বেঙ্গলি বিউটি এবং একটি ‘স্টান্টবাজি’

একটি বাস্তব-গল্প দিয়ে শুরু করি। শোনা কথা। একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের ক্লাসে অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদ ছাত্রদের একটি প্রশ্ন করলেন। তিনি মাঝেমধ্যেই প্রসঙ্গক্রমে-প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে নানা ধরনের কথা বলতেন। তো সেদিন যে প্রশ্ন করেছিলেন তা এরকম – তিনি ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, বলতো মানুষ যখন খুব উত্তেজিত হয়ে যায় তখন তার শরীরের কোন বিশেষ অঙ্গটি দশগুন বড় হয়ে যায়?

প্রশ্নটি শুনে ছাত্ররা কেউ কাচুমাচু করতে থাকলো। ছাত্রীরা মাথা নীচু করে ফেলল। কেউই প্রশ্নটির উত্তর দিতে না পারায় হুমায়ূন আজাদ নিজেই উত্তর দিলেন। বললেন, মানুষ যখন খুব উত্তেজিত হয়ে যায় কিংবা মানুষের যখন কোনো বিষয়ে খুব অবাক-বিস্ময় জাগে তখন তার চোখের রেটিনা দশগুন বড় হয়ে যায়।

তো আমারও এই বিদেশ বিভূঁইয়ে ‘বেঙ্গলি বিউটি’র কথা শুনে চোখ স্থির হয়ে গেল। চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। মানে চোখের রেটিনা দশগুন বড় হয়ে গেল। না ঠিক বললাম না হয়তো। আসলে ‘বেঙ্গলি বিউটি’ নামে একটি বাংলা ছবি সংক্রান্ত সংবাদে আমার চোখের এই ছানাবড়া অবস্থা।

বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কম-এ এক অক্টোবর প্রকাশ হওয়া সংবাদের শিরোনাম ‘যুক্তরাষ্ট্রে আয় ৫ কোটি, দেশে মুক্তি ৫ অক্টোবর’। সংবাদে বলা হয়েছে, ‘আগামী ৫ অক্টোবর সারাদেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে রাহশান নূর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বেঙ্গলি বিউটি’। দেশে বড় পরিসরে মুক্তির আগেই বিদেশ ঘুরে চলচ্চিত্রটি আয় করে এসেছে ৫ কোটি টাকারও বেশি। রোববার চলচ্চিত্রটির মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানালেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা।’

খবরে আরও প্রকাশ, ‘গত ২০ জুলাই বাংলাদেশের একটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিলো চলচ্চিত্র ‘বেঙ্গলি বিউটি’। দেশে কদর না পেলেও চলতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি শহরে মুক্তি পায় চলচ্চিত্রটি। শিগগিরই চীনেও প্রথম বাংলাদেশি ছবি হিসেবে এটি মুক্তি পাবে।’

‘বেঙ্গলি বিউটি’ ছবিটির সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানাই। নি:সন্দেহে বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এটি খুবই আশাব্যাঞ্জক খবর। সকলের আনন্দিত হওয়ার মতো একটি খবর। আমিও আনন্দিত হলাম। আর আনন্দের আতিশয্যে আমার বিশেষ অঙ্গটি দশগুন বড় হয়ে গেল।

পাঠককে বিষয়টি আরেকটু খুলে বলি।

বাংলা চলচ্চিত্র আমার আগ্রহের জায়গা। আমি অল্প-বিস্তর এ নিয়ে খোঁজ-খবর রাখার চেষ্টা করি। সম্প্রতি নিউইয়র্কে বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিলাম। এতে চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ার, নারগিস আক্তার ছাড়াও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, থিয়েটার ও টিভি নাটকের জনা চল্লিশেক অভিনয়শিল্পী এবং কলাকুশলী উপস্থিত ছিলেন।

এবার আসল কথায় আসি। বাংলাদেশে একটি বাণিজ্যিক ছবির নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক দুই কোটি টাকা। কেউ কেউ ৫০ লাখ টাকায়ও ছবি নির্মাণ করেন। আবার কোনো কোনো ছবি নির্মাণে ৫-১০ কোটি টাকা ব্যয় হয় বলেও শোনা যায়। তবে বাংলাদেশে এত ব্যয়বহুল ছবি নির্মাণ খুব কমই হয়। ‘বেঙ্গলি বিউটি’ ছবিটির যে অফিশিয়াল ট্রেইলর দেখলাম তাতে এ ছবিটি যে খুব ব্যয়বহুল তা মনে হয়নি। একটি ছবির ব্যয় নির্ভর করে এর কাস্টিং, লোকেশন ও প্রযুক্তিগত দিকের ওপর।

বাংলা চলচ্চিত্রের ‘ক্ষণজন্মা’ নায়ক কাম প্রযোজক অনন্ত জলিলের ছবি ব্যয়বহুল হতো তার ছবিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে। আর এক নম্বর নায়ক শাকিব খানের ছবির নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ তার পারিশ্রমিক। তিনি একটি ছবিতে ৪০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নেন। সম্প্রতি তার পারিশ্রমিক বেড়ে ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খবরে প্রকাশ, এক লাফে শাকিবের পারিশ্রমিক ২০ লাখ টাকা বৃদ্ধির কথা শুনে ভারতের টালিউডের মস্ত বড় বিনিয়োগকারী যিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও বিনিয়োগ করছেন ; প্রযোজক অশোক ধানুকা নিজেই এক লাফ দিয়ে ওপাড়ে (কলকাতায়) চলে গেলেন।

যাক, বলছিলাম বাংলা ছবি ‘বেঙ্গলি বিউটি’ প্রসঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র তথা উত্তর আমেরিকায় বাংলা ছবি মুক্তি পেলে চলচ্চিত্রের একজন আগ্রহী হিসেবে কিংবা সংবাদকর্মী হিসেবে খবরটি কান পর্যন্ত পৌছায় বটে। কিন্তু বেঙ্গলি বিউটি ছবিটি আমেরিকার ২০টি শহরে মুক্তি পেল কিন্তু এর কোনো খবরই পেলাম না, এই অজ্ঞতার কারণে নিজেই নিজেকে ভৎর্সনা করলাম। তাও কি-না ছবিটি ৫ কোটি টাকা আয় করেছে, এই আমেরিকা থেকেই!! মানুষতো আর সবজান্তা নয়। আমিও কোনো কিছু নাও জানতে পারি। কোনো বিষয় আমার চোখ এড়িয়েও যেতে পারে। এই বিশ্বাস নিয়ে তাই আমি নর্থ আমেরিকায় বাংলা চলচ্চিত্রের কিছু শীর্ষ ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করি। তারা কেউ একদা চলচ্চিত্র পরিচালক, নায়ক, অভিনয়িশল্পী, কলাকুশলী। কেউ বর্তমানে চলচ্চিত্রের সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব, নর্থ আমেরিকায় বাংলা ছবির ডিস্ট্রিবিউটর, সাংবাদিক।

নিউইয়র্কে বসবাস করেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার কবীর আনোয়ার। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বছর ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘স্লোগান’। এরপর একে একে অনেক দর্শকপ্রিয় ছবি তিনি নির্মাণ করেছেন সুপ্রভাত, তোলপাড়, দিনকাল, বোয়াদব, বেপরোয়া। যুক্তরাষ্ট্রেও একটি ভিডিও চিত্র নির্মাণ করেছেন ‘ঝড় বৃষ্টির নীড়’। বেঙ্গলি বিউটি ছবিটি সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম।

গণমাধ্যমে ছবিটি সম্পর্কে যতটুকু খবর বেরিয়েছে এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না বলে আমাকে জানালেন। ২০টি শহরে মুক্তি ও ৫ কোটি টাকা আয়ের বিষয়েও বিস্ময় প্রকাশ করলেন। দর্শকনন্দিত অভিনয়শিল্পী টনি ডায়েস যুক্তরাষ্ট্রে বিনোদন জগতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনিও ছবিটির নাম শোনেননি। যোগাযোগ করলাম নিউইয়র্ক ফিল্ম সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ওবায়দুল্লা মামুনের সাথে। তিনিও ছবিটির কথা শোনেননি। নিউইয়র্কে বসবাস করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত মেকআপ আর্টিস্ট ম.ম জসীম।

তিনি কি ছবিটি দেখেছেন? বললেন, ‘ছবি দেখবো কি, নামই তো শুনিনি।’ সম্প্রতি নিউইয়র্কে স্থায়ী হয়েছেন অভিনেতা, উপস্থাপক ও নির্মাতা শামীম শাহেদ। তার কাছেও এই ছবিটির প্রদর্শনী সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলাম না।

এবার ভাবলাম, একটু নিউইয়র্কের বাইরের স্টেটে যাই। যেখানে বাংলা চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই আছেন। চলচ্চিত্রকার মাজেদ রনজু থাকেন সাউথ ক্যারোলাইনা। চাষী নজরুল ইসলামের ‘ওরা এগার জন’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। এরপর নির্মাণ করেছেন– ঠিকানা, বাহার, দস্যু বাহারাম, নাগরাজ প্রভৃতি। তিনিও ছবিটি সম্পর্কে কিছু জানেন না। ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে থাকেন বায়েস্কোপ ফিল্মসের কর্নধার রাজ হামীদ। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিনি বাংলা ছবি ফেরী করে বেড়ান।

এই মাত্র সেদিন ৩০ সেপ্টেম্বর শৈবাল ব্যানার্জি ও লীনা গাঙ্গুলী পরিচালিত কলকাতার ছবি “মাটি” প্রদর্শনের ব্যবস্থা করলেন। ১৪ অক্টোবর প্রদর্শিত হবে রহমান রাফি পরিচালিত জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি পোড়ামন-২। রাজ হামীদ বললেন, ‘বেঙ্গলি বিউটি ছবিটি নিয়ে সংবাদটি আমার চোখে পড়েছে। খবরটি পড়ে আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন একটা সময় আসবে যখন বাংলা ছবি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫ কোটি টাকা আয় করবে। কিন্তু সেদিন কেউ বিশ্বাস করবে না। মার্কেটিং গিমিক-এরও একটা লিমিট থাকা উচিত।’ ‘আমরা যারা অনেক কষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করছি আমাদেরকে তো বাংলাদেশে ছবি প্রযোজকরা বিশ্বাস করতে চাইবেন না। ভাববেন, আমরা তাদের ঠকাই। এটা দু:খজনক।’ যোগ করেন তিনি।

তবে তিনি জানান, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সানফান্সিসকোতে বেঙ্গল বিউটি’র দুটি প্রদর্শনীর কথা তিনি শুনেছেন। তবে তিনি নিজে ছবিটি কোথাও দেখেননি। কথা বললাম, লস অ্যাঞ্জেলেস লিটল বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি মামুন লস্করের সাথে। তিনি জানান, এ বছর লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে বেশ কয়েকটি বাংলা ছবি প্রদর্শিত হয়েছে কিন্তু ‘বেঙ্গলি বিউটি’ ছবির কথা শোনেননি। এ বিষয়ে জানতে ফোন করেছিলাম শিকাগো বায়েস্কোপের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর এবং আইবিএম এর টেকনোলজি স্পেশালিস্ট ফরহাদ হোসেনকে। তিনি বললেন, শিকাগোতে বেঙ্গলি বিউটি’র একটি শো হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন কিন্তু নিজে ছবিটি দেখেননি।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কানাডার একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সাথে কথা বললাম। তিনি টরন্টোভিত্তিক বাংলা চ্যানেল এনআরবি টিভির কর্নধার সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম মিন্টু। জনাব মিন্টু নর্থ আমেরিকায় মূলধারার বিভিন্ন থিয়েটার হলে বাংলা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর সাথে জড়িত সবচেয়ে বড় কোম্পানীটির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের সফল প্রদর্শনী করেছেন তিনি। ‘আয়নাবাজি’ এরমধ্যে অন্যতম। এ ছবিটি শুধুমাত্র কানাডায় টানা চার সপ্তাহ চলেছে। তার কাছেও আমেরিকায় কোথাও ‘বেঙ্গলি বিউটি’র প্রদর্শনীর কোনো তথ্য নেই।

এই যখন অবস্থা তখন বেঙ্গলি বিউটি’র নির্মাতা ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি শহরে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এবং সেখান থেকে তারা ৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছেন। যা আমি আগেই উল্লেখ করেছি। অহেতুক এই তথ্যটি দিয়ে ছবির সাথে সংশ্লিষ্টরা কি অর্জন করলেন? এতে কার কি লাভ হলো? এই স্টান্টবাজির অর্থ কি? এতে করে চলচ্চিত্রের প্রকৃত উন্নয়ন কি সম্ভব? গল্প, নির্মাণশৈলী যদি ভাল না হয় তাহলে শুধু গিমিক করে ছবি হিট করা যায় কি?

যদি ছবিতে বিনিয়োগ করতেই হয় তাহলে জেনে বুঝেই বিনিয়োগ করা উচিত। নিউইয়র্ক, লন্ডন বা বিদেশের অন্য কোনো শহরের প্রেক্ষাপটে বলিউডের অনেক ছবি হয়েছে। সেসব ছবি ব্যবসা সফলও হয়েছে। কলকাতার ছবিও এখন ইউরোপ আমেরিকায় হচ্ছে। তাহলে নিউইয়র্কের মাটিতে ঢাকাই ছবির চিত্রায়ণও অসম্ভব নয়। নি:সন্দেহে এটি আমাদের চলচ্চিত্রে ভিন্ন মাত্রা, বাড়তি মাত্রা যোগ করবে। যা বাণিজ্যিকভাবে ইতিবাচক হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা ছবির দর্শক হাতে গোনা। এখানে কোনো শহরে থিয়েটার হলে বাংলাদেশ ও কলকাতার বাংলা ছবি নিয়মিত চলে না। যা গুটিকয়েক হচ্ছে তাও বছরে একটি দুটি শো। তাও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, কলকাতার নয়। কিন্তু বিপরীত চিত্রও আছে। সম্প্রতি ‘আয়নাবাজি’ কিংবা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ছবি দুটি ভাল ব্যবসা করেছে। যতদূর জেনেছি, আয়নাবাজি ছবিটি নর্থ আমেরিকার বাজার থেকে ৩০/৩২ হাজার ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২৫/২৬ লাখ টাকা। এও কম কি!

আমি বিশ্বাস করি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে বাংলা ছবি নির্মাণ হতে পারে এবং এখানে বাঙালি দর্শকদের থিয়েটার হলমুখী করা সম্ভব। ধীরে ধীরে তা হচ্ছেও। আগামীতে আরও বেশি বাংলা ছবির প্রদর্শনী হবে এবং হলে দর্শক বাড়বে। এজন্য প্রয়োজন স্টান্টবাজি নয় – সততা, ন্যায়নিষ্ঠা সর্বোপরি সঠিক পরিকল্পনা।

বাংলা ছবির জয় হোক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।