিল সাফল্য। সেই সুবীর ব্যানার্জীকে আমন্ত্রণ জানায় জার্মান ফিল্ম সোসাইটি। সেই আমন্ত্রণ পত্র দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইন্সটিটিউট এর এক ছাত্রের হাতে। সেই ছাত্র আবিষ্কার করেন অপুর যুবক কালের সাথে প্রায় হুবহু মিলে যায় সুবীর ব্যানার্জীর সাথে। এই গল্প নিয়ে নির্মিত হয় কৌশিক গাঙ্গুলীর প্রশংসিত ছবি ‘অপুর পাঁচালী’। যুবক সুবীর ব্যানার্জীর চরিত্রে পরমব্রতের অভিনয় সবার চোখ ভিজে এনেছিল। এছাড়াও এই ছবিতে আছেন অর্ধেন্দু চট্টোপাধ্যায়, পার্ণো মিত্র।

  • চতুষ্কোণ (২০১৪)

চার স্বনামধন্য নির্মাতার উপর ভার পড়ে চারটি ছোট গল্প নিয়ে একটি সিনেমা বানানোর। তবে শর্ত ছিল প্রত্যেক ছবির থিম হতে হবে মৃত্যু। প্রযোজকের বাংলোর পথে যেতে যেতে একে একে সবাই গল্প বলতে থাকে, সবার শেষে আসে তরুণ নির্মাতা জয়ব্রত। তাঁর বলা গল্পের সাথে মিলে যায়,পেছনের অনেক কালো অতীত, কি সেই অতীত! জনপ্রিয় নির্মাতা সৃজিত মুখ্যার্জীর থ্রিলার ছবি ‘চতুষ্কোণ’-এর গল্ল এগিয়ে যায় এইভাবেই। জয়ব্রত চরিত্রে অভিনয় করেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অপর্ণা সেন, চিরঞ্জিত, গৌতম ঘোষদের মাঝেও ঠিক অনবদ্য অভিনয়ে দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন মূল আকর্ষণ। ছবিটির জন্য সেরা পরিচালক ও চিত্রনাট্যের জাতীয় পুরস্কার পান সৃজিত মূখ্যার্জী।

  • কাদম্বরী (২০১৫)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের তারুণ্যে বেশ অংশ জুড়েই ছিলেন তাঁর বৌদি ‘কাদম্বরী’। রবি ঠাকুরের বিয়ের পর হঠাৎ করেই মারা যায় কাদম্বরী। এই গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে সুমন ঘোষ নির্মান করেন ‘কাদম্বরী’। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন কঙ্কনা সেন শর্মা। আর স্বয়ং রবি ঠাকুরের চরিত্রে অভিনয় করে চমক দেখিয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

  • হেমলক সোসাইটি (২০১২)

বাস্তব জীবনের সকল বিষন্নতা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই আত্বহত্যা করতে চায়। কিন্তু সেটার জন্য সাহস বা প্রস্তুতি প্রয়োজন। ছবির নায়িকা মেঘনা আত্বহত্যার জন্য ঘুমের ঔষধ কিনতে গেলে দেখা হয় আনন্দের সাথে, যে ‘হেমলক সোসাইটি’ নামে একটা সংগঠন চালায়, যা আত্বহত্যার সাহস যোগায়। আসলেই কি তাই! এমনই গল্প নিয়ে সৃজিত মূখ্যার্জীর ছবি ‘হেমলকক সোসাইটি’। ছবিতে আনন্দ চরিত্রে বেশ প্রানবন্ত অভিনয় করেন পরমব্রত। এছাড়া ও ছিলেন কোয়েল মল্লিক, দীপঙ্কর দে। সিনেমার গান গুলো বেশ শ্রুতিমধুর।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।