ক্লাসি উইম্যান কিংবা বস্তির মা

| শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে |

রুমা গুহঠাকুরতা সেই অভিনেত্রী যিনি ক্লাসি উইম্যান থেকে বস্তির মা সব চরিত্রেই ছাপ রেখেছেন। হ্যাঁ, বস্তি শব্দটাই বললাম। উনি ওই রোল গুলো করতে ছুৎমার্গ রাখেননি। সত্যজিৎ রায়ের কিংবা তপন সিনহার ছবি করেও বীরেশ, প্রভাত, অঞ্জন কি প্রতিবিম্বর মতো সিরিয়াল করেও পিসি ঠাম্মার রোলে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

দর্শক তো ওই ক’টা জানা আর্ট ফিল্ম নিয়েই এখন চর্চা করবে। কী দুর্দান্ত সব কমেডি ছবি!

কোনো একজন খ্যাতনামা অভিনেতা অভিনেত্রীর প্রয়াণ হলে তাঁর অভিনীত কয়েকটা বহুল প্রচারিত ছবির বাইরে আলোচনা নেই। যেমন সুপ্রিয়া দেবীর প্রয়াণে প্রচারিত হল ‘মেঘে ঢাকা তারা’ করে তাঁর আর ছবি না করলেও হত।

নির্জন সৈকতে’র ছোটো বৌদির রোল করে ছায়া ভারতী রেণুকা-সহ রুমা জাতীয় পুরস্কার পান। কিন্তু, আশির দশকটা পুরো উনি হার্ডকোর কমার্শিয়াল ছবি করে গেছেন। প্রতিটা ছবি সুপারহিট।

‘ত্রয়ী’ সিনেমায় অনিল চ্যাটার্জ্জীর স্ত্রী কিন্তু হবু বেয়াই প্রদীপ কুমার ছিল রুমার সাবেক প্রেমিক। দেবশ্রী রায়ের লিপে ‘কথা হয়েছিল’ পার্টি গানে প্রদীপ কুমারকে দেখে মাথা ঘুরে পরে যাবার দৃশ্য কলকাতা দূরদর্শন বিকেলের ছায়াছবির গানগুলোতে আলো করত।

কিংবা ‘খেলব হোলি রং দেবনা’-তে অপর্ণা সেন রুমার পায়ে আবীর ছুঁইয়ে ‘লালে লালে আবীর লালে আকাশ হল লাল, ও বৃন্দাবনে হোলি খেলে নন্দেরই দুলাল’। অমর সঙ্গী’তে বিজয়েতা পন্ডিতের মা কিংবা আক্রোশ-এ স্নেহময়ী মা।

অঞ্জন চৌধুরীর ‘চৌধুরী পরিবার’ ছবিতে বেয়ান মীনাক্ষী গোস্বামী তেলাপিয়া মাছ খেতে পারবেনা সেই ভয়ে রুমা ছেলে রঞ্জিত মল্লিককে ভালো পোনা মাছ আনতে বলেন। ‘বিধিলিপি’-তে রুমার হেঁসেলের সবজির ঝুড়ি থেকে ধনেপাতা হাপিস। কে নিল? ছোটো মেয়ে মৌসুমী চ্যাটার্জ্জী মেজ বৌমা রাজেশ্বরী রায়চৌধুরীর জন্য মুসুর ডাল বাটা আর ধনেপাতার ফেস প্যাক বানাতে নিয়ে গেছে তা এখন ছোটো বৌমাও কপি করবে ফর্সা হতে।

তরুন মজুমদারের ‘দাদার কীর্তি’র রুমা কী ক্লাসি স্নেহময়ী। তেমনি আবার উল্টো ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’’এ যে মা মেয়েকে বাঁচাতে মেয়ের প্রেমিককে নিজের সব গহনা দিয়ে চলে যেতে বলে।

এইসব ছবি গুলো যা ব্যবসা দিত সিঙ্গেল স্ক্রীন কী রোববারের চারটের বিকেল গুলো হাউসফুল করতো। সেই নস্ট্যালজিয়া, ওই অল্পতে খুশি হওয়াটা হাজারটা দামী পপকর্ন কী এসি তে আসবেনা। ছোটো ছোটো আনন্দ গুলো আজ আর নেই। বিলাসিতা অহংকার স্ট্যাটাসে শেষ। এখন তো ছবি দেখতে হলে যাওয়া নয় স্ট্যাটাস দেখাতে যাওয়া।

অ্যান্টনি কবিয়ালের যোগেশ্বরী হয়েও যিনি অমর থাকবেন ক্যামিও রোলে গানে নাচে। এমনকি একসময় গীতা দত্ত রুমা গুহঠাকুরতার সহশিল্পী হিসেবে গেয়েছেন। ‘চিনিতে পারিনি বধু’ গানে দু’বার ‘দেরি হল যে’ বলায় রুমা গুহঠাকুরতার আকুতি দর্শক আজও ভুলতে পারবেনা।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।