বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ ম্যাচ

বিশ্বকাপ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, বাড়তি আমেজ। আর এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে যেন সব কিছুই ছিল বেশি বেশি। কাগজে কলমে দলগুলোর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকার পরও অনেক ম্যাচেই দেখা মিলেছে টানটান উত্তেজনার। নখ কামড়ে কামড়েই গোটা ম্যাচ দেখতে বাধ্য হয়েছেন সমর্থকরা। তেমনই অনন্য কিছু ম্যাচ দিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

  • স্পেন ৩: পর্তুগাল ৩

গ্রুপ ‘বি’, ১৫ জুন, সোচি

ম্যাচের মাত্র দু’দিন আগে ছাটাই করা হয় স্প্যানিশ কোচ জুলেন লোপেতেগুইকে। যদিও, তার প্রভাব মোটেও দেখা মেলেনি। বরং গোটা ম্যাচ জুড়েই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও দিয়েগো একে অপরকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত ছিলেন। রোনালদোর জোড়া গোলে দু’বার করে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন রোনালদো। এরপর লা রোজাদের হয়ে ভলিতে দর্শনীয় এক গোল করেন। একটা পর্যায়ে ২-৩ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন। কিন্তু, সব কিছুতে পানি ঠেলে দেয় ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে রোনালদোর নান্দনিক এক ফ্রি-কিক।

  • জার্মানি ২: সুইডেন ১

গ্রুপ ‘এফ’, ২৩ জুন, সোচি

টিকে থাকতে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না জার্মানদের। কিন্তু এ কি প্রথমার্থেই ওলা টইভোনেনের লবে বোকা বনে যান ম্যানুয়েল নয়্যার। এরপর জার্মানদের সমতায় ফেরান মার্কো রিউস, ম্যাচে ফেরে জার্মানরা। ম্যাচের ৮২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ডাই ম্যানশ্যাফটের রক্ষণভাগের জেরোমে বোয়াটেং। এরপরও যে জার্মানরা ম্যাচটা জিতবে কে ভেবেছিল। জয় নিশ্চিত হয় টনি ক্রুসের বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা এক ফ্রি-কিকে।

  • ফ্রান্স ৪: আর্জেন্টিনা ৩

শেষ ১৬, ৩০ জুন, কাজান

লিওনেল মেসির হাত থেকে ফুটবল গ্রেটনেসের মশাল চলে গেল কিলিয়ান এমবাপের হাতে। সম্ভবত এর চেয়ে ভালভাবে ম্যাচটাকে বর্ণনা করা যায়। আর্জেন্টিনা কেবল লিওনেল মেসির ওপর ভর করে ছিল। তবে, সেটাই তাঁদের জন্য কাল হয়েছে। এনগোলো কান্তের কড়া ম্যান মার্কিং মেসিকে কার্যকারিতা নষ্ট করেছে। গোলবহুল ম্যাচে দর্শণীয় গোলের দিক থেকে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে ছাড়িয়ে যান ফ্রান্সের বেঞ্জামিন পাভার্ড। অন্যদিকে শেষদিকে জোড়া গোল আর পাওয়ার ফুটবলের প্রদর্শণী দেখিয়ে ম্যাচটা আর্জেন্টিনার হাত থেকে কেড়ে নেন এমবাপে। আরেকটি বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতে ফেরেন আর্জেন্টিনা।

  • বেলজিয়াম ৩: জাপান ২

শেষ ১৬, ২ ‍জুলাই, রোস্তভ-ওন-ডন

এক তরফা ম্যাচেরই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু, সবাইকে চমকে দিয়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান। আক্রমণের পর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচে ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে থাকে বেলজিয়াম। মাত্র মিনিট দুয়েকের মধ্যে জোড়া গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরান ভার্টঙ্গেন ও মারওয়ান ফেলাইনি। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজেদের তৃতীয় গোলটা করেন নাসের চ্যাডলি। নি:সন্দেহে ম্যাচটা চলতি বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচের স্বীকৃতি পাবে।

  • রাশিয়া ২: ক্রোয়েশিয়া ২ (টাইব্রেকারে ৪-৩)

কোয়ার্টার ফাইনাল, ২৭ জুলাই, সোচি

বিশ্বকাপের আবিষ্কার ডেনিশ চেরিশভের প্রথম গোলে যেন কেঁপে উঠেছিল গোটা রাশিয়া। এরপর আন্দ্রেজ ক্রামারিচ ক্রোয়াটদের সমতাফ ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ালে ডোমোগজ ভিদার হেডে এগিয়ে যায়। সেখানেই শেষ নয়। মারিও ফার্নান্দেজ আবারো সমতায় ফেরান রুশদের। তখন মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। এবার পেনাল্টি মিস করেন সেই ফার্নান্দেজই। ম্যাচটাই তাই মিশ্র অনুভূতিরই ছিল তাঁর জন্য। ক্রোয়েশিয়া জিতে চলে যায় সেমিফাইনালে। আবারো নায়ক বনে যান ক্রোয়াট গোলরক্ষক ড্যানিজেল সুবাসিচ।

– টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।