মেয়েরাই নিজেদের সহজলভ্য করে দিত উত্তম কুমারের কাছে

| শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

কোল ইন্ডিয়ার ম্যানেজার স্বামী বউকে বলেছিলেন, ‘সিনেমায় নামলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও, নিজের পথ দেখো!’

গানের বাড়ির মেয়ে। মায়ের গানের বান্ধবীরা ছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, ইলা বসু, বাঁশরী লাহিড়ীরা। তাই গান ছিল মেয়ের রক্তে। গান নিয়েই এগিয়ে ছিলেন কিন্তু ভাগ্যবদলে সুন্দর চোখের জোরে চলে এলেন রূপালি জগতে। তাও সে আসা সোজা ছিল না রক্ষণশীল শ্বশুরবাড়ির বৌ, আর দুই সন্তানের মা হয়ে।

গানের মেয়ে বলে ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে আলাপ ছিল। ভূপেনদার সঙ্গেই শকুন্তলা গিয়েছিলেন একদিন মজার ছলে, স্টুডিওতে ফিল্মের গানের পিকচারাইজেশান দেখতে। সেখানেই অনেকজন পরিচালক তাঁকে ফিল্মে নায়িকা হবার সটান অফার দিলেন।

তাঁদের মধ্যে একজন পরিচালক শচীন অধিকারী অফার দিলেন। সুন্দর চোখ দেখে তাঁর ছবিতে অন্ধ নায়িকার কঠিন রোলের জন্য ভাবলেন। কিন্তু বাড়ি এসে বলতেই স্বামী বললেন, ‘অসম্ভব।’ পরে শচীন অধিকারী জানালেন, ওই ছবি করছেন সুখেন দাস। সুখেন আর শচীন দু’জনে শকুন্তলার স্বামীকে বোঝালেন। তিনি বললেন, এই প্রথম এই শেষ – একবারই ছবি করবেন আমার স্ত্রী!’

শত্রু ছবিতে।

রোজ শ্যুটে যেতেন শকুন্তলা, ওয়ার্কশপে। কোনো দিন শুনতেন রঞ্জিত মল্লিক নায়ক কোনদিন শুনতেন সন্তু মুখার্জ্জী। কর্তা কিছুই শুনতেন না এসব। একদিন শকুন্তলা এসে বললেন ছবির নাম ঠিক হল ‘সুনয়নী’ আর নায়ক উত্তম কুমার।

কর্তা বললেন, ‘কিছুতেই করবে না ও ছবি, যাতে উত্তম কুমার নায়ক। যাবে না আর।’

উত্তমের নায়িকা

তখন সমাজে সব স্বামীরাই উত্তম কুমার ক্যারিশমাকে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতেন, এও ভাবতেন উত্তমসঙ্গ পেলে স্ত্রী আর ঘরে ফিরবে না। ভয় কাজ করত সব স্বামীর মধ্যেই। উত্তমকে নিয়ে মহিলাকেন্দ্রিক গুজব। কিন্তু শেষ অবধি শকুন্তলা করলেন সে ছবি স্বামীকে রাজি করিয়ে এবং সুপারহিট হল ছবি।

পরের ছবিও সুখেন দাসের ‘রাজনন্দিনী’। কর্তা আর ‘না’ করেননি চুপ ছিলেন। যাতে নায়িকা শকুন্তলা বড়ুয়া আর নায়ক উত্তম কুমার। এই ছবিতে শকুন্তলা উত্তম কুমারের বুকে মাথা রাখলেন। ইতিহাস তৈরী হল শকুন্তলার জীবনে। কিন্তু তিনি দেখেছেন মেয়েরাই নিজেদের সহজলভ্য করে দিত উত্তম কুমারের কাছে। যা উনি ভাবতেও পারতেন না। স্নেহই পেয়েছেন দাদা উত্তম কুমারের থেকে।

আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শকুন্তলাকে। প্রতিশোধ, একান্ত আপন, পরমা, সতী, আক্রোশ, আপন আমার আপন পরপর করে গেছেন নায়িকা থেকে দিদি বৌদি মা সবেতেই তিনি অন্যনা।

কিন্তু, যিনি ভাবেননি কোনদিন নায়িকা হওয়া দূর ফিল্মে আসবেন, যার পরিবারে এসব চল ছিলোইনা তিনি হলেন টলিউডের শকুন্তলা বড়ুয়া এবং উত্তম নায়িকা।

 

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।